top of page

Search Results

91 results found with an empty search

  • আমার লাল সাইকেল - প্রিবুকিং | Manikarnika.Pub

    আমার লাল সাইকেল । অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী (গল্প) ক্লাস টুর ছাত্র, গলুর চোখ দিয়ে লেখা হয়েছে এই চারটি গল্প। সে নিজেকে কীভাবে দেখে, নিজেকে কী ভাবে, চারপাশ নিয়ে, পরিবেশ নিয়ে, তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার ভাবনাচিন্তা এখানে সে ব্যক্ত করেছে। বাচ্চা আসলে কার দলে, বাবা না মায়ের সেই নিয়েও নানান মজার উপস্থাপনা আছে। সে গাছ, পাখি, ফুল ভালবাসে। কিন্তু বর্তমান ক্রমবর্ধমান নগরায়নে সে কিভাবে তার মনের বিকাশ বাধাহত হচ্ছে, সে আহত হচ্ছে, একথাই বলা আছে গল্পে গল্পে। আর আছে বাচ্চাটির বাবার চরিত্র। এ নতুন নতুন নামে তার শিশুটিকে ডাকে, তাকে গাছপালা, প্রকৃতি চেনায়। তার বাবা-ই তার প্রকৃত বন্ধু। গলু আসলে কার দলে? তার বাবার দলে না মায়ের দলে? নাকি সে এই দলাদলিতে অভ্যস্ত? নাকি সে ক্ষণে-ক্ষণে দল পাল্টায়? জানতে গেলে পড়তেই হবে গলুর এই আত্মজীবনীখানা- আমার লাল সাইকেল। Prebook Now আমি একটা পাহাড় কিনব ________________________ ঠিক হল, একদিন আমি আর বাবা মিলে শিশির পড়া দেখতে যাব। কিন্তু মাকে বলা যাবে না। কারণ তাহলে মা যেতে দেবে না। কিন্তু মা ঠিক জেনে গেল। কী করে যে মা জেনে যায়, বাবা, আমি চুপিচুপি কোথায় যাচ্ছি— বুঝি না। মা অমনি বাধা দেয়। বলে, ‘এই ভর-সন্ধেতে ওকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ?’ বাবা কেবল বলল, ‘এই একটু বাইরে যাব।’ মা বলল, ‘এখন শিশির পড়ছে। ওর ঠান্ডা লেগে যাবে। নিয়ে যাচ্ছ কেন? কী দরকার?’ বাবা আর কিছু বলল না। আমার হাত ধরে বেরিয়ে এল। রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকল। আমাদের পাড়ার রাস্তা। শুনতে পাই, পিছনে মা গজগজ করছে, ‘কথা শুনল না, ছেলেটাকে নিয়ে গেল। কুয়াশা লেগে শরীর খারাপ হলে— তখন? সেই আমাকেই তো রাত জেগে মাথার গোড়ায় বসে থাকতে হবে।’ রাস্তা দিয়ে খানিক হেঁটে বাবা নেমে এল। এখানে অন্ধকার। এখানে আছে মাঠ। মাঠে আছে ঘাস। ঘাসের রং সবুজ। ঘাসের ভেতর নামল বাবা। বলল, ‘আয়।’ আমি বাবার পাশে গিয়ে চুপটি করে দাঁড়ালাম। একটু যে ভয় করছে না, তা নয়। এমনিতেই রাতের বেলায় কখনও আসিনি কিনা! তবে বাবা আছে তো, ঠিক সামলে নেবে। বাবা আমাকে মাঝে মাঝে বলে, ‘অন্ধকারকে চিনতে হয়।’ এবারে বাবা বলল, ‘এবার বোস। উবু হয়ে বোস। আমার মতন করে দ্যাখ—’ বলে বাবা নিজেই উবু হয়ে বসল। আমিও বসলাম দেখাদেখি। বললাম, ‘হয়েছে?’ বাবা বলে, ‘হ্যাঁ।’ আমি বলি, ‘এমনি করে আমি বসি, ইস্কুলে যখন পিটি হয়।’ বাবা বলে, ‘এবার নে, ঘাসের গায়ে হাত দে।’ আমি হাত দিই। কী নরম ঘাস! কী সুন্দর ঠান্ডা-ঠান্ডা! বেশ লাগে। বাবার সঙ্গে বেরুলে কত কিছু জানা যায়। বাবা বলে, ‘ঘাসের গায়ে হাত দিচ্ছিস?’ আমি বলি, ‘দিচ্ছি বাবা।’ ‘কী বুঝছিস?’ ‘কী বুঝব?’ ‘ঘাস ভিজে না?’ ‘ভিজে তো!’ ‘হাত ভিজে যায়?’ ‘যায় তো!’ ‘জেনে রাখ, এই হল শিশির।’ ‘শিশির… শিশির— আহা! তুমি কাঁদছ বাবা?’ ‘না রে। কাঁদব কেন?’ ‘আমার মনে হল, তুমি কাঁদছ!’ ‘দূর পাগল!’ ‘তুমি ডাব খাবে বাবা।’ ‘খাব।’ ‘তুমি টোটো চেপে যাওয়া আসা করবে বাবা।’ ‘করব।’ ‘আমি তোমায় পয়সা দোব।’ ‘তুই পাবি কোত্থেকে?’ ‘বারে! বড় হয়ে জেঠুর মতো আমিও বড়ো চাকরি করব। লন্ডন যাব। সেখানে গিয়ে একটা পাহাড় কিনব। তাতে মেপল গাছ পুঁতব একখানা। সেই গাছে খুঁটোবাঁধা হাঁস এসে বসবে। তোমাকে আর মাকে সেখানে নিয়ে যাব।’ অমনি বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে। কপালে চুমু খায়। আমি বাবার বুকে মাথা রেখে চোখ বুজে আদর খাই। Prebook Now

  • Prebk : Ek Puchke Kalo Macher Golpo | Manikarnika.Pub

    এক পুঁচকে কালো মাছের গল্প মূল গল্প : সামাদ বেহরাঙ্গী অনুবাদ : সৈকত ভট্টাচার্য বুক করুন ২০% ছাড়! Book Now ‘এক পুঁচকে কালো মাছের গল্প’ – বইটি সামাদ বেহরাঙ্গির ‘দ্য লিটিল ব্ল্যাক ফিশ’-এর অনুবাদ। এই অনুবাদটি করেছেন লেখক সৈকত ভট্টাচার্য্য। মূল বইটি একটি রাজনৈতিক রূপক। বইটি দীর্ঘদিন ইরানে নিষিদ্ধ ছিল। একটি বৃদ্ধ মাছ, তার সমস্ত সন্তান, নাতি-নাতনিদের গল্প শোনাচ্ছে। স্থানীয় স্রোতের নিরাপত্তা ছেড়ে কিভাবে একটি কালো মাছ নিজের উদ্যমে বিশ্বের বিরাট স্রোতের মধ্যে এসে পৌঁছয়, তার গল্প। একটি জলপ্রপাতের নিচ থেকে নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর সমুদ্রের দিকে যাত্রা করে কালো মাছ। সেই পথে দেখা হয় টিকটিকি এবং ভয়ংকর পেলিকানসহ বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় চরিত্রের সঙ্গে। প্রখর বুদ্ধি এবং সাহস থাকলে যে অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করা যায়, সেই গল্পই শুনিয়েছেন বৃদ্ধ মাছ। কালো মাছটি নিজেই সমস্ত মাছেদের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল। মুদ্রিত মূল্য : ₹ ২০০ ডিসকাউন্ট মূল্য : ₹ ১৬০ শিপিং : ₹ ৫৯ প্রচ্ছদ : শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মণিকর্ণিকা প্রকাশনী Call & WhatsApp : 8240333741 Book Now ❛ বিশাল সমুদ্রের একদম তলায় ছিল এক খুনখুনে বুড়ি মাছ। বারো হাজার ছানাপোনা, নাতি-নাতনিদের নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। শীতের বেজায় লম্বা রাতগুলোতে যখন অন্ধকারের কালো চাদর ঢেকে রাখত চারদিক, বুড়িকে ঘিরে সবাই মিলে বসত গল্প শুনতে। এমন এক রাতে বুড়ি গল্প বলছিল: অনেক অনেক দিন আগের কথা। একটা ছিল মস্ত বড়ো পাহাড়। আর সেই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ছিল একটা ছোট্ট পুকুর। পুকুরের জলে থাকত একটা পুঁচকে কালো মাছ আর তার মা। শ্যাওলাধরা একটা কালো বড়ো পাথরের তলায় ছিল মা-মেয়ের ঘর। পুঁচকে মাছটা ওই পাথরের তলায় শুয়ে অপেক্ষা করে থাকত কবে তাদের ঘরে এক চিলতে চাঁদের আলো এসে পড়বে। সকাল থেকে সন্ধে অবধি মায়ের পিছন পিছন এদিক ওদিক সাঁতার কেটে দিন কাটত তার। মাঝে মাঝে আশপাশের অন্য মাছের দলের সঙ্গ জুটে যেত। সবাই মিলে হইহই করে পাথরের ফাঁক ফোকর দিয়ে চলত সুড়ুৎ সুড়ুৎ সাঁতার। পুঁচকে কালো মাছটা ওর মায়ের একমাত্র মেয়ে। আরও প্রায় দশ হাজার ভাইবোনের সঙ্গে ডিম ফুটে জন্মেছিল সে। কিন্তু ও ছাড়া বাকি আর কেউ বাঁচেইনি। কিছুদিন ধরেই পুঁচকে মাছ বেশ চুপচাপ। গম্ভীর হয়ে মায়ের পিছনে আস্তে আস্তে ঘুর ঘুর করে বটে, কিন্তু অন্য বন্ধুবান্ধবদের বিশেষ পাত্তা-টাত্তা দেয় না। তাদের সঙ্গে খেলছেও না আজকাল। মা ভাবল মেয়ের বুঝি শরীরটা ভালো নেই। ঠিক হয়ে যাবে শিগগিরই। কিন্তু আসলে যে সমস্যাটা অন্য জায়গায় সেটা তার মা ভাবতেও পারেনি। একদিন সক্কালবেলা যখন সূয্যিমামারও ঘুম ভাঙেনি, ছোট্ট মাছ ঘুম থেকে উঠে মাকে ঠেলা দিয়ে ডেকে বলল, মা, শুনছ? তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। মায়ের তখনও পুরো ঘুম ভাঙেনি। ঘুম জড়ানো গলায় জিজ্ঞেস করল, কী আবার কথা? এই সক্কাল সক্কাল? তার চেয়ে বরং চল আমরা এক পাক সাঁতার কেটে আসি। না, মা। আমি সাঁতার কাটতে যাব না। আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি। চলে যাচ্ছিস? হ্যাঁ। আমায় যেতেই হবে। কোথায় যাবি তুই? এই সাত সকালে? এই পুকুর থেকে বেরিয়ে জলের ধারাটা বয়ে কোথায় যায় আমি দেখতে যাব। জানো মা, আমি ভাবার চেষ্টা করছিলাম যে এই এত জল সব যায় কোথায়? ভেবে ভেবে সারারাত ঘুমাইনি। কিন্তু কিছুই ভেবে পেলাম না। তাই আমি বেরিয়ে পড়ব ঠিক করেছি—এই পুকুরের জল বের হয়ে কোথায় যায়, সেটা দেখতে চাই। আরও অন্য অন্য জায়গা দেখতে ইচ্ছে করে, বাইরের দুনিয়ায় কী কী হয় সেইসবও জানতে ইচ্ছে করে আমার।... ❜

  • সুবাসিত বিষাদেরা গান গায় । শুচিশ্রী রায় | Manikarnika.Pub

    সুবাসিত বিষাদেরা গান গায় । শুচিশ্রী রায় বিষয় : ব্যক্তিগত গদ্য প্রচ্ছদ : গার্গী চৌধুরী নামাঙ্কণ : শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মণিকর্ণিকা প্রকাশনী মূল্য : ₹ ২২০ যোগাযোগ (Call or Whatsapp) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির একটি অংশ এখানে দেওয়া হল। হারানো দুপুরবেলার পটদীপ মুলতানি ভীমপলাশিরা শীত আর গরমের লম্বা ছুটির দিনগুলোর কথা ভেবে মনকেমন করে। আমাদের দোতলা বাড়ির একতলার বড়ো ঘর যেটা কিনা আমার আঁকা শেখার, অঙ্ক কষার, আর পরের দিকে রেওয়াজের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, তার গা লাগোয়া লম্বা বারান্দার পরে হাত দশ চলন রাস্তার গায়েই বাড়ির পাঁচিল। পাঁচিলে ঠেসান দিয়ে একটা লম্বা ক্রোটন গাছ, ফুরুস ফুলের গাছ, আর ডবল টগরের গাছ। বারান্দার সীমানায় দুহাত উঁচু ইটের দেয়াল শুরু থেকে শেষ অবধি। রাস্তায় এসে গাছের আড়াল থেকে মুন্না ডাক দিত নরম গলায় ‘বৈকালি, এই বৈকালি’। ও একাই কেবল এই নামে চিনত আমায়। বিকেলে জন্মেছিলাম তাই জেঠু নাম রেখেছিলেন ‘বৈকালি’। সময়ের সঙ্গেসঙ্গে প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের জটিলতায় আমার খুব পছন্দের সে নাম হারিয়েই গেছে আজ। মুন্নাদের বাড়ি আমার বাড়ির বাঁ-হাত ধরে এগিয়ে গিয়ে দুটো বাড়ির পরে ডানদিকে মানে ইংরেজি এল এর মত গেলে তার শেষপ্রান্তে। ও কলকাতায় মনোহরপুকুরে মামাবড়িতে থেকে পড়াশুনো করত আর তাই ইস্কুলের ছুটিগুলোতে সুযোগ পেত মা বাবা ভাই এর সঙ্গে কয়েকটা দিন কাটিয়ে যাবার; আর হ্যাঁ আমাকে বড্ড ভালোবাসত। গায়ের রং কালো বলে মুন্নাকে নানাজনের কাছে নানান কথা শুনতে হত তাই মনের মধ্যে অনেক কষ্ট। ওর মিষ্টি ঠাণ্ডা স্বভাব, চিকণ মুখ আর মা কালির মতো ঢেউ খেলানো একপিঠ চুল সব আমার খুব পছন্দের ছিল। আমার মাথায় বরাবর ফুরফুরে কিন্তু বিশ্বস্ত কয়েক গাছি, বিশ্বস্ত কারণ এতদিনেও তারা আমাকে ছেড়ে যায়নি! মুন্নাকে জানালার ধারে বসিয়ে আমি রিয়েল স্টাডি করতাম। খুঁজে দেখলে সেই আঁকার খাতা এখনও পাওয়া যেতে পারে। দুপুর যেই হেলান দিত বিকেলের গায়ে মানে এই তিনটে সাড়ে তিনটে নাগাদ মুন্নার গলার হাতছানিতে আমি ঘরের দরজা খুলে বারান্দার পাঁচিলে এক পা তারপর শূন্যে এক লাফ দিয়ে বড়ো পাঁচিলে অন্য পা ছুঁয়েই জোড়া পায়ে ইট বাধানো রাস্তার ওপর লম্ফ দিয়ে পড়ে ‘চল’ বলে দৌড় লাগাতাম ব্যাঙার বাগানের দিকে। নিপাট ভালো শান্ত মেয়েটা আমার মতোত ডানপিটের পিছু পিছু ছুটে হাঁপিয়ে একশা হত। ব্যাঙার বাগানে বিরাট বিরাট লিচু গাছে টিনের খালি ক্যানেস্তারার ভেতর ইটের ছোটো টুকরো ভরে লম্বা দড়ি দিয়ে টাঙানো থাকতো। ভাম বা হনুমানের আনাগোনা হলেই মাটিতে চাটাই বিছিয়ে শুয়ে থাকা পাহারাদার দড়িতে টান দিয়ে বেজায় বিশ্রী ঢং ঢং শব্দ করতো যাতে ওরা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। মাঝরাতে বিছানায় শুয়ে বহুদিন ওই কদাকার শব্দ কানে এসেছে। এত গাঢ় ঘন গাছপালা ঘেরা সেই বাগান যে রোদ্দুর আসত ছেঁড়া ছেঁড়া আর গাছপালার মাঝখানে ছোট্ট একটু গোলাকার ঘাস ওঠা ন্যাড়া জমিতে আমরা ছুটোছুটি সেরে নিতাম, তারপর ফলসা গাছের ডালে পা ঝুলিয়ে বসে তেঁতুল খেতাম। গাছের গোড়ায় ঊর্ধ্বমুখী তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত মুন্না, ‘বৈকালি আমাকে উঠিয়ে দিবি রে’? সঙ্গী পাড়াতুতো দাদাদের কেউ কেউ দয়াপরবশ হয়ে ওকেও উঠিয়ে নিত গাছে। আমার দুই পা ফলসা গাছের ডালের দুদিকে দুলতে থাকতো আর তার ছায়া দেখা যেত নীচের ডোবায়। এখন সেই ছায়াও নেই আর ডোবাও নেই আছে কেবল আমার এই ডুবুরি সত্তা। যতক্ষণ শ্বাস জমিয়ে রাখতে পারি কখনও সেই জলে কখনও সেই জঙ্গলে ঘুরি ফিরি, বেঁচে থাকি। গা এলানো বিকেলগুলো হাততালি দেয় লম্বা নারকেল গাছের গুঁড়ির আড়াল থেকে যার গোড়ায় ঘুমিয়ে পড়েছিল ফ্যালন। পাড়ার মানুষকে অতীষ্ঠ করে রেখেছিল তার চুরি বিদ্যার মহার্ঘ্যে। আহা বেচারা ডাব চুরি করে ঘুমিয়ে গেছিল আর পাড়ার ছেলেরা ধরে কী মারই না মারল! কোনো এক বড়োসড়ো চুরির পরে মার খেয়ে মরেই গেল ফ্যালন। কালোকোলো আঁটসাঁট চেহারা তার দিব্য মনে আছে আমার। আজ এই বয়েসের বিকেলগুলো একঘেয়ে আর মনমরা। গোধূলির সেই মায়াময় আলো আর নেই। চাল-ধোয়া ঘোলা রঙের আকাশে দুপুর কখন পিছলে গিয়ে বিকেলের বাস্তুতে হাজির হয় জানতেও পারিনা। একরাশ হারিয়ে ফেলা দুপুর ভীমপলাশির মত অভিমানী আর মরমিয়া। মরমিয়া, শঙ্খর খুকির নাম, ভারি মোলায়েম। ভীমপলাশির সুরে অনেক ভজন বাঁধা হয়েছে, এমনকি ভীমপলাশি রাগের উপস্থাপনাতেও ভক্তি ভাবই মুখ্য - অন্তত আমি যেটুকু শুনেছি বা শিখেছি তা দিয়ে বলতে পারি। আমি ভক্তি আলাদা করে বুঝি না মানে অনেকটা ‘তন্ত্র-মন্ত্র জানি নে মা’ গোছের। আমি বুঝি প্রেম, ভালোবাসা, আর অন্তরের সম্পূর্ণ সমর্পণ। ভালোবাসার সঙ্গে শ্রদ্ধাবোধ জড়িয়ে থাকে, ভয় কেন থাকবে? থাকবে সম্ভ্রম কারণ আমি এই বিশ্বাসেই থাকতে ভালোবাসি যে তিনি মায়ের মতোই ক্ষমাশীল। সেই যে মা সারদা বলেছেন - সন্তান ধুলো মাখলে তার গায়ের ধুলো পরিষ্কার করে কোলে তুলে নেওয়াই মায়ের কাজ। আমার ভিতর সেই মা আর সন্তান একসঙ্গে বেঁচে থাকুক এই আমার চাওয়া, তাই ভীমপলাশিকেও আমার মতন করেই আপন করেছি। সে নরম। বৃষ্টি ভেজা মাটির মতো অভিমানি, আলতো চাপেই টোল খেয়ে যায়। ভীমপলাশি শান্ত রাগ। নিজের কষ্ট সে গোপন রাখতে ভালোবাসে। কোমল গা, কোমল নি ঘুরে হাল্কা শুদ্ধ ধৈবত ছুঁয়ে শুদ্ধ মধ্যমে এসে দাঁড়িয়ে যায়। তারপর আস্তে আস্তে পঞ্চম ছোঁয়। দাদিয়ার (আমার ঠাকুরদা) বাড়িতে জেঠুর কেনা একটা রেকর্ড প্লেয়ার ছিল। আমরা তুতো-ভাইবোনেরা উৎসবের দিনগুলোতে একসঙ্গে হলেই দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পর সবাই মিলে ওই রেকর্ড প্লেয়ারের ওপর ঝুঁকে পড়তাম। দাদাভাই একমাত্র জানত গোল চলন্ত চাকতির ওপর চাটুর মত রেকর্ড চাপিয়ে টুথব্রাশের মতন জিনিসটা আলতো করে রেকর্ডের কানা ঘেঁষে কেমন করে বসিয়ে দিতে হয় আর সঙ্গে সঙ্গে গান বাজতে শুরু করে। সেই দুপুরগুলো মনে পড়ে। “আমার সাধ না মিটিলো আশা না পুরিলো সকলই ফুরায়ে যায় মা” - পান্নালাল ভট্টাচার্যের গলায় এই গান শুনে তখনও আমার গলা বুজে যেত। আহা কী দরদ, কী প্রেম, কী মায়া সে গলায়! ঠাম্মারা পানের ডাবা নিয়ে পা ছড়িয়ে বসে গল্পে মজতেন। এলো করে শাড়ি পরা ঠাম্মার গায়ের রং ছিল ধবধবে। মুখে পান, বাংলাদেশি বুলি। আর রান্না? হাত চেটে চেটে ফর্সা করে ফেলতাম সেই রান্নার গুণে। আমায় ডাকতেন ‘মামণি আমার সুনা (সোনা)।’ সব দুপুরবেলাগুলো হারিয়ে গেছে। কত সহজ, সামান্য আর আনন্দময় নিশ্চিন্তির দিন সেসব। সেইসব ভালোবাসার মানুষজনের গায়ের গন্ধ পাই দুপুরের ভীমপলাশিতে। মনে হয় কতদিন তারা নেই। অসহায় অক্ষম আমি মনকেমন করা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারি না তাদের তর্পণে। বাবা-মাও একদিন এভাবেই ভীমপলাশিতে মিশে যাবেন। কুট্টুস মিঠাই, একদিন আমিও। পান্নালালের সেই গানটিও ভীমপলাশির সুরেই। শীতের দিনগুলোয় বাড়ির ছাতে মাদুর বিছিয়ে লেপ গরম করতে দেওয়া হত। রোদ হেলে পড়ার আগেই ভাঁজ করে ঘরে এনে চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল আমার। কনকনে রাতে একলাফে বিছানায় উঠে সেই লেপ খুলে গায়ে দিলে রোদের মিষ্টি গরম ওম পাওয়া যেততার ভাঁজে ভাঁজে। সেই রাজসিক ঘুমের কোনো বিকল্প হয় না। দুপুরের খাওয়া মিটিয়ে কমলালেবু আর অঙ্কের খাতা - দুই চরমপন্থিকে সঙ্গে নিয়ে লেপের ওপর গড়াগড়ি খেতাম। মাথার ওপর ঝকঝকে নীল আকাশের এপ্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে উড়ে যেত লম্বা ধোঁয়ার লেজওয়ালা জেট প্লেন। মায়ের হাতে উল কাঁটা থেকে ঝোলা অর্ধেক বোনা সোয়েটার, কোলে তারাশঙ্কর, পিঠে কোঁকড়ানো চুল মেলে রাখা। মায়ের বাঁ-হাতের তালু খুব নরম ছিল, আমার কপালে ছোঁয়ালেই ঘুমিয়ে পড়তাম। তখন মোবাইল ফোনের যন্ত্রণা ছিল না। পিয়োনের সাইকেলের ঘন্টি শুনলেই বুঝতাম নানাজির চিঠি এসেছে। শীতের দুপুর খুব জলদি ফুরিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ধোঁয়া স্যাঁতস্যাঁতে আর মনমরা হয়ে যায় সবকিছু। এখন খুপরি ফ্ল্যাটে এসির ঠাণ্ডায় বসে বারোমাস এই শহরের মাথার ওপরের ফ্যাকাশে আকাশ দেখায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নিটোল, টিকিট মারা গাঢ় কমলা রঙের লেবু ইচ্ছে করলেই আজকাল সামনে হাজির হয়, তারপরেও কেন যে সেই ছোটো ত্যাবড়া অথচ মধুর মত মিষ্টি কমলালেবুর গন্ধ ভেসে আসে বুঝি না। আমার বয়েস হচ্ছে। এই যে টুক করে ঝলমলে একটা দুপুর শীতল নিষ্প্রাণ অন্ধকার সন্ধের গভীরে তলিয়ে গেল কিছুমাত্র বুঝতে না দিয়ে তাতেই বুকের ভেতর হু হু করে ওঠে। জলের নীচে বালি যেমন সরে সরে যায় অজান্তে তেমনই অনেক কিছুই যেন সেই অনাকাঙ্ক্ষিত শীতলতার মধ্যে ডুবে যায়। হারিয়ে যাবে, যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত। এরকম কত কত মানুষের কত সহস্র দুপুরবেলা হারিয়ে গেছে। সকাল দুপুর সন্ধে সবই আজকাল একরকম। ব্যস্ত, বিরক্ত বিবর্ণ হতাশ ফেসবুকময় আর উৎকণ্ঠার। রবীন্দ্রনাথ সংগীতচিন্তার ছিন্নপত্রাবলীতে ইন্দিরা দেবীকে রাগ মুলতানি বিষয়ে বলছেন - ‘... আজ আমি এই অপরাহ্ণের ঝিকমিকি আলোতে জলে স্থলে শূন্যে সব জায়গাতেই সেই মূলতান রাগিণীটাকে তার করুণ চড়া অন্তরা-সুদ্ধ প্রত্যক্ষ দেখতে পাচ্ছি-না সুখ, না দুঃখ, কেবল আলস্যের অবসাদ এবং তার ভিতরকার একটা মর্মগত বেদনা”। মহৎ প্রাণের ব্যথাবোধ অবর্ণনীয় কিন্তু ক্ষুদ্র প্রাণীও তো কষ্ট পায়, যদিও সে হয়তো জগতের উত্থান-পতনের খেলার বিশিষ্ট পদাধিকারী নয়, কিন্তু এই ভুবনজোড়া কর্মকাণ্ডের ভাগীদার তো বটে! তার ব্যথাতুর নগণ্য শ্বাসপ্রশ্বাসও বাতাসকে ভারী করে, মুহূর্তে অতীত হতে থাকা বর্তমানকে স্মরণ করতে শেখায়। যা কিছুই পড়ে থাকে ‘সুখ নয় সে দুঃখ সে নয় নয় সে কামনা’। সে যে কিসের হাহাকার তা আমি জানি না। মুলতানিকে ‘সাঁঝ কি টোড়ি’ অর্থাৎ সন্ধ্যাবেলার টোড়ি বলা হয় কারণ এর সপ্তকে ভোরের রাগ টোড়ির মতনই রেখাব ধৈবত কোমল আর মধ্যম তীব্র কিন্তু তার জীয়ন কাঠিটি লুকিয়ে রাখা কোমল রে আর কোমল ধা-এর প্রয়োগ-কৌশলে। কুমারমামা বলতেন - ‘খুউব ডেলিকেট’। টোড়ি ঠাটের রাগ মুলতানি। অবরোহণে কোমল ধা আর কোমল রে খুব আলতো ভাবে আর অল্প সময়ের জন্য প্রয়োগ হয়, ‘পা ধা(কোমল)প’ বা ‘সা রে(কোমল)সা’ এই সঙ্গতিতে আর তাতেই পড়ে আসা বিকেলের ক্ষয়ে যাওয়া রূপটি যথার্থ ফুটে ওঠে। ‘লাল লাঠি’ খেলতাম আমরা, মাথায় একটা লম্বা লাঠি লম্বালম্বি শুইয়ে হেঁটে যেতে হত। সে এক অদ্ভুত মজার খেলা। গোটা পাড়া হেঁটে ছুটে মাতিয়ে রাখতাম। পাড়ার মধ্যিখানে বড়ো খোলা মাঠের এক কোণ থেকে কয়লা কালো মেঘ ঘনিয়ে ব্যাঙার বাগানের মাথা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ত। ক্ষণিকের মধ্যে গোবিন্দ জেঠুর বাড়ির লম্বা ক্রিসমাস ট্রি আর সুপুরি গাছের সারি দুলতে শুরু করলেই বাড়িমুখো ছুট লাগাতাম। ঘরে পা দেবার আগেই জলে ভিজে যেত গা-মুখ-মাথা। সেই জল এখনও গড়িয়ে পড়ছে কপাল চুইয়ে গাল বেয়ে আর ভিজে সপসপে হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ কলকাতার হাইরাইসের দেয়াল, শপিং মলের পাপোশ, ভিক্টোরিয়ার পরি। মুন্নার বাবা মারা গেলেন বেশ কম বয়েসেই। সেসময় প্রতিটা দুপুর আমি ওদের বাড়ির ছাতে কাটাতাম। পুতুল কাকিমা, অসম্ভব শান্ত আর ঠান্ডা মানুষটা আরও শীতল আর নিশ্চুপ হয়ে গেছিলেন। মুন্নার মাথার চুল তেল ছাড়া রুক্ষ হয়ে যাচ্ছিল। মনে পড়ে ও শুকনো চোখে একমনে জমা খরচের হিসেব করত কারণ সংসার চালু থাকবার মতো ভরসা কোথাও ছিল না। এই সব সাধারণ তুচ্ছ পরিচিত ঘটনাগুলো জীবনের কোনো এক সময় অবলম্বন হয়ে পড়ে। জানলা দিয়ে সবুজ ময়দানের বুকে চরতে থাকা ঘোড়াগুলোর দিকে চেয়ে চেয়ে ভাবি, ভাবতে ভাবতে এমন মনে হয় যেন এই সেদিন তো ঘটে গেল এইসব! সময়ের পাখা এক পলকে পুড়ে যায়। বিকেলের গায়ে হেলে পড়া দুপুরের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া মানুষজন, সময় আর অফুরান প্রাণশক্তি সব এক লহমায় ফিরে আসে পটদীপের শুদ্ধ নিষাদের সুরে। সুতীব্র আর তীক্ষ্ণ সেই নিষাদ অদৃশ্য নখের আঁচড় কাটতে থাকে বুকের গভীরে আর লাল রক্তের দাগ ফুটে ওঠে সেই জেট প্লেনের পিছনে ধোঁয়ার লম্বা লেজের মতো। তার সঙ্গেই চিনচিন করে ব্যথা হয়। চোখ ভারী হয়ে আসে। নিজেকে নিঃস্ব আর অসহায় মনে হয় আর সত্যি বলে যদি কিছু শব্দ আদৌ থাকে এই ধরাধামে তা হল অসহায়তা। ‘পথের পাঁচালী’ প্রথম কবে দেখি মনে নেই। এই এত বছরে আরও কতবার দেখেছি তাও গুণে বলতে পারব না। অভাবে জর্জরিত মলিন ভাঙা উঠোনে হরিহর বাক্স খুলে দুর্গাপুজোর উপহার বের করছেন একে একে। মুখে তার স্বস্তি আর সামান্য সাফল্যের হাসি। তার অপর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে সর্বজয়া, কোনো এক দাবানল যেন পুড়িয়ে কালি করে দিয়েছে তার মুখ। দামাল মেয়ে দুর্গার জন্য একটা শাড়ি এনেছেন হরিহর আর তিনি নিশ্চিত এই কাপড়ে তাকে ভারি সুন্দর মানাবে। ধ্বসে যাওয়া মাটির বাড়ির মতো মুহূর্তে হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়েন সর্বজয়া। তার ডুকরে ওঠা শরীর মাটিতে পড়ে থরথর করতে থাকে। স্তম্ভিত হরিহর মেয়ের মৃত্যুর কথা জেনে যান আর দুই মানুষের নির্বাক কান্নার পিছনে ছিলে ছেঁড়া ধনুকের মত খানখান হয়ে বেরিয়ে আসে দক্ষিণা মোহন ঠাকুরের তারসানাই। রাগ পটদীপ। মন্দ্র সপ্তক থেকে গুমরে গুমরে ক্রমশ পাকিয়ে পাকিয়ে উঠতে থাকে আর রক্তাক্ত করতে করতে তা উড়ে চলে তার সপ্তকের দিকে। সে যে কী ভয়ঙ্কর! পৈশাচিক! পৃথিবীর সকল প্রজাতি - মানুষ জন্তু কীট - সকলের বিপন্নতার এক অনির্বচনীয় আর্তনাদ। সংগীত এতখানি পারে! এ একমাত্র সংগীতই পারে। আমি পটদীপকে ভয় পাই। কী জানি কোনো অজানা হাহাকার পঞ্চম থেকে শুদ্ধ নিষাদের মীড়ে আমাকে চুরমার করে দিয়ে যাবে এক লহমায়! ‘ত্রিবেণী তীর্থ পথে কে গাহিল গান’ - চিন্ময় লাহিড়ী আর প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিস্মরণীয় সেই গান অথবা ‘প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে’ নজরূলের সেই গানে পটদীপ অন্য আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে। এখানে তার সুতীব্র চিৎকার অনুপস্থিত। এভাবেই তো সময়, প্রেক্ষিত আর অভিমানের সামান্য এদিক সেদিকে প্রকৃতি বা মানুষের মত রাগের মন ও পালটে যায়। পালটে যায় তার কথা বলার ধরন, চাউনির দিশা, চলার ছন্দ। কাফি ঠাটের রাগ পটদীপ যদিও তার পাগল করে দেওয়া নিষাদটি শুদ্ধ। ছেলেবেলার দিনগুলো যে পথে হারিয়ে গেছে সেদিকেই হাঁটতে ইচ্ছে হয় আজকাল। শীতের দুপুরে পূজাবার্ষিকীর রঙিন মলাটে বিমল দাশের আঁকা ছবি, সন্দেশে নতুন শঙ্কুবাবুর অভিযান, কিশোর ভারতীর ভূতের গল্প সঙ্গে নিজের অনভ্যস্ত হাতে আঁকা এটা-সেটা, নড়বড়ে ছন্দে লেখা কবিতা এই সব কিছু নিয়ে নিরলস ভাবতে ভালো লাগে। ময়দানে একপাল ছেলে মেয়ে ফুটবল খেলছে। তার আগে তারা গোল হয়ে হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে গান গায়। তাদের গায়ে রংবেরঙের জার্সি। ভেজা ঘাসের ওপর লম্বা হয়ে পড়ছে তাদের ছায়া, প্রত্যেকের ছায়া তাদের সঙ্গেসঙ্গেছুটে বেড়াচ্ছে সারা মাঠ। ঝাঁক বেঁধে উড়ে আসছে সাদা বক আর পায়রার দল। কিছুক্ষণের জন্য তারাও ঘাসের ওপর দম নিতে বসে। আমার অফিসের জানলা দিয়ে দেখা যায় সব। নানাজি বলতেন ‘আপিস’। টাক মাথা, দীর্ঘ সুঠাম চেহারার এক ভদ্রলোক পাশের উঁচু বাড়ির ছাদে প্রত্যেকদিন ঠিক দুপুরবেলা হনহন করে আধঘন্টা-টাক হাঁটেন। বৃষ্টিতেও দমেন না, ছাতা হাতে হেঁটে চলেন। হয়তো রোগব্যাধিবালাই দূর করতেই, কিন্তু আমার অবাক লাগে হাত-খানেক দুরেই কাঁচা সবুজ কার্পেটে মোড়া অমন একটা মাঠ থাকতে উনি ছাতের মেঝের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকেই কীভাবে যে সময়টা কাটিয়ে ফেলেন! যখন ভীমপলাশি, মুলতানি বা পটদীপ শিখেছি বুঝতেই পারিনি বাকি জীবনের প্রত্যেক দুপুরে একবার করে তারা কড়া নেড়ে দিয়ে যাবে এরা। যা কিছুই দেখি, যেসব ঘটনা কাগজে নয়তো টেলিভিশনের খবরের চ্যানেলের রোজ সন্ধের ঝালমুড়ি অথবা দিনের রাতের সমস্ত টুকিটাকি সব এই দুপুরের আলসেমির ছুতোয় মনখারাপের হাতচিঠি নিয়ে আসে। শহরের বেশিরভাগ আকাশ, যা আমার জানলা দিয়ে দেখা যায়, নিরন্তর বিমর্ষ থাকে। এই বর্ষায় দিগন্তের শেষ কিনারা থেকে কুয়াশার মতো বৃষ্টি এগিয়ে আসে, যত কাছে আসে তার শব্দ শোনা যায়। অতীত থেকে সেভাবেই ভেসে আসে সুর, গান, সখ্য, আর দুপুরবেলা। বুকের কাছাকাছি এলে তবে তার শব্দ শুনতে পাই। জীবনের অনেক হয়ত এখনও দেখার বাকি, তবু এই এক্ষুনি যদি স্তব্ধ হয়ে যায় সব, আমার কিছুমাত্র আফসোস থাকবে না। কত কিছুর মায়া, ভালোবাসা আর প্রাপ্তিতে পূর্ণ হয়ে আছি। এই যে আমার মনকেমন, এর জন্যেও তো নিজেকে প্রস্তুত করেছি, দুঃখই যদি না পেলাম তবে আর গানই শিখলাম কেন!

  • ধনপতির কথাপালা । মধুময় পাল | Manikarnika.Pub

    ধনপতির কথাপালা । মধুময় পাল বিষয় : গল্প প্রচ্ছদ: শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মূল্য : ₹ ৪০০ মণিকর্ণিকা প্রকাশনী যোগাযোগ (কল ও হোয়াটস্অ্যাপ) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির একটি গল্প এখানে দেওয়া হল। বেজি এখানে রাত যখন গভীর হয়, সূর্য না উঠলেও পাতলা আলোর অ্যাসিডে অন্ধকার গলে যেতে থাকে। অন্ধকারের যে চ্যাটচেটে ভাব আছে, সেটা সহজে ছাড়ে না, চারপাশ তেতে একটু একটু করে পুড়ে যেতে থাকলে তখন পূর্ণ গভীর রাত। সেই চ্যাটচেটে ভাবের মধ্যেই মানুষজন ঘুমোতে ঘুমোতে ক্ষুদ্র হয়ে যায়, যেন জেগে ওঠার ইচ্ছে তাদের নেই, প্রয়োজন নেই, বরং অন্ধকারের বাইরে তাদের হাত বা পা বা মাথা চলে গেলে অবচেতনের তীব্র বিরক্তিতে গাঢ়তর অন্ধকারের আশায় পাশ ফেরে। এখানে ভোরের পাখি নেই, অভ্যাসবশত এসে-পড়া দু-চারটে কাকের ডাকারও স্পৃহা নেই, শুধু জল আসে ছরছরিয়ে, ভোরের ধার্মিকতা নেই, কেন না এখানে ধর্মপ্রচারকরা বাস্তবিক অন্ধকারে কাজ করে, শ্রম-ধান্দা-ফিকিরের শেষে শরীর যখন অবসন্ন, বুকে পরাজয়, চোখে-মুখে জীবনযাপনের ক্লেদ, মানুষ সে-সময় ধর্ম খুব ভালো খায়, পাঁকাল মাছও ছুটে আসে ধর্মের মদির চারে। এখানে ইঁদুররাই শুধু ভোর দ্যাখে। অসংখ্য ইঁদুর, বেড়ালের অধিক গতর তাদের, ভয়হীন ভ্রান্তিহীন চলনে রাস্তাপাট জুড়ে থাকা তন্দুরির টুকরো, মাংসের হাড়, ন্যাতানো বেগুনি, আলুর পিণ্ড, পাঁউরুটির মোড়ক, বোতলের ছিপি, পানমশালার পাউচ, ডেইলি লটারির কাগজ, নায়িকার শরীর, নষ্ট টেপের ফিতে অন্তহীন গর্তে টেনে নিয়ে যায়। গায়ে-মাখা সূর্যের তাপ বারবার গর্তে রেখে আসে উষ্ণ বসবাসের আশায়। আজ আরও দুজন ভোর হতে দেখেছে। ছেদিলালের তক্তপোশের ওপর চিৎ শুয়ে গান গাইছিল গুলে: ভারত আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। দেশপ্রেমাত্মক অনুষ্ঠান বা দেশপ্রেমের প্রহসনে এইসব গান যে কুশলী অর্থময়তায় গায়, গুলের গলায় তা ছিল না, কারণ সুরের অভাব, শিক্ষার অভাব। তবে একটা মগ্নতা ছিল, যা এতদঞ্চলের পূর্ণ গভীর রাত ও তক্তপোশের নীচে জেগে-থাকা বেজির চোখে ভোরের আলোয় মাত্র দুটি লাইনে হাত-লাট্টুর মতো পাক খায়। গতকাল, দেশ-নাকি-ভেঙে-যাচ্ছে এরকম একটা হুঁশিয়ারিমূলক ও মেরামতিমূলক সভায় গানটা শুনেছে গুলে। ফাঁড়ির ভবা সিপাই কাল চুষিয়ে বেজিকে টাকা দেয়নি। উল্টে ধমকি দিয়েছে, মার্ডার কেসে ফাঁসাবে। চোষা বা চোষানোটা ক্রাইম নয়, আইনের হাতে পড়ে না, এই কাজে বেজি মাঝে-মধ্যেই ঠকে, বিশেষ করে কাজটা যদি পুলিশের হয়। ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছে, কিন্তু কী করবে, ভালো কাজ কই? ভারত কী গো, গুলেদা? আমাদের দেশ। তালে ইন্ডিয়া? একই হল। মিস ইন্ডিয়া? ওটা ভালো না। টনির বউ যেমন। মাই দেখায়, উরুত দেখায়। ইন্ডিয়া ভালো? ওরা তো বলে। মায়ের মতো। এত ভালো? ভালো, তবে... তক্তপোশের নীচে বেজি গুলের থেমে যাওয়া কথার ভেতর সন্দেহ টের পায়। তবে কী, গুলেদা? বেজি, তোর মাকে দেখতে ইচ্ছে করে? বেজির মা হয়ত এখন পালবাবুর গুদাম ঝাড় দিয়ে ফিরছে। গুদামে ইঁদুরের গর্ত থেকে চাল টেনে বের করতে হয়। মা একবার আংটি পেয়েছিল গর্তে। বাবা বিশ্বাস করেনি। মা-র ডান হাতের তিনটে আঙুল ইঁদুরের পেটে গেছে। বাবা বিশ্বাস করেনি। বাবা বলে, সব পালবাবুর খেল! লুকোও কেনে? আংটি দেয়, শরীল খায়। বেজির মা কাঁকড়ার দাঁড়ার মতো দু-আঙুলওলা হাত নেড়ে বলে, বাজে কথা কোয়ো না। জিভ খসি যাবে। শঅরে চুল্লু ছাপ্লাই করিনি বলে যার-তার নামে বাজে কথা, ভগমান সবেনি। বেজির বাবার একটাই কথা, গাঁয়ের চার-পাঁচটা বউ কেরিয়ারি করে সুখে আছে। হাতে পয়সা এলে ভদ্দরলোকের মতো বাঁচা যায়। পয়সা এলে সরমান হয়। শহর তক্ গাড্ দে নে যাবে। কোনো ঝামেলি নেই। ফিরতেই হাতে হাতে পয়সা। বেজির বাবার দুঃখ, কত লোক তার বুদ্ধি নেয়, আর ঘরের মেয়েমানুষটা স্বামীকে গেরাহ্যি করে না। গুলে নরম গলায় জিজ্ঞেস করে, মা-র কাছে যাবি, বেজি? ভয় করে। সত্যিই ভয় করে বেজির। শিয়ালদা থেকে দু-ঘন্টা রেল। তারপর দুটো নদী। পথে যেখানে পাবে, খপ্ করে ধরবে পুলিশ। রিয়াজুলের বাপ বঁটি নিয়ে তেড়ে আসবে। আর, রিয়াজুলের লাশটা, পাথরে থেঁতলে দেওয়া মুখটা এখনও ঘুমের মধ্যে বেজিকে তাড়া করে। গুলে গান ধরেছে: বলো বলো বলো সবে, শত বীণা বেণুরবে। মায়ের কথায় বেজি বাবাকে পাবেই। এত অবিচ্ছেদ দুজনের। কত লোক দিনভর ঘুসুর-ফুসুর করে পাড়াপড়শির সর্বনাশ ভাঁজে। তার চেয়ে ঢের ভালো বেজির বাবা। কোনো সাতসকালে গলা অব্দি চড়িয়ে এসে হাঁক পাড়বে, তোদের বাড়ির জামাই এলাম রে, আদর-যত্ন কর, দাওয়ায় মাদুর বিছিয়ে তাকিয়া দে। ও বেজির মা, বরের সঙ্গে দু-হাত দাবায় বোসো না! বা, কোনো সন্ধেয় বর্ডার থেকে ফিরছে বলে উঠোনে দাঁড়িয়ে স্টেনগান-মেশিনগানের ট্যা-ট্যা-ট্যা-ট্যা শব্দে, যা সে দেশপ্রেমিক সিনেমায় দেখেছে, নিজেরই গলায় শত্রুর আর্তনাদের মধ্যে চিৎকার করে ওঠে, আউর চার দুশমন খতম হো গয়া। বা, সাইকেল ভ্যানে দাঁড়িয়ে সীতা-চোর রাবণের অট্টহাসি ও বক্তৃতায় চারপাশে লোক জমিয়ে দেয় বেজির বাবা। কোনোদিন যাবি না? জানি না। তুইও আমার মতো। গুলে কীরকম বেজি জানে না। বেজি এ তল্লাটে প্রথম যখন হাজির হল, পালাতে পালাতে; রিয়াজুলের থেঁতলানো মুখ থেকে, রিয়াজুলের বাপের বঁটির কোপ থেকে, মা-র কান্না থেকে, থানার ভয় থেকে আর সেই সাধুবাবার খপ্পর থেকে, গুলেকে সে বলে ফেলেছিল তার পাপের কথা, মনে হয়েছিল, গুলে তাকে বাঁচাতে পারে। বছরখানেকেই বেজি পাল্টে গেছে। বোঝে, মা-বাবা একটা লতলতে ব্যাপার। ভেন্ডি সেদ্ধর মতো, মাখামাখি করে হড়কে যায়। বেশি চটকালে গা ঘিনঘিন করে। তার মা খালপাড়ে থাকে, এর একটি বেশি কথা গুলে এতদিনেও বলেনি। গুলে গানে ফিরেছে: ভারত আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। মানেটা বেজির বুদ্ধিতে খুব পরিষ্কার নয়। তবে গানটা ভালো, বেজি ধরতে পারে। লালপাড় হলুদ শাড়ি-পরা, গাঁয়ের মাঠে জোছনার মতো মেয়েরা এবং বকের মতো সাদা জামা-পরা ছেলেরা গলা মিলিয়ে গাইছিল, তারা নিশ্চয় লেখাপড়া জানে, তাদের বড়ো ঘরবাড়ি আছে। বিল্লে একবার ‘চুরালিয়া’ বলে চেঁচিয়ে উঠল। ওরা কানে তোলেনি। কাল গুলের কাজ হয়নি। কেষ্টপুর থানার মেজবাবু নিমাই সাঁতরার খুলির পেছন দিকটা কারা যেন কুপিয়ে নামিয়ে দিয়েছে। তার জন্যে চুল্ল-গাঁজা-হেরোইন পাচার, জুয়া-সাট্টা, প্রোমোটারের হিস্সা, রেশনের মালঝাড়ি, হোটেলের হপ্তা, ভাড়াবাড়ির দালালি, ভাড়া-গাড়ির কমিশন সব বন্ধ। থানার ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারেনি গুলে। গা-চকচকে সব ঘ্যামা গাড়ি। রাতে লরি ধরার কাজও হবে না। বিকেলেই খবর পায়। এ পাড়ায় দু-বেলা শোক এই প্রথম। আমদানিহীন সেই সন্ধেয় বড়ো রাস্তার মোড়ে রঙিন কাপড় বাঁধা মাচার পাশেই বসে পড়ে গুলে। দানু সিংয়ের ঝক্কড় গাড়িটা যেখানে মামলার কু্ষ্ঠে তিন বছর পড়ে থেকে থেকে হাত-পা-মাথা-ইঞ্জিন সর্বাঙ্গ খসাচ্ছিল, সেটা সরিয়ে যে গলতা বেরিয়েছে, তা নিয়ে কাস্তে-হাতুড়ি আর বাঘ ঝান্ডার ঘোর লড়াই, সেখানে ‘দেশ ভাঙার চক্রান্ত রুখছি রুখব’ হল। খারাপ পাড়ার সন্ধের মতো একটা ভীতু লোভী ও মাগনার ভিড় প্রথমে লাট খাচ্ছিল, বিশেষত বক্তৃতা যখন চলে, পরে রাত্রি হলে জমে যায় গানে এবং বিশেষত সুন্দর সুন্দর বন্রুটির মতো নরম বুকের মেয়েমানুষে। নিজের মুখে বসন্তের দাগের চেয়েও গুলে বেশি ভালো চেনে এই ভিড়। বেজিকে খুঁজেছিল। ছেলেটা জলসা ভালোবাসে। হয়তো কাজে গেছে কাঁটাপুকুর বা মালিপাড়া। দুটো বুড়ো খদ্দের আছে, কাজ না হলেও দু-পাঁচ টাকা দিয়ে দেয়। পুলিশ লাইনে আজ কড়াক্কড়ি। কাঁটাপুকুর বা মালিপাড়া গেলে বেজির ফিরতে দেরি হয়। বড়োরাস্তায় তখন বাড়ি-গাড়ি সব গুটিয়ে যায়। জমে-ওঠা গানবাজনার মধ্যেই বেজি ফেরে। গুলের পাশে বসে। কোত্থেকে এলি? বেজি জবাব দেয় না। কোথায় গেসলি? বেজি জবাব দেয় না। কী হল? ওই শালার ভবা সিপাইটা ধরল। কিছু বলল? শ্মশানে নিয়ে গেল। শ্মশানে কেন? ছেত্রীদের ভাঙা বাড়িতে। ওখানে কে থাকে? কেউ না। কাজ হবে বলে নিয়ে গেল। থানা আজ ভারি গরম। যখন-তখন তোলতাই হতে পারে। ভড়কি দিয়ে কাজ করিয়ে নিল। পুরো মাল খালাস করলাম। শালা, টাকা চাইতেই বলে, একবার তুললে মার্ডার কেস। মাচায় গান হচ্ছে: ধর্মে মহান হবে, কর্মে মহান হবে। গুলে বেজিকে ভরসা দেওয়ার মতো কথা খুঁজে পায় না। শুধু ওর গায়ে হাত রাখে। গান চলতে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধের সর পড়ার মতো ভিড় আরও আঁট হয়। প্রতিটি গানের শেষে এক খামচা ভিড় হাততালি দেয়। প্রতিটি গানের শেষে একটা লোক খানিক বক্তৃতা করে। প্রতিটি গানের শেষে ছেলেরা-মেয়েরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করে, হাসি দেওয়া-নেওয়া করে। গুলে বেজিকে বলে, তুই এখান থেকে পালা। ব্যাপারটা অনেকবার ভেবেছে গুলে। বেজি এভাবে বাঁচতে পারে না। বেজিকে বাঁচানো যাবে না। যে ছেলেটা খুনের ঘটনার জন্য কষ্ট পায়, যে ছেলেটা খুনি হয়ে উঠতে পারবে না, বরং ভালোভাবে বাঁচতে চায়, পুলিশ তার রক্ত চুষে আধমরা করে বাঁচিয়ে রাখবে। বেজি যতই বলুক, রিয়াজুল হঠাৎই মরে গেল, যতই বলুক, তারা তিনজন গরমের দুপুরে পুকুরে খেলছিল, গুলেদা, অত বড়ো পুকুর তুমি দ্যাখোনি, ওলাবিবির পুকুর, ঠান্ডা জল, নিমগাছ জামগাছ ঝুলে আছে, একটা টগর আর একটা কাঁঠালিচাপা, কত ফুল জলে ভাসে, ওলাবিবির থানের দিকে জলটা কেমন সবুজ, ওষুধের গাছ সব ফুটে আছে, জানো গুলেদা, বলাই এক দমে পুকুর পার করে দেয়, তলা থেকে মাটি তুলে আনে, বলাই বলেছে, পুকুরের নীচে তিনটে কুয়ো আছে, তাই চোত-বোশেখেও জল শুকায় না, ওলাবিবির থানের নীচে লুকোনো সিঁড়ি কুয়ো থেকে উঠে এসেছে, পুকুরে যেসব ফড়িং উড়ে বেড়ায় তারা ওলাবিবির ঘোড়া হরিণ, জোছনার রাতে মাঠে তাদের দেখা যায়। বিশ্বাস করো গুলেদা, বলাই আর আমি জামগাছ থেকে ঝাঁপাচ্ছিলাম, রিয়াজুল একটা হেলে ধরে ছুঁড়ে দিল আমাদের দিকে, বলাইয়ের মুখে লেগেছিল সাপটা, রিয়াজুল খুব হাসল, তেড়ে গিয়ে বলাই রিয়ালের এক ঘুসিতে ছিটকে পড়ে, মায়া হলের সিনেমার মতো রিয়াজুল ঘাড় বেঁকিয়ে ঘুসি পাকিয়ে এক পা এক পা এগিয়ে আসে আমার দিকে, আমি চিন্টুদার মতো লাফিয়ে ক্যারাটে ঝাড়লাম, রিয়াজুল ঘাটে মাথা ঠুকে ডিগবাজি খেয়ে জলে পড়ল, বলাই আর আমি টেনে তুললাম, মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত পড়ছিল, শরীরে সাড় নেই, নেতিয়ে পড়ে আছে। বলাই ওর মুখে ফুঁ দিয়ে, বুকে-পিঠে চাপ দিয়ে সাড় আনার চেষ্টা করল। তারপর বলল, বেজি, রিয়াজুল মরে গেছে। বিশ্বাস করো গুলেদা, আমি লোকজন ডাকতে বললাম। বলাই ভয় দেখাল। বলল যে আমার ফাঁসি হবে। আমি রিয়াজুলকে মেরে ফেলেছি। তারপর একটা ঝোপে বডি টেনে নিয়ে রিয়াজুলের মুখ ইট মেরে থেঁতলে দিলাম। বলাই বলল, লোকে বুঝবে অ্যাকসিডেন্টে মরেছে। আমরা বেঁচে যাব। দু-দিন রিয়াজুলের আতিপাঁতি খোঁজ চলল গ্রামে, পাশাপাশি গ্রামে। বেজি কিছু বলেনি। বলে দিল বলাই। বন্ধু বলাই পাত্র সাক্ষ্য দিয়াছে যে পুকুরে কলহ করিতে করিতে বেজি রিয়াজুলকে ধাক্কা মারে। রিয়াজুল ঘাটে মাথা ঠুকিয়া পতিত হয়। বলাই রিয়াজুলকে বাঁচাইতে চেষ্টা করে। কিন্তু, বেজি তাহাকে ভয় দেখাইয়া রিয়াজুলকে টানিতে টানিতে ঝোপে লইয়া যায়। তত্রস্থ পাথর দিয়া উপর্যুপরি ঘা মারিতে মারিতে মৃতের মুখশ্রী ভয়ঙ্কর নষ্ট করে ও তাহাকে হত্যা করে। সাক্ষীর বয়ানে জানা গেছে, আসামী বেজির ভয়ে সে দুইদিন ঘটনা কাহাকেও বলে নাই। অবশেষে মনস্তাপজনিত কারণে সাক্ষী তাহার পিতা ও মাতার কাছে খুলিয়া ব্যক্ত করে। সাক্ষীর পিতা সুধাকর পাত্র ও মাতা শিউলি পাত্রর বয়ানে প্রকাশ যে তাহারা তাহাদিগের পুত্রকে আসামী বেজি ওরফে বিজয় লোধের সঙ্গে মিশ্রিত হইতে পুনঃপুনঃ নিষেধ করিয়াছে। তাহাদিগের পুত্রকেও আসামী খুনের চেষ্টা করিয়াছিল। মৃত (নিহত) রিয়াজুল ইসলাম, বয়স আন্দাজ ১৪ পিতা হাজি রফিকুল ইসলাম, বয়স আন্দাজ ৫৮ আসামী বিজয় লোধ ওরফে বেজি, বয়স ১৩ পিতা গগন লোধ ওরফে বোতল, বয়স আন্দাজ ৩৩ সাক্ষী বলাই পাত্র, বয়স ১৩ পিতা সুধাকর পাত্র, বয়স ৪১ তদন্তকারী অফিসার মেলেটি থানার সেকেন্ড অফিসার শ্রী শক্তি ঢ্যাং। তক্তপোশের ওপর নীরবতা। তক্তপোশের নীচে বেজি বিড়ি ধরায়। গুলে হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। এসময় একটা ঘুম শরীর অবশ করে দেয়, কিছুতেই ঠেকানো যায় না। মাথার ভেতর ফোঁটায় ফোঁটায় ঘুমের মধু ভারী হতে থাকে। বেজিরও ঘুম পাচ্ছে। সে দেখে, ইঁদুরগুলো নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় ঢুকে পড়েছে। ঝগড়া করছে। তাড়া করছে। পালাচ্ছে। তারই মধ্যে দাঁতে খুটছে গোটানো কাগজ, সিগারেটের খোল, প্লাস্টিকের কাপ, শুকনো ফুল। লালজানের কুচো বাঁদরটা যে দড়িতে বাঁধা থাকে, সেই দড়ি বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছে একটা ইঁদুর। লালজানের দোকানের বন্ধ পাল্লায় সাঁটা মেয়েমানুষটা ইঁদুরের খেলা দেখে হাসছে। গন্ধেশ্বরী ভান্ডারের সামনে ছড়ানো-ছিটানো ডাল-জিরে-ধনে কবেই সাফ হয়ে গেছে। রসুনের খোসা নিয়ে খেলছে একটা সরু ইঁদুর। লালার রেশন থেকে ক্যাশমেমোর বান্ডিল টেনে বের করেছে দুটো ইঁদুর। এখনও কুটিকুটি করছে। দত্তবাবুর ডাক্তারখানায় আরও একটা গর্ত করে ফেলেছে। লালবাড়ির নর্দমার ভাঙা নলের বাইরে ঝুলছে একটা লেজ। রফিকের সোনারুপোর দোকানের সামনে নালায় ইঁদুররা সাধারণত যায় না। পেচ্ছাপের গলির মাটি দাপিয়ে বেরিয়ে এল এক গাড়ি ইঁদুর। তাদের স্যাঁতসেঁতে গা রোদে র্যাফের উর্দির মতো লাগে। সেইসব খাম্বাজ ইঁদুরের কাছে বাকিদের নেংটি মনে হয়। ছেদিলালের তক্তপোশের নীচে অন্ধকারে শুয়ে বেজি দেখে, চ্যাটচেটে রোদ্দুরে ভারী ইঁদুররা কুচকাওয়াজ করছে। তাদের মাথায় টুপি, কোমরে বেল্ট, পায়ে শাসন। কোনো গোলমাল তারা বরদাস্ত করবে না। তাদের প্রথম কথা শান্তি, শেষ কথা শান্তি। তারা সবাই একরকম দেখতে, একরকম কথা বলে। মহিম মুদির দোকান থেকে লালুর সস্তা সাবান-সেন্টের গুমটি পর্যন্ত, তারপরই বড়োরাস্তা, ইঁদুরের দল কুচকাওয়াজ করে। দলছুট কোনো খাম্বাজ এক ফাঁকে শাঁখা-পরা একটা হাত পেচ্ছাপের গলিতে টেনে নিয়ে যায়। লালবাড়ির নর্দমার ভাঙা নল থেকে খসে পড়ে রক্তাক্ত ইঁদুর। কাঁকড়ার মতো দু-আঙুলওলা হাতটা ছেলের মাথায় মুখে পাগলের মতো বোলাতে বোলাতে বেজির মা কাঁদছিল আর বলছিল, তুই পালা। এখান থেকে পালা। সোনা আমার, ঠাকুর আমার। অনেক অনেক দূরে পালিয়ে যা। ওগো, তোমার দুটো পায়ে পড়ি, ছেলেটাকে নদী পার করে দাও। ও যে পথ চেনে না। কোন পথ ধরে রিয়াজুলের বাপের হাতে পড়বে! ঘাটের মাঝিগুলো ধরিয়ে দেবে! অনেক দূরে যা মানিক আমার, ধন আমার। মায়ের রক্ত থেকে দূরে যা। বলবি না তোর মা আছে, বাপ আছে, ঘর আছে। শেষরাতে স্টেশনে পৌঁছে বেজির বাবা বলে, যাও তবে পুত্র মোর যুদ্ধের তরে। সম্মুখে দ্যাখো ওই শক্রর পতাকা উড়িতেছে সমুদ্রবাতাসে। বীর পুত্র মম, সাহসে স্থির হও, অস্ত্রে দাও মন, তব সমরকৌশলে মুক্ত হোক মাতৃভূমি, নিজের শোণিত রক্তে আনো স্বাধীনতা। রত্নগর্ভা জননীর হে বীর সন্তান, পামর এ পিতার লহ আশীর্বাদ। ঘুরঘুট অন্ধকারে কপাল-চোখো ট্রেন এল। তার অন্ধকার শরীরে মিলিয়ে গেল বেজি। অন্ধকারে কি বাতাস থাকে না? শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। দম বন্ধ হয়ে আসে। নদীর জলে বাতাস থাকে না? ছইয়ের ভেতর বাতাস থাকে না? তারার আকাশে বাতাস থাকে না? তবু বাবা সঙ্গে ছিল। ঝোপঝাড়ের ফাঁকে ফাঁকে পালাতে পালাতে বাবা বলে, ফাঁসি দিলে দম আটকে যায়। জিভটা বেরিয়ে ঝুলতে থাকে। গর্ত থেকে চোখ বেরিয়ে যায়। অ্যা-অ্যা-অ্যা-অ্যা। গলার ভেতরে কফের ঘর্ঘরে সেই আর্তনাদ বেজিকে কুঁকড়ে দেয়। অন্ধকারে একটা হাত বেজিকে টেনে নেয়। খোকা, কোথায় যাচ্ছ? বাড়ি কোথা? কী নাম? মা বকেছে? বাবা বকেছে? বাবা-মা নাই? আহা, এটুকু ছেলের মা-বাবা নাই। তুমি আমার কাছে থাকো। রাজা-রানির গল্প বলব, ভূতের গল্প বলব, চোর-ডাকাতের গল্প বলব। চিকেন রোল দোব, আঙ্কল চিপস্ দোব, কোকাকোলা দোব। এখন এটা খাও। খাও। আমি সাধুবাবা। আমাকে সবাই ডরায়। তোমার কোনো ভয় নাই। আমার কাছে থাকবে। তোমার জিভ আছে। খেলা করো। চুষে চুষে খেলা করো। লোকটা বেজির মাথা খাবলে ধরে টেনে নামিয়ে মুখে পুরে দিতে চাইছে নিজের পেচ্ছাপের নলটা। বমির ধাক্কায় বেজির পেট থেকে সব কিছু বেরিয়ে আসতে চায়। বেজি গোঙায়। তক্তপোশের ওপর থেকে গুলে জিজ্ঞেস করে, কী হল? ঘুমিয়ে পড়লি নাকি? বেজি জবাব দেয় না। সেই সাধুবাবাটা আবার এসেছে, যে তাকে ঘরে আটকে রাখে, ঠোঙায় ভাঁড়ে নানারকম খাবার নিয়ে আসে, চোর-ডাকাতের গল্প বলে নিজের সাহস ফাটায়, আর... বেজির তখন আর বমি হয় না। তবু সে পালায়। ভবাসিপাই তোকে নিমাইবাবুর কথা বলল? না। পোস্টার মেরেছে। আজ বটতলায় মিটিন। নিমাইবাবুর বউকে আনবে। নিজেরাই শালা ঝেড়ে দিল। এখন কালপিট খুঁজছে। দুটো দিন সামলে থাকিস। ওদিকে ডাকলে যাবি না। তোর বাড়ি কুসুমপুর? বিজয় লোধকে চিনিস? তোর মতো বয়স। তোর মতো দেখতে। বাপের নাম গগন। সাধুবাবা হয়তো জানতে পেরেছিল। ছেলেটা যে ভয়ে সিঁটিয়ে যায় হয়তো টের পেত। সাধুবাবা বলত, তোর কোনো ভয় নাই। আমার কাছে থাক। আমি থাকতে তোর গায়ে হাত দেয় কে? বেজিকে কটা দিন কোথাও পাঠানোর কথা ভাবছিল গুলে। কিন্তু কোথায় পাঠাবে? তাছাড়া, বেজি হাওয়া হলে পুলিশ গুলেকে তুলতে পারে। গুলে জানে না, পুলিশ কাকে টার্গেট করেছে। সেরকম হলে বেজিকে ফাঁসিয়ে দেবে গুলে। বেজির খুনের রেকর্ড আছে। আর কিচ্ছু লাগবে না। নিমাইবাবুর মার্ডার কেসের খুনি ৪৮ ঘন্টায় গ্রেপ্তার। রিয়াজুলের কেস সঙ্গে লাগিয়ে এক টিলে দু-পাখি মারার পুলিশি বাতেলা চলবে কিছুদিন। বেজি, তুই কোথায় যাবি? গুলের মাথাটা মাঝে-মধ্যে ম্যানহোলের মতো জ্যাম খেয়ে যায়। ওপরে শুবি? আয়। গুলের ডাক বেজির বুকের ভেতর ঠাকুর-দেবতার গলার মতো সাউন্ড করতে থাকে। ডাকলে, গুলেদা? ওপরে আয়। বেজি তো রোজ ওপরে গুলের পাশটিতে এট্টুকুন জায়গায় শুতে চায়। তক্তপোশের নীচে ভয়ের গন্ধ। ছেদিলালের উনুনের পোড়া কয়লার ডাঁই, ময়লা ন্যাতাকানি, নর্দমার জলে ভেজা ঠান্ডা মাটিতে, বেজির মনে হয়, ইঁদুরের গর্তে শুয়ে আছে। মা-র তিনটে আঙুল খেয়েছিল। বেজিকে কোনদিন পুরোটা খেয়ে ফেলবে। তোমার ঘেন্না করবে না? না। বেজি যে কাজটা করে তা ঘেন্নারই কাজ। ঘেন্নায় বেজি নিজে অনেক রাতে গলা দিয়ে খাবার নামাতে পারে না। গুলে একপাশে সরে জায়গা করে দেয়। বেজি প্যান্ট গেঞ্জি ভালো করে ঝেড়ে নেয়। ভবা তোকে নিমাইবাবুর মার্ডারের কথা বলল? বলেনি তো! তুই যে বললি, ভয় দেখাল। ৩০২ করে দেবে বলেছে। শালা এক নম্বর হারামি। চেপে যা। পুলিশ এখন যা বলবে, তাই করবি। গুলেদা! বল - গুলে পাশ ফিরে বেজির গায়ে হাত রাখে। তুমি কত ভালো। নিমাইবাবু একবার তোকে লালী সিংয়ের ঘর থেকে তুলল মনে আছে? খুব মারল নোংরা কাজ করি বলে। তা আমি বললাম, ভালো কাজ দাও। তোকে দৌলত মিস্ত্রির প্যাকিনের কাজে লাগাল। খাটনির চোটে পালিয়ে এলি। খাটনি না, গুলেদা। দৌলত মিস্ত্রি পেরেক লাগানো চেলা কাঠ দিয়ে মারে। দৌলত বলেছে, এসব মিছে কথা। যে ছেলে চুষে রোজগার শিখেছে, সে খেটে খাবে কেন? নিমাইবাবু তোর কথা বিশ্বাস করেনি। সন্দ করত। এখানে সেখানে খোঁজখবর নিত। তালে নিমাইবাবু খুন হল ভালোই হল, কী বলো গুলেদা? সাতাশ নম্বর বাড়ির মাথা ডিঙিয়ে ছেদিলালের চালায় রোদ পড়েছে। এরপর আস্তে আস্তে নেমে আসবে তক্তপোশে। বড়োরাস্তায় গাড়ির শব্দে মানুষের গন্ধ লেগেছে। নিশিডাকের মতো হাওয়ায় হারিয়ে যায় না। গঙ্গা থেকে যে বাতাস ঠান্ডা নিয়ে আসছিল, সেটা তেতে উঠছে। মরা ইঁদুরটার জন্যে দু-দশটা কাক আজ বেশি এসেছিল পাড়ায়। অন্যদিন অভ্যাসবশত যারা ডেকে উড়ে যায়, ইঁদুরদের জন্য যারা এ পাড়ায় পাত পায় না, আজ তারা প্রতিশোধ খুঁজে পেয়ে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনেছিল। গুলেদা, গানটা আর-একবার ধরো না। ভারত আবার... সেই ফাংশানটার কথা মনে আছে তোর? ‘সরসতী’ পুজোর পর বড়োরাস্তায় হোলনাইট হল। থাকবে না! মিস লায়লা নাইট। একটা মেয়েই জমিয়ে দিল। পিঠটা পুরো খালি। গলা আর মাজায় ফটকামতন গেরো। গাণ্ডুরিয়াদের ছেলেটা টাকা দিল। দিল কী গো, নিজে হাতে মেয়েটার বুকে সেপ্টিপিন দিয়ে একশো টাকার নোটগুলো ইচ্ছেমতন আটকে দিচ্ছিল। গাণ্ডুরিয়াদের অনেক টাকা। চোলি কে পিছে কা হ্যায়। সায়া তুলে ন্যাংটো দেখানো কি নোংরা নয়? তুই দেখলি, তিনটে শুয়োর স্টেজে উঠল। তিনটে নয়, পাঁচটা। ওরা ড্যান্স করল। শুধু ড্যান্স! হিঁকি হিঁকি আওয়াজ! ফাংশান জমে রাবড়ি। ধাঙড়পট্টির লোকজন ডান্ডা নিয়ে ছুটে এল। শুয়োর চোট গেলে হেভি লস। চারটা ধাড়ি, একটা বাচ্চা। বাচ্চা শুয়োরটা একবার হেলেন, একবার প্রভুদেবা। হাঙ্গামা হল। ওরাও ডান্ডা ড্যান্স লাগাল। মাল খেয়ে চুর। শরীর হড়কে হড়কে যায়। তবু কী নাচ শালাদের যেন মরণ লেগেছে! গুলে বেজির মাথায় হাত বোলায়। তোর কথা কেউ বিশ্বাস করে না। না করুক। তুমি তো করো। তুই রিয়াজুলকে খুন করিসনি। সাধুবাবা তোকে নোংরা কাজ শিখিয়েছে। কাঁটাপুকুর মালিপাড়ার লোকগুলো তোকে টেনে নিয়ে যায়। দৌলত তোকে পেরেক লাগানো কাঠ দিয়ে মারে। ভবা সিপাই ছেত্রীদের ভাঙা বাড়িতে নিয়ে যায়। তোর দোষ নেই। এ কথা কেউ বিশ্বাস করে না। তুমি করো না গুলেদা? গুলের জানাতে অসুবিধা হয় না যে তার করা না-করায় কিছু যায় আসে না। বেজিকে পাশ ফিরিয়ে দেয়। ঘুমোতে বলে। গুলে গান ধরে। বেজি দেখে, ভবা সিপাই তাকে ডাকছে। পকেট থেকে বড়ো পাত্তি বের করে দোলাচ্ছে। মনোহরের দোকানে আঙুরের রস খাচ্ছে ভবা। রস পেষাইয়ের মেশিনের গায়ে মোটা মতন ধূপ জ্বালায় মনোহর। বোঁটকা গন্ধ ছাড়ে। ভবার পকেটে সবসময় মুঠো মুঠো খুচরো থাকে। হাঁটলে শব্দ হয়। হাসলে শব্দ হয়। বসলে শব্দ হয়। পাশ ফিরলে শব্দ হয়। ভবা বলল, তুই শালা মুসলমানের ঘর করেছিস। তোর জাত গেছে, ধম্মো গেছে। তবু আমি তোকে ঘরে তুলেছি। তোকে ভালোবাসি বলেই তো। বেজির চুলের ভেতর ভবার আঙুল খেলা করে। ভবার ভুঁড়ির এক বেঘৎ নীচে নেমে গেছে বেল্ট। চাকতি লাগানো টুপি আটকে আছে কাঁধের আংটায়। গেঞ্জিটা খুলে ফেল। কাঁচা পাইখানার গন্ধ ছাড়ছে। কাল দুটো সিঙ্গাপুরের মাল দেব। জায়গাটা ভালো না। পাঁচিলের ধারে চল। শ্মশানে কতরকম বডি আসে। বেজিকে চুমু খায় ভবা। ঠোঁট আলতো কামড়ে দেয়। শিরদাঁড়ার দু-পাশ দু-হাত দিয়ে ঘষতে থাকে। বেজির ভয় করে। ভবা সিপাই শক্ত হচ্ছে। ওর হাত-পায়ে জোর বাড়ছে। ছেত্রীদের ভাঙা বাড়ির মেঝেয় সাপের বাসা। দেওয়ালে হাঁটে চন্দ্রবোড়া। বেজি পালাতে চায়। ভবা বেজির বুকে চুমু খেতে খেতে লালা মাখিয়ে দেয়। ভবার ঠোঁট বেজির শরীরে হাঁটে। বেজির প্যান্ট খুলে দু-হাতে পাছা টিপে ধরে। একটা হাত লিঙ্গ নেড়ে বেজির মাথায় উঠে আসে। মার্ডার কেসে ফাঁসলে জীবন বরবাদ, বলে ভবা আঙুলের চাপে বেল্ট খুলে দিলে ঝমঝমিয়ে প্যান্ট নেমে যায়। ঘাড় ধরে বেজির মুখ নামিয়ে ভাঙা পাঁচিলে বসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, নে, তাড়াতাড়ি কর। বেজি দ্যাখে, চন্দ্রবোড়া ফণা তুলেছে। ভবার হাত সাঁড়াশির মতো বেজির ঘাড় আটকে রেখেছে। নিজের শরীর বেঁকিয়ে ভবা সাপ ও বেজির দূরত্ব ঘুচিয়ে দিতে প্রাণপণ চেষ্টা করে। তোর কোনো ভয় নেই। তুই আমার ঘর করিস। কোনো হারামির কাছে তুমি যাবে না। বেজি খপ্ করে সাপটাকে মুখে পুরে নেয়। যত জোরে পারে কামড়ে ধরে। সে সাপটাকে গর্ত থেকে বের করতে হ্যাঁচকা টান মারতে থাকে। সাপের হাত-পা লাফায়। ছাড়, বেজি। চিৎকার করে গুলে বেজির মাথা তক্তপোশে ঠুকে দেয়। বেজির দাঁত থেকে খসে যায় গুলের শরীর।

  • এ যাবৎ বিদ্যুৎগুচ্ছ । অপ্রতিম চক্রবর্তী | Manikarnika.Pub

    এ যাবৎ বিদ্যুৎগুচ্ছ । অপ্রতিম চক্রবর্তী বিষয় : কবিতা প্রচ্ছদ : সর্বজিৎ সরকার মণিকর্ণিকা প্রকাশনী মূল্য : ₹ ২৮০ যোগাযোগ (কল ও হোয়াটস্অ্যাপ) : 8240333741 / 7980337076 আগ্রহী পাঠকদের জ ন্য বইটির দুটি কবিতা এখানে দেওয়া হল। নির্বাসন এই নির্বাসন কিছুটা অনির্দিষ্টকালের পরিত্যক্ত নগরী যেমন বহতা নদী’র পারে জনপদ ফুরিয়েছে তার চেনা জলবায়ু, কাল ইতিহাস তত আর নিরাপদ নয়, আমাদের গম-রং বিকেলেরা চলে গেছে ওইখানে ভেসে। ফসলের গন্ধে ভরে ছিল একদিন ফেলে আসা নগরীর মাঠ অনেক অনেক দিনের কথা সে’সব এখন নিছক প্রত্ন-জিজ্ঞাসা কত নির্বাসন কেটে গেছে বিগত আশ্বিনের আলে অনির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল— একটি ট্রাম-কার যেখানে চলে গেল ইতিহাস চিরে। জন্মদিন তোমাকে গত শতাব্দীর মনে হয়। তোমার চুলের গন্ধ লেগে আছে, ভাঙ্গা চিরুনির আকাঙ্খায়। মৃত্যুর ঠিক আগে কিংবা পরে যখন তোমাকে বরণ করে নিচ্ছে কাল, তোমার তিরিশ বছরের যৌবন, আলগোছে রয়ে গেল হালকা আঙুলের ফাঁকে তুমি একটিবারও নিচু হলে না– তোমার আর প্রসাধনের প্রয়োজন নেই। এক মহাকাশ বৃষ্টিতে ঝাপসা শ্রাবণের শেষ দুপুর– গির্জার ভগ্নপ্রায় চূড়াটি তাও দৃশ্যমান, একটি জন্মদিন পেরিয়ে, নিরালা সন্ধ্যা আসে লেখনী থেমে গেলে, তুমি অপলক চোখে তিরিশ বছরের চেনা পৃথিবীকে দেখ। স্পর্ধিত তরুণ উপন্যাস, আর ভালো লাগে না তোমার। তাই উঠে চলে যাও অজানায়... একটি কাহিনী শুধু অমর প্রতীক্ষায়– তোমার ধারাবাহিক শব্দের রাশি, আমি চমকে ফিরে তাকাই একটি শতাব্দী দেরি হয়ে গেছে, পদশব্দ বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই আমাকে পৌঁছাতে হবে– তুমি দরজা খুলবে বলে।

  • ধুলোপথ বারুদপথ । শাশ্বত ব্যানার্জী | Manikarnika.Pub

    ধুলোপথ বারুদপথ। শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয় : কবিতা প্রচ্ছদ : শাশ্বত বন্দোপাধ্যায় পরিবেশক : মণিকর্ণিকা প্রকাশনী মূল্য : ₹ ১০০ যোগাযোগ (কল ও হোয়াটস্অ্যাপ) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির দুটি কবিতা এখানে দেওয়া হল। নির্ঘোষ শব্দের পাশে শব্দ বসে আগুন জ্বালায়, জ্বালায় রোষ তাদের মধ্যে শান্ত সেতু, ওই যে নীরব শঙ্খ ঘোষ দাঁড়-পাঁজরের ভীষণ আওয়াজ, জল-বাতাসের কী আক্রোশ আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ঢেউ ভেঙে যান শঙ্খ ঘোষ মধ্যরাত্রি, বর্বরতা – ফুরিয়ে আসছে অস্ত্রকোষ নিজের হাড়ে বজ্র গড়ে যুদ্ধে দিলেন শঙ্খ ঘোষ অবাক মুণ্ড হেঁট হয় না – রাজদ্রোহীর এই তো দোষ দ্রোহ যখন শরীর পেল, আমরা পেলাম শঙ্খ ঘোষ আসন যতই হোক না উঁচু, আসন তবু – আকাশ নোস্ সেই আসনেও ঘেরাও হবে, রাত জাগবেন শঙ্খ ঘোষ কবজাগুলোর কবজি ভাঙে তাই তো তাদের অসন্তোষ পোস্টারে ওই পঙ্ক্তিগুলোয় তাকিয়ে আছেন শঙ্খ ঘোষ চুল্লিগুলো উঠবে জ্বলে যতই পুলিশ, গুন্ডা পোষ তোমার দেহেই ফুঁ দিয়েছি, লড়াই শুরু – শঙ্খ ঘোষ! প্রসব (ঋণঃ উৎপলেন্দু চক্রবর্তী) শ্রাবণ শেষ হয়ে এল। কোথাও সানাই বাজছে খুব। বনের ধারে জনপদ, আর দু’চোখভরা ঘুম নিয়ে ঘন অন্ধকার বন। ভিজে গাছপালা, জোনাকিমহল্লার ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে ঘুরে ফিরছে নববিবাহের সুর সেই সুর এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে চোখ নীরক্ত উনুনের পাশে ভাসানপ্রতিমার মতো শ্বাসহীন নারী, তড়িৎহাতে কাঁধের ঝোলাখানা টেনে খিড়কিদুয়ার দিয়ে ঝোপেঝাড়ে মিলিয়ে যাচ্ছে অগ্নিশলাকা গাছপালা ছুঁয়ে ছুঁয়ে ওই সে হাঁটছে। শ্রাবণঅরণ্যের ছোঁয়া লেগে তার রুক্ষ হাতের পাতা যদিও কিছুটা নরম তবু, ভোল্গার তীর থেকে এক ডাক এসে সব ঘুম ভেঙে দিচ্ছে ওর দ্রুত, আরও দ্রুত – দিগন্তে ফুটে উঠছে আলো, আততায়ীর মতো এক ভোর সে এসে থামছে শহরকিনারে। এদিক ওদিক দুস্থ বাড়িঘর, উঠোনেই ঘুমিয়ে পড়েছে ধুলোয় ঢাকা ছেলে। শুধু এই ভোরবেলা বুঝি তাকেই আতিথ্য দেবে বলে হাজার পাতার মরকতচোখ মেলে ধরেছে এক ঝাঁকড়া বকুল তরুছায়ায় সে বসছে হাঁটু গেড়ে। বন্ধুর শহীদবেদীর পাশে তখন প্রতিশ্রুতির মতো কেঁপে উঠছে শিশিরসিক্ত ফুল! ধুলোপথ বারুদপথ তুমি কি ভিজে গেছ খুব? আজ কি হেঁটেছ মিছিলে? তুমিই কি দূর-থেকে-আসা কিশোরকে পথ বলে দিলে? এই প্রথম মিছিলে আসা। একাই। নন্দন চেনে না ও ছেলে তুমি কি যাওনি আজ, ভোর থেকে জল হল বলে? সেদিনও জলের মতো মাঝরাতে ঝরেছিল শতধারা খুন চিনতে পারোনি ঠিক, শোনো বলি – জল আজ আসলে আগুন দেখে নিল সঙ্গে কে কে আছে কার আছে বুকফাটা রাগ আর কে কাঁপে বৃষ্টিভয়ে, লুকোয় উল্কি আঁকা ক্রীতদাস-দাগ তুমি কি বসেছ ধুলোয়, বলেছ হোক হোক কলরব হোক অদূরে নিথর ক্ষমতাসীমা টানা – ত্রিস্তরে কাঁপছে শাসক এভাবে কি রোখা যায় আর, হে আদিম বুরবক সেনা শব্দ রুখতে পারো? রোখো তবে মেঘে মেঘে ক্রুদ্ধ চেতনা সে মেঘ বার্তা নিয়ে পৌঁছল দূরদেশে, সেই জলে বন্ধুরা বুঁদ আসতে পারেনি তবু রাত-জাগা – মনে মনে সবাই বারুদ! এসেছে গঞ্জ গ্রাম, এসেছে মফস্বল, ‘আছি’ বলে এসেছে সবাই যে আজ আসেনি সে-ও আগামীর রণে ভাববে একবার যাই তুমি কি রাজপথ, ছেলেরা বসবে শুনে ধুলোমাখা বুক পেতে দিলে? আজকে বর্ষা ঘোর, তবু জল নয় – গোটা দেশ ভিজেছে মিছিলে ... আসন ও-মেয়ে মাঠগ্রস্ত, ও-মেয়ে শুধুই ধুলােধর্ম বােঝে! নামাও। ভাঙো। ঘাের চুরমার করাে—তবে না সহজে থামাতে পারবে ওকে। বলবে, সেই ছেলেকালে আমরাও ছুটেছি অমন। সব জাড় ভেঙে দিকচক্রবালে ও কেন একাই ছুটতে ছুটতে উঠে যাবে? কেন এক অলীক পরশ ঊষালােক হয়ে রােজ ছুঁয়ে দেবে মুখ? খড়ের গাদায় একটিও দোষ খুঁজে পাও যদি, তােমার আমার পাশে ওরও হবে সমান আসন বুকের ভেতর ধিকিধিকি জ্বলে শুধু খড় তােমাকে আমাকে আজ নাচায়-ঘােরায়—আসলে তাে আসনের মন!

  • ব্যক্তিগত গদ্য-৪ | Manikarnika.Pub

    ব্যক্তিগত গদ্য হয়তো কবিতাই হয়ে ওঠবার কথা ছিল। কিংবা হওয়ার কথা ছিল এক দীর্ঘ নীরবতা। এই দুয়ের মাঝখানের পথ ধরে সৃষ্টি হয়েছে কিছু ব্যক্তিগত গদ্যের সংকলন। শুচিশ্রী রায় লিখেছেন ধ্রুপদী সংগীত ও ফেলে আসা জীবন নিয়ে। বাংলাদেশ ছেড়ে আসা এক বালকের বড়ো হওয়ার কথা অপূর্ব ভঙ্গিমায় লিখেছেন রাজা সরকার। আর অনুরাধা মহাপাত্রের 'আমমুকুলের গন্ধ'-এর মতো সার্থকনামা বই তো বাংলায় বিরল... সুবাসিত বিষাদেরা গান গায় শুচিশ্রী রায় ধ্রুপদী সংগীতকে ঘিরে দশটি ব্যক্তিগত গদ্যের এই সংকলন। আরও পড়ুন... আমমুকুলের গন্ধ অনুরাধা মহাপাত্র হলদি নদীর তীরের বসত ছেড়ে এক নারী চলে এসেছেন জনাকীর্ণ কোলকাতায়। ক্রমশ স্তরে স্তরে তার কাছে খুলে গেল জনপদের স্বরূপ, নিহিত স্পন্দন। আরও পড়ুন... বুদ্ধদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক মহামানবকে নিয়ে নানাসময় বড়ো যত্ন-শ্রদ্ধা-আশা ভরে লিখেছিলেন আর-এক মহামানব। দুজনের মাঝখানে আড়াই হাজার বৎসরকাল উর্মিময় সমুদ্র হয়ে আছে।... আরও পড়ুন... আঁতুড়ঘর রাজা সরকার ব্যক্তিগত গদ্য আরও পড়ুন...

  • Privacy Policy | Manikarnika.Pub

    Privacy Policy Your privacy is important to us. It is Manikarnika Prakashani's policy to respect your privacy and comply with any applicable law and regulation regarding any personal information we may collect about you, including across our website, https://www.manikarnikaprakashani.com/, and other sites we own and operate. This policy is effective as of 18 September 2021 and was last updated on 18 September 2021. Information We Collect Information we collect includes both information you knowingly and actively provide us when using or participating in any of our services and promotions, and any information automatically sent by your devices in the course of accessing our products and services. Log Data When you visit our website, our servers may automatically log the standard data provided by your web browser. It may include your device’s Internet Protocol (IP) address, your browser type and version, the pages you visit, the time and date of your visit, the time spent on each page, other details about your visit, and technical details that occur in conjunction with any errors you may encounter. Please be aware that while this information may not be personally identifying by itself, it may be possible to combine it with other data to personally identify individual persons. Personal Information We may ask for personal information which may include one or more of the following: Name Email Phone/mobile number Legitimate Reasons for Processing Your Personal Information We only collect and use your personal information when we have a legitimate reason for doing so. In which instance, we only collect personal information that is reasonably necessary to provide our services to you. Collection and Use of Information We may collect personal information from you when you do any of the following on our website: Use a mobile device or web browser to access our content Contact us via email, social media, or on any similar technologies When you mention us on social media We may collect, hold, use, and disclose information for the following purposes, and personal information will not be further processed in a manner that is incompatible with these purposes: We may collect, hold, use, and disclose information for the following purposes, and personal information will not be further processed in a manner that is incompatible with these purposes: to contact and communicate with you for security and fraud prevention, and to ensure that our sites and apps are safe, secure, and used in line with our terms of use Please be aware that we may combine information we collect about you with general information or research data we receive from other trusted sources. Security of Your Personal Information When we collect and process personal information, and while we retain this information, we will protect it within commercially acceptable means to prevent loss and theft, as well as unauthorized access, disclosure, copying, use, or modification. Although we will do our best to protect the personal information you provide to us, we advise that no method of electronic transmission or storage is 100% secure, and no one can guarantee absolute data security. We will comply with laws applicable to us in respect of any data breach. You are responsible for selecting any password and its overall security strength, ensuring the security of your own information within the bounds of our services. How Long We Keep Your Personal Information We keep your personal information only for as long as we need to. This time period may depend on what we are using your information for, in accordance with this privacy policy. If your personal information is no longer required, we will delete it or make it anonymous by removing all details that identify you. However, if necessary, we may retain your personal information for our compliance with a legal, accounting, or reporting obligation or for archiving purposes in the public interest, scientific, or historical research purposes or statistical purposes. Children’s Privacy We do not aim any of our products or services directly at children under the age of 13, and we do not knowingly collect personal information about children under 13. International Transfers of Personal Information The personal information we collect is stored and/or processed where we or our partners, affiliates, and third-party providers maintain facilities. Please be aware that the locations to which we store, process, or transfer your personal information may not have the same data protection laws as the country in which you initially provided the information. If we transfer your personal information to third parties in other countries: (i) we will perform those transfers in accordance with the requirements of applicable law; and (ii) we will protect the transferred personal information in accordance with this privacy policy. Your Rights and Controlling Your Personal Information You always retain the right to withhold personal information from us, with the understanding that your experience of our website may be affected. We will not discriminate against you for exercising any of your rights over your personal information. If you do provide us with personal information you understand that we will collect, hold, use and disclose it in accordance with this privacy policy. You retain the right to request details of any personal information we hold about you. If we receive personal information about you from a third party, we will protect it as set out in this privacy policy. If you are a third party providing personal information about somebody else, you represent and warrant that you have such person’s consent to provide the personal information to us. If you have previously agreed to us using your personal information for direct marketing purposes, you may change your mind at any time. We will provide you with the ability to unsubscribe from our email-database or opt out of communications. Please be aware we may need to request specific information from you to help us confirm your identity. If you believe that any information we hold about you is inaccurate, out of date, incomplete, irrelevant, or misleading, please contact us using the details provided in this privacy policy. We will take reasonable steps to correct any information found to be inaccurate, incomplete, misleading, or out of date. If you believe that we have breached a relevant data protection law and wish to make a complaint, please contact us using the details below and provide us with full details of the alleged breach. We will promptly investigate your complaint and respond to you, in writing, setting out the outcome of our investigation and the steps we will take to deal with your complaint. You also have the right to contact a regulatory body or data protection authority in relation to your complaint. Limits of Our Policy Our website may link to external sites that are not operated by us. Please be aware that we have no control over the content and policies of those sites, and cannot accept responsibility or liability for their respective privacy practices. Changes to This Policy At our discretion, we may change our privacy policy to reflect updates to our business processes, current acceptable practices, or legislative or regulatory changes. If we decide to change this privacy policy, we will post the changes here at the same link by which you are accessing this privacy policy. If required by law, we will get your permission or give you the opportunity to opt in to or opt out of, as applicable, any new uses of your personal information. Contact Us For any questions or concerns regarding your privacy, you may contact us using the following details: Manikarnika Prakashani manikarnika.pub@gmailcom 8240333741

  • Prebk : Sorjon | Manikarnika.Pub

    সর্জন । পল্লব দাস বুক করুন ২৫% ছাড়! Book Now মুদ্রিত মূল্য : ₹ ২০০ ডিসকাউন্ট মূল্য : ₹ ১৫০ শিপিং : ₹ ৬৫ প্রচ্ছদ : শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মণিকর্ণিকা প্রকাশনী Call & WhatsApp : 8240333741 Book Now কোভিডকালে অনেকের মতোই ঘরবন্দী হয়ে পড়েন মিহির। এই সময়কালে তার মধ্যে ছবির মতো ভেসে উঠতে থাকে অতীতকালের চরিত্ররা। বাবা, মা, ঠাকুমা, বন্ধু, গোল্ডস্পট, বিগফান- একটা একটা করে ঘটনার ছবি সংগ্রহবাক্সে জমাতে শুরু করেন মিহির। একদিন সেই বাক্সের ঢাকনা খুলে পি সি সরকারের ওয়াটার অফ ইন্ডিয়ার মতন টান দিলেন সংগ্রহের ছবিগুলির কোণা ধরে। জলের মতন পড়ার বদলে তারা ঘুরতে লাগল হাওয়ায়, তার চারপাশে। প্রতিটি জীবন্ত ছবি, সিনেমার মতন। তিনি কলমের খোঁচায় একটি করে গেঁথে আটকে দিতে থাকেন খাতার পাতায়। এক একটি ছবি হয়ে যায় শব্দের রাশি। শব্দ দিয়ে তৈরি হয় একটার পর একটা গল্প— তার নিজের গল্প। মিহিরের গল্প। মিহির জানেন, এসবই তার জীবন, তার অতীত, তার বর্তমানজুড়ে লেখা। এ বই আসলে আয়নার মতন।

  • নন-ফিকশন্‌-৩ | Manikarnika.Pub

    নন-ফিকশন খুব গুরুত্বসহ নন-ফিকশন বই প্রকাশ করে মণিকর্ণিকা। অনুপুঙ্খ সম্পাদনার পর জন্ম নেয় এক-একটি বিষয়ভিত্তিক বই; পরিবেশনার ভঙ্গিমায়, ভাষায় তারা যে কোনো পাঠকেরই আনন্দলাভ হয়ে ওঠে। পড়ুন তিব্বতের ইতিহাস সরস কলমে, পড়ুন তথাগতের বুদ্ধজীবনের আশ্চর্য কথা সুন্দর ও নরম গল্পে-কথায়... নমো তস্স কৌশিক সরকার বুদ্ধজীবনকথা... আরও পড়ুন... উত্তরে আছে মৌন সৈকত ভট্টাচার্য নীরব এক বরফ-মোড়া দেশের নাম তিব্বত। ভারতবর্ষের চূড়ায় এই ভূখণ্ডের ইতিহাস বন্ধুর ও রহস্যময়; আরও পড়ুন... বুদ্ধদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক মহামানবকে নিয়ে নানাসময় বড়ো যত্ন-শ্রদ্ধা-আশা ভরে লিখেছিলেন আর-এক মহামানব। দুজনের মাঝখানে আড়াই হাজার বৎসরকাল উর্মিময় সমুদ্র হয়ে আছে।... আরও পড়ুন...

  • Services | Manikarnika.Pub

    আমাদের পরিষেবাগুলি Our Services আমাদের বইপত্র গবেষণাপত্র থেকে বই নিজব্যয়ে বইপ্রকাশ Our Books Self-Funded Publication From Thesis to Title Buy Our Titles! The Journey Journals বইয়ের দোকান ডায়েরি সংগ্রহ

  • সাবর্ণিজাতক । রক্তিম মুখার্জি | Manikarnika.Pub

    সাবর্ণিজাতক । রক্তিম মুখার্জি বিষয় : উপন্যাস প্রচ্ছদ : ঋভু চৌধুরী । শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় অলঙ্করণ : ঋভু চৌধুরী প্রকাশক : মণিকর্ণিকা মূল্য : ₹ ২২৫ যোগাযোগ (Call or WhatsApp) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির একটি অংশ এখানে দেওয়া হল। মুখবন্দনা সাবর্ণিজাতক। অর্থাৎ সাবর্ণির জন্মকথা। সাবর্ণি কে? সূর্যের শক্তি সবর্ণার পুত্র। তিনি কোনো অপ্রাকৃত দেবতা নন, বরং পৃথিবীরই এক বিশেষ ব্যক্তি যিনি ওই পদে উন্নীত হয়েছিলেন। কে সেই ব্যক্তি? রাজা সুরথ। শ্রীশ্রীচণ্ডী, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, দেবীভাগবত প্রভৃতি গ্রন্থে আমরা তাঁর কথা পাই। পুরাণ অনুযায়ী তিনি স্বারোচিষ মন্বন্তরের সময়কালে জীবিত ছিলেন। আধুনিক গণনায় সময়টা তাম্রাশ্ম যুগ, যখন প্রস্তরযুগ শেষ হয়েছে। প্রথম সভ্যতার নির্মাণ শুরু করেছে মানুষ। তামা ও পাথরের অস্ত্রই সেই সভ্যতা নির্মাণের উপকরণ। কিন্তু দ্বেষ, ক্রুরতা, নীচতা, মহত্ত্ব, মৈত্রী, প্রীতি এই সমস্ত চিরন্তন দোষ ও গুণাবলি সে সমাজে ছিল আজকের মতোই। আর ধর্মভাবনায় বীজরূপে নিহিত ছিল মাতৃভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা। আজ যেমন আমরা দেশের মাটিকে মা বলে জানি, সেই যুগের মানুষ তেমনি মায়ের মধ্যে দেশকে খুঁজে পেতেন। সুপ্রাচীন এক প্রত্নসভ্যতার চিহ্ন বুকে নিয়ে বীরভূমের সুপুরে আজও রয়েছে সুরথ রাজার ঢিবি। সেই ধূসর অতীতের বাঙালি রাজার জীবনের কিছু দৃশ্যপটের মধ্য দিয়ে তাঁর সাবর্ণিরূপে নবজন্মের তাৎপর্য অনুধাবনের চেষ্টাই এই উপন্যাসের উপজীব্য। পুরাণ অনুযায়ী সুরথই প্রথম পৃথিবীর বুকে মাতৃকার উপাসনাকে বহুল প্রচলিত করে তুলেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মহাবৈশ্য সমাধি। এ হল সমাজের রাজশক্তি ও বণিকশক্তির আশ্চর্য সমন্বয়। ঠিক রূপকথার গল্পের মতো। কিন্তু সে গল্প বারবার আমাদের আকর্ষণ করে চিরকালীন এক সত্যের দিক। সেই সত্যটি হল: নিজের শিকড়কে, নিজের উৎসকে অগ্রাহ্য করলেই অন্ধকারের আগমন ঘটে জীবনে¾ হোক সে জীবন ব্যক্তিগত কিংবা জাতীয় জীবন। মূলে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই সমস্ত জাতি তার গৌরবের শিখরে আরোহণ করেছে। সুরথের এই কাহিনিও মূল হারিয়ে আবার মূলে প্রত্যাগমনের কাহিনী। সুপ্রাচীন এক মাতৃকা উপাসক জাতির দুর্গানাম অবলম্বন করে পরাধীনতার শাপমোচনের গল্প। এখানে কল্পনা আছে, তথ্য আছে, আছে কিছু বার্তা। সহৃদয় পাঠকের কাছে সে বার্তা পৌঁছে দিতে পারাই আমার শ্রমের সার্থকতা। রক্তিম মুখার্জি

1111-removebg-preview.png

গল্পের বই উপহার পেতে কে না চায়!
এখনই Subscribe  করুন,
আর পেয়ে যান আপনার প্রথম বইটির মূদ্রিত মূল্যের ওপর ২৫% ছাড় 

Thanks for being our family!

  • Youtube
  • pngwing.com
  • 1111
  • tumblr
  • Instagram LOGO PNG2

+91 8240333741

Magic Seeds Books LLP

119 Abhay Patuli Lane, Shuksanatantala, Chandannagar 712136

Email us at: manikarnika.pub@gmail.com

For any other queries feel free to reach us at: 8240333741(Call/Whatsapp)

©2022 by Manikarnika Prakashani.

bottom of page