এক পুঁচকে কালো মাছের গল্প

মূল গল্প : সামাদ বেহরাঙ্গী

অনুবাদ : সৈকত ভট্টাচার্য

বুক করুন
২০% ছাড়!

‘এক পুঁচকে কালো মাছের গল্প’ – বইটি সামাদ বেহরাঙ্গির ‘দ্য লিটিল ব্ল্যাক ফিশ’-এর অনুবাদ। এই অনুবাদটি করেছেন লেখক সৈকত ভট্টাচার্য্য। মূল বইটি একটি রাজনৈতিক রূপক। বইটি দীর্ঘদিন ইরানে নিষিদ্ধ ছিল।

 

একটি বৃদ্ধ মাছ, তার সমস্ত সন্তান, নাতি-নাতনিদের গল্প শোনাচ্ছে। স্থানীয় স্রোতের নিরাপত্তা ছেড়ে কিভাবে একটি কালো মাছ নিজের উদ্যমে বিশ্বের বিরাট স্রোতের মধ্যে এসে পৌঁছয়, তার গল্প। একটি জলপ্রপাতের নিচ থেকে নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর সমুদ্রের দিকে যাত্রা করে কালো মাছ। সেই পথে দেখা হয় টিকটিকি এবং ভয়ংকর পেলিকানসহ বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় চরিত্রের সঙ্গে। প্রখর বুদ্ধি এবং সাহস থাকলে যে অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করা যায়, সেই গল্পই শুনিয়েছেন বৃদ্ধ মাছ। কালো মাছটি নিজেই সমস্ত মাছেদের জন্য  এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল।

Ek punchke Kalo machher golpo_edited.jpg

মুদ্রিত মূল্য : ₹ ২০০ 

ডিসকাউন্ট মূল্য : ₹ ১৬০

শিপিং : ₹ ৫৯

প্রচ্ছদ : শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

মণিকর্ণিকা প্রকাশনী

Call & WhatsApp : 8240333741

বিশাল সমুদ্রের একদম তলায় ছিল এক খুনখুনে বুড়ি মাছ। বারো হাজার ছানাপোনা, নাতি-নাতনিদের নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। শীতের বেজায় লম্বা রাতগুলোতে যখন অন্ধকারের কালো চাদর ঢেকে রাখত চারদিক, বুড়িকে ঘিরে সবাই মিলে বসত গল্প শুনতে। এমন এক রাতে বুড়ি গল্প বলছিল:

 

অনেক অনেক দিন আগের কথা। একটা ছিল মস্ত বড়ো পাহাড়।  আর সেই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ছিল একটা ছোট্ট পুকুর। পুকুরের জলে থাকত একটা পুঁচকে কালো মাছ আর তার মা। শ্যাওলাধরা একটা কালো বড়ো পাথরের তলায় ছিল মা-মেয়ের ঘর। পুঁচকে মাছটা ওই পাথরের তলায় শুয়ে অপেক্ষা করে থাকত কবে তাদের ঘরে এক চিলতে চাঁদের আলো এসে পড়বে। সকাল থেকে সন্ধে অবধি মায়ের পিছন পিছন এদিক ওদিক সাঁতার কেটে দিন কাটত তার। মাঝে মাঝে আশপাশের অন্য মাছের দলের সঙ্গ জুটে যেত। সবাই মিলে হইহই করে পাথরের ফাঁক ফোকর দিয়ে চলত সুড়ুৎ সুড়ুৎ সাঁতার। পুঁচকে কালো মাছটা ওর মায়ের একমাত্র মেয়ে। আরও প্রায় দশ হাজার ভাইবোনের সঙ্গে ডিম ফুটে জন্মেছিল সে। কিন্তু ও ছাড়া বাকি আর কেউ বাঁচেইনি।

 

 কিছুদিন ধরেই পুঁচকে মাছ বেশ চুপচাপ। গম্ভীর হয়ে মায়ের পিছনে আস্তে আস্তে ঘুর ঘুর করে বটে, কিন্তু অন্য বন্ধুবান্ধবদের বিশেষ পাত্তা-টাত্তা দেয় না। তাদের সঙ্গে খেলছেও না আজকাল। মা ভাবল মেয়ের বুঝি শরীরটা ভালো নেই। ঠিক হয়ে যাবে শিগগিরই। কিন্তু আসলে যে সমস্যাটা অন্য জায়গায় সেটা তার মা ভাবতেও পারেনি।

     একদিন সক্কালবেলা যখন সূয্যিমামারও ঘুম ভাঙেনি, ছোট্ট মাছ ঘুম থেকে উঠে মাকে ঠেলা দিয়ে ডেকে বলল, মা, শুনছ? তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।

     মায়ের তখনও পুরো ঘুম ভাঙেনি। ঘুম জড়ানো গলায় জিজ্ঞেস করল, কী আবার কথা? এই সক্কাল সক্কাল? তার চেয়ে বরং চল আমরা এক পাক সাঁতার কেটে আসি।

     না, মা। আমি সাঁতার কাটতে যাব না। আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি।

     চলে যাচ্ছিস?

     হ্যাঁ। আমায় যেতেই হবে।

     কোথায় যাবি তুই? এই সাত সকালে?

     এই পুকুর থেকে বেরিয়ে জলের ধারাটা বয়ে কোথায় যায় আমি দেখতে যাব। জানো মা, আমি ভাবার চেষ্টা করছিলাম যে এই এত জল সব যায় কোথায়? ভেবে ভেবে সারারাত ঘুমাইনি। কিন্তু কিছুই ভেবে পেলাম না। তাই আমি বেরিয়ে পড়ব ঠিক করেছি—এই পুকুরের জল বের হয়ে কোথায় যায়, সেটা দেখতে চাই। আরও অন্য অন্য জায়গা দেখতে ইচ্ছে করে, বাইরের দুনিয়ায় কী কী হয় সেইসবও জানতে ইচ্ছে করে আমার।...