Search Results
91 results found with an empty search
- ছায়ানট । অপ্রতিম চক্রবর্তী | Manikarnika.Pub
ছায়ানট । অপ্রতিম চক্রবর্তী বিষয় : প্রবন্ধ প্রচ্ছদ : শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মণিকর্ণিকা প্রকাশনী মূল্য : ₹ ২৮০ যোগাযোগ (Call or WhatsApp) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির একটি অংশ এখানে দেওয়া হল। শরৎ হয়ে এলে ফিরে তবু এখনও ছায়ারা বড়ো হয় বিকেল হলে। এমনকি এই মধ্য-শরতেও। বেলেমাটি নয়, গন্ধকের গুঁড়োর ভিতর থেকে, শিকড়ে বীজসূ ভূগোলকের মুগ্ধতা নিয়ে, বহুপর্ণী অ্যাকেসিয়ারা বেড়ে ওঠে উৎসব মাখা এই ছায়াদ্বীপে। এ এক মায়ামৃগকাল যেন— সংকটের অবসান; চারিদিকে আশ্বিনের গোপন আলো ভেসে বেড়ায়— সম্ভ্রান্ত আকাশ যেন অপেক্ষমাণ থাকে। পুরোনো আলোর গন্ধমাখা সময়ের আবডালে লুকিয়ে থাকা অকালবোধনের শীত-ঋতু, ছন্দময় উপস্থিতি আজকের মানুষের কাছে এক ধরনের শ্রুতিবিশোধন। বিগত-শরতের আকাশ তখন শস্যাভ সুসময় হয়ে নেমে আসে আজকের এই নগণ্য নগরীদের বুকে। অনুযাপন-সম উজ্জ্বল তাদের বৈভব, এক-এককেকটি অন্তর্ধান বিন্দু। যা কিছু জীর্ণ, মলিন— যায়, শরৎ আসে। আসে পুজো। পুজো আসে বইয়ের পাতায়, নতুন গল্পের গন্ধ বয়ে। পুজো আসে রোদের রং বদলের খবর নিয়ে। সেই পুজোকেই খুঁজি আমরা যা এনে দেয় হাওয়াবদল। বিজ্ঞাপনের বাদ্যে নয়, সংবাদ মাধ্যমের বিপণনে নয়, এমনকি ক্যালেন্ডারের অঙ্গুলিনির্দেশেও নয়— পুজো আসে তার নিজের সময়ে— কোপাইয়ের তীরে বসে থাকা বাউলের নির্লিপ্ত সুরে কিংবা সোনাঝুরির খোয়াই বাতাসের প্রেমালাপে; হয়তো তখনও গাওয়া হয়নি বর্ষাবিদায়— হয়তো কখনও লক্ষ্মীপুজোর তিথিপার করে বেলাশেষে এসে হাজির হয় দীপাবলির ঠিক আগে। আসলে সাদা মেঘের দম্ভ মেখে আলসে বেড়ালের মতো পাঁচিলের উপর শুয়ে থাকে ওই যে কাঁচা হলুদ রোদ— সেই তো পুজোর বাহন— দোলা, ঘোটক— ওসব একেবারে বানানো গল্প। বরং সঙ্গে বাহন হিসেবে আসে পুজোর ছবি। অবশ্য ঠিক কাকে বলে ‘পুজোর ছবি’¾ তা নিয়ে প্রতর্ক চলতেই পারে। সেভাবে সংজ্ঞা-নির্ধারণ সত্যই কঠিন। উৎসবের শরীরে এক বহুমাত্রা ধরা থাকে সবসময়ই। আদিগন্ত জুড়ে বাঙালির স্মৃতির পর্দায় একের পর এক ছায়াছবি— কোথাও পুজোর প্রত্যক্ষ উদযাপন, কোথাও বা তার উপস্থিতি কাহিনির প্রেক্ষাপট রূপে। সত্যি বলতে পুজোর সঙ্গে পুজোর ছবির অনুষঙ্গ এতই নিবিড় যে বহু বাণিজ্যিক ছবি প্রতি বছর দুর্গোৎসবকেই করে তোলে বিপণনের কেন্দ্রবিন্দু। তবে সেসব ছবি আপাতত সরিয়ে রেখে আমরা ফিরে দেখব এমন কিছু চলচ্চিত্র— পুজো এলেই কোনো না কোনো ভাবে যারা চলতে থাকে মাথার ভিতরে। পুজো বলতে প্রথমেই মনে আসে নীল সাদা আকাশের নীচে সাদা কাশের হিল্লোল, আর চকিতে চোখে ভেসে ওঠে দুটি বালক-বালিকার ছুটে যাওয়া কাশ আর আকাশ মিশে যাওয়া এক সুদূর প্রান্তরে; দিকচক্রবালে অচিনপুরের খবর আনা প্রথম রেল। সেই মুহূর্তই কি হয়ে ওঠে না মহালয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ? ‘পথের পাঁচালি’র অন্য দৃশ্যেও দুর্গাপুজো আছে, তবে সেখানেও রেলগাড়ির মতোই দেবীপ্রতিমাকে আমরা দেখি প্রধানত অপরের চোখের আলোয়—ঢাকিদের বাজনায়, ছোটোদের উন্মুখ ছুটে যাওয়ায়, মা-র প্রশ্রয়মাখা হাসিতে, সবার সঙ্গে প্রসাদ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দে। প্রকৃতপক্ষে পঞ্চভূতই যেন হয়ে ওঠে এক বিপুল দর্পণ যেখানে একাধারে প্রতিবিম্বিত হয় আমাদের সকলের অমল শৈশব, পুজোমাখা শারদ আলোয়। এভাবেই সত্যজিতের অন্যান্য ছবিতেও পুজো আসে অন্য চরিত্রে ব্যাপ্ত হয়ে। ফলত ‘নেই পুজো’ও হয়ে ওঠে ‘আছে পুজো’র ছবি। সেই যখন ‘সোনার কেল্লা’য় হাওড়া ষ্টেশন থেকে ছেড়ে যাছে ট্রেন, ফেলুদা আর তোপসের উজ্জ্বল চোখের তারায় যাত্রা শুরুর খুশি, তখন, ঠিক তখনই বেজে ওঠা বিখ্যাত ফেলুদা থিম মনের মধ্যে হয়ে ওঠে না কি পুজো শুরুর ঢাক-বাদ্যি? কিংবা ‘আগন্তুক’ ছবিটির কথা যদি ভাবি— পুজোর কোনো দৃশ্য সেখানে নেই, কিন্তু উল্লেখ আছে। আর সেই পুজো-আবহে ‘অচেনা’ আগন্তুকের আসা ও তাঁর ‘চেনা’ অতিথি রূপে ফিরে যাওয়া— একেও কি এক সাবেকি অর্থে করে তোলে না পুজোর ছবি? রূপসাগরে ডুব দিয়ে অরূপরতনের খোঁজে ফেরা বোহেমিয়ান ‘সিনেফিল’ মন, ‘সভ্য’-ও-‘অসভ্য’-র দ্বন্দ্বের মাঝে, এক পরাবাস্তব বাইসনের তিতীর্ষু, পিঙ্গল ও প্রাগৈতিহাসিক চিত্রকল্পকে আবিষ্কার করে কলকাতা নামক এক উপদ্বীপের ম্যারাপ বাঁধা পুজো-প্রস্তুতির প্রথাগত প্রেক্ষাপটে— ঠিক তখনই নেপথ্যে বেজে ওঠে এক তমোঘ্ন বীণার সুর— ‘কাহার’—সে অনুভব অলৌকিক। সকলেরই আছে ব্যক্তিগত ঈশ্বরীর খোঁজ। ‘নায়ক’ ছবিতে প্রতিমা-বিসর্জনের দৃশ্য জীবনের নশ্বরতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় নায়ক অরিন্দমকে— একটি আকস্মিক মৃত্যুকে সাক্ষী করে, একই সঙ্গে পুরোনো অরিন্দমেরও কি মৃত্যু ঘটে না? ‘একটাই লাইফটাইম, একটাই চান্স’—এই উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গে শঙ্করদার চিতার আগুনে সে বিসর্জন দেয় সাবেকি মূল্যবোধ, পুরোনো গ্রন্থি ছিঁড়ে সে যাত্রা শুরু করে—মহা-নায়কোচিত উত্থানের সিঁড়ি বেয়ে। ঋত্বিক ঘটকের নানা ছবিতেও পুজোর উপস্থিতি স্বকীয়তায় ভরা। ‘মেঘে ঢাকা তারা’-য় নীতা যখন প্রথম টের পায় তার শরীরে মারণব্যধির থাবা, সেই ত্রস্ত অসহায় মুহূর্ত জুড়ে বেজে ওঠে মেনকার আকুল আহ্বান— ‘আয় গো উমা কোলে লই’— আগমনীর সঙ্গে বিজয়ার সুর এভাবে মিলেমিশে একাকার হতে আগে কখনও শুনেছি কি আমরা? ছবির শেষে হিমালয়ের কোলেই নীতার অন্তিম আশ্রয় যেন গিরিতনয়ার ঘরে ফেরার ঈঙ্গিত বয়ে আনে। আবার ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’য় দেবীর আবাহন ঘটে ছৌনাচের মধ্য দিয়ে। দেবী সেখানে ধূলিধূসরিত মানবীরই অন্য মুখ। পটুয়ার কাছে তিনি লৌকিক মা। সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিতের দেবিস্তোত্র থামিয়ে দিয়ে সে বলে— ‘তোমার এই অং বং বন্ধ রাখো দেখি।’ তারপর দেবীর মুখোশের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে সদর্পে বলে, ‘আমার মা। ঘরের মা।’ জ্ঞানী যখন দেবীকে বলে ‘পঞ্চভূতে ব্যাপিকা শক্তি’, সে নিঃসংশয়ে বলে, ‘শক্তি-ফক্তি বুঝি নাই। মা।’ তার্কিক যখন পুরাণের তত্ত্বকথা শোনাতে চায় সে বলে, ‘পুরাণ-টুরাণ কী? নূতন। মা আবার পুরাণ হল কবে?’ এমন অপরূপ দেবীবন্দনা ঋত্বিক ঘটকের হাতেই সম্ভব। অনেক ছবিতে আবার পুজোই কাহিনির অন্যতম চরিত্র হয়ে উঠেছে। যেমন ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’। প্রতিমা নির্মাণের স্তরে স্তরে এখানে দানা বেধে ওঠে রহস্য। বহুমূল্য গণেশমূর্তির অন্তর্ধান, মগনলালের হাতে লালমোহনবাবুর লাঞ্ছনা এবং সবশেষে বৃদ্ধ প্রতিমা শিল্পীর হত্যা ফেলুদার উপস্থিতির ঔজ্জ্বল্যকেও যেন সাময়িক রাহুগ্রস্ত করে রাখে। অবশেষে ফেলুদার হাতে মগনলালের পরাজয়ের মুহূর্তে যখন নির্ভুল লক্ষে ছুটে যাচ্ছে একটার পর একটা গুলি, পর্দা জুড়ে গমগম করছে— ‘যারা গুন্ডা দিয়ে নিরীহ লোককে খুন করায়, যারা টাকার লোভে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে তার টাকা দিয়ে রেহাই পাবে না...’ সেই কি নয় অসুরনিধনের মাহেন্দ্রক্ষণ? লক্ষণীয়, সেদিন বিজয়া দশমী। বিসর্জন অবশ্য ঘটে মগনলালের— তাই বিনির্মাণের এ এক অপূর্ব সন্দর্ভও বটে। অতএব, শিশুকাল থেকে ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ হয়ে ওঠে পুজোর ছবির রাজা। মন্ত্রী বলতে মনে পড়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘হীরের আংটি’। ছবির শুরুতে রেডিওতে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র বহুপরিচিত সুর এক নিমেষে সৃজন করে মহালয়ার ভোর। নির্মীয়মাণ প্রতিমার সামনে মৃৎশিল্পী ও হাবুলের আলাপচারিতায় সত্যজিতের স্পষ্ট প্রভাব। এই ছবিতেও দৃশ্যের পর দৃশ্য জুড়ে শরতের অপূর্ব প্রকৃতি আবিষ্ট করে রাখে। এখানেও আছে রহস্য, অপরাধ এবং প্রতারণার চক্রান্ত। আছে ষষ্ঠীর মতো মজাদার চোর, পাঁচুর মতো অনুগত ভৃত্য, হাবুল আর তিন্নির মতো দুটি অমল বালক-বালিকা, আর আছে রহস্যময় গন্ধর্বকুমার আর তার সাগরেদ শ্বেত ও লোহিত। কিন্তু শেষ অবধি ভালো মানুষদের জিতে যাওয়া এবং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত পুজোর অঞ্জলিদানে এটি হয়ে ওঠে এক অপরূপ স্বপ্নপূরণের গল্প। গোটা ছবি জুড়ে আগমনীর সুর আর শেষে সম্মিলিত প্রসাদপ্রাপ্তির দৃশ্যে বৃত্তসম্পূরণ— পুজোর ছবি হিসেবে এটিকে বড়ো প্রিয় করে তোলে। সাম্প্রতিককালে আর-একটি ছবিতেও পুজোর উদযাপন চমৎকার লাগে, সেটি ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’। এখানেও কাহিনির পরতে পরতে দুর্গাপূজার উপস্থিতি। আগমনী থেকে বিজয়া জুড়ে গানে গানে ছড়িয়ে থাকে গুপ্তধনের সঙ্কেত আর দেবীর চালচিত্রে লুকিয়ে থাকে গোপন মানচিত্রটি। তিনটি ঝকঝকে তরুণ-তরুণীকে নিয়ে তৈরি এই দ্বিতীয় ছবিতে নয়নলোভন শরতের রূপ ছোটবেলায় পড়া পূজাবার্ষিকীর সুঘ্রাণ মনে আনে। বাংলাছবি না হলেও একটি ছবিতে পুজোর অনুষঙ্গ সুপ্রযুক্ত মনে হয়, সেটি ‘কাহানী’। সিনেমাটির নানা দৃশ্যে বারবার উঁকি দেয় পুজোমুখর কোলকাতা। তবে শুধু সেই কারণে একে পুজোর ছবি বলছি না। এই কাহিনির অন্তিমপর্বে দশমীর অপরাহ্ণে একা একটি মেয়ের প্রবল প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে অশুভশক্তির বিনাশ অসুরদলনী দেবীর কথাই মনে করায়। অন্য কোনো উৎসবের আবহে এই এফেক্ট তৈরি হতো না। এছাড়াও আছে এমন অনেক ছবি যেখানে পুজোকে ব্যবহার করা হয়েছে কাহিনির প্রেক্ষাপটে। মূল ঘটনা-পরম্পরার সঙ্গে তার সম্পর্ক আধার ও আধেয়ের। যেমন ধরা যাক অপর্ণা সেনের ‘পরমা’। এখানে দেবীবরণের মধ্যে দিয়ে পরমা চরিত্রটির উপস্থাপনা তার কল্যাণময়ী গৃহলক্ষ্মীরূপটির পরিচয় আনে। কিন্তু কাহিনির ক্রমোন্মচনের সঙ্গে সঙ্গে তার চরিত্রেও ঘটতে থাকে বিবর্তন। তার স্বাতন্ত্রকামী আত্মার নবজাগরণ ঘটে অপ্রত্যাশিত প্রেমের হাত ধরে। তার আত্মানুসন্ধান এ ছবিকে করে তোলে নারীবাদের দর্পণ। কোথাও কি দেবীর বহুধাবিভক্ত রূপরাশির বার্তাই বয়ে আনে না এই আত্মবিনাশে উদ্যত নারীর নিজের সঙ্গে বাঁচতে শেখার অন্তিম লড়াই? ঋতুপর্ণের ‘উৎসব’ জুড়েও পুজো মিশে থাকে কাহিনির অঙ্গে অঙ্গে। যদিও এটি মূলত পারিবারিক পুনর্মিলনের ছবি, তবু দুর্গোৎসবকে ঘিরেই তা আবর্তিত। প্রায় প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব সুখ-দুঃখ, মান-অভিমান, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির নীরব শ্রোতা হয়ে জেগে থাকে একচালার সাবেকী প্রতিমা। তারপর, অনেক টুকরো টুকরো বলা ও না বলা কথার চূর্ণ ছড়িয়ে সকলেই যখন ফিরে যায় স্বভূমে, পড়ে থাকে শূন্য নাটমণ্ডপে সন্ধ্যাদীপের আলোআঁধারী। বিসর্জনের শোভাযাত্রার আলোর নরম কৌলীন্যে মিশে যায় দুটি শরীরের অরূপ-আবাহনের স্মরণীয় সংলাপ: ‘বেসিক এলিমেন্টটা তো এক। খড় আর বাঁশটা বাদ দিলে বাকি থাকে জল আর মাটি, সেই জল আর মাটি দিয়ে ঠাকুর গড়ে, আবার ভাসান দিলে জল আর মাটি হয়ে যায়। কন্সট্রাকশন, ডিকন্সট্রাকশন, কন্সট্রাকশন, ডিকন্সট্রাকশন...’ এভাবেই কিছু ছবিতে পুজো তৈরি করে ঘটনার প্রেক্ষিত। যেমন ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ কিংবা পরবর্তী কালে ‘জাতিস্মর’ ছবিতে পুজোর আবহেই জমে ওঠে কবির লড়াই এবং অবশেষে কাহিনির ট্র্যাজিক পরিসমাপ্তি। সত্যজিতের ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি আবার একদম অন্য এক পুজোর গল্প বলে যেখানে ভক্তই হয়ে ওঠে দেবীর নির্মাতা, আর এই আরোপিত দেবীনির্মাণের অভিঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এক তরুণ দম্পতির সহজ মানবিক জীবনধারা। মন্দিরে দেবী-মানবীর দ্বৈত আলোকে শর্মিলা ঠাকুরের আত্মমগ্ন বসে থাকা, আর আবহে ঘুরে ঘুরে আসা শ্যামাসংগীতের সুর— ‘নূতন রূপে নূতন বেশে শ্যামা মায়ে দেখ এসে’— এ এক অন্যরকম দেবীবন্দনা। তবে শুরু থেকে শেষ অবধি অসংখ্যবার পুজো প্রসঙ্গ এলেও ঋতুপর্ণের ‘অন্তরমহল’কে পুজোর ছবি বলে ভাবতে পারি না। কারণ পুজো এখানে স্বমহিমাচ্যুত এবং দাম্ভিক জমিদারের রাজানুগ্রহ লাভের বিকৃত চেষ্টার উপলক্ষ মাত্র। যে ছবিটির উল্লেখ আলাদা করে এই লেখায় না করলেই নয়, সেটি সাম্প্রতিক— ‘উমা’। এই চলচ্চিত্রের কাহিনি অবশ্য বাস্তব-অনুপ্রাণিত। কানাডার অন্টারিওতে অবস্থিত সেন্ট জর্জ শহরে বসবাসরত ইভান লিভারসেজের জীবন এই ছবির নেপথ্য। সাত বছর বয়সি লিভারসেজ ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সালে এই পৃথিবী থেকে চলে যায়। এর বেশ কিছু মাস আগে থেকেই দূরারোগ্য রোগে ভুগতে থাকা এই শিশুটির মা, তার জন্য শেষ-বড়োদিন আয়োজন করেছিলেন আগেভাগেই— অক্টোবর মাসে— শহরের সব বাসিন্দাদের সমর্থন ও সাহায্যে। ‘উমা’-র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় এই আশ্চর্য ঘটনা থেকেই ছবির অনুপ্রাণ সংগ্রহ করেন। ছবির বয়নে কিছু ত্রুটি সত্ত্বেও, এ এক অপরূপ অকালবোধনের ছবি। দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত বালিকার পুজো দেখার অন্তিম ইচ্ছাপূরণে এক পিতৃহৃদয়ের অতিলৌকিক লড়াই। ক্রমে ক্রমে এই অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রয়াসে সমবেত হয় আরও অনেক অনেক মুখ। এ যেন সকল দেবতার তেজ-রাশি সম্ভূতা মহাদেবী-সৃজনের এক সমান্তরাল কাহিনি। চরিত্রদের নামকরণেও তারই স্পষ্ট ঈঙ্গিত। উমা এখানে অসুরদলনী নয়, অসুখদলনী। তার হাতে প্রসাদের আশ্বাস, দৃষ্টিতে স্নিগ্ধতা, হাসিতে বরাভয়। আর সেই প্রসন্নহাসিনী বিমল বালিকার সামনে শেষ অবধি নতজানু হতে হয় আনন্দবিনাশী চিৎকৃত অহং-কারীকে। হোক বানানো পুজো, তবু এ পুজো জিতিয়ে দেয় বহু হেরে যাওয়া মানুষকে, ফিরিয়ে দেয় অনেক ছিঁড়ে যাওয়া গ্রন্থি। এ ছবির যাত্রা তাই অন্ধকার থেকে আলোর পথে, মৃত্যু থেকে অমৃতের পথে। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘বিসর্জন’ একটি ভিন্নধারার ‘পুজোর ছবি’— যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছবির অন্যতম কাহিনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন একটি বাংলাদেশি এলাকায় একজন চোরাকারবারি ভারতীয় মুসলমান নদীতে ভেসে আসে। নাম তার নাসির। তার প্রাণরক্ষা করে পদ্মা নামের এক হিন্দু বিধবা মহিলা। নিজের বাড়িতে নাসিরকে আশ্রয় দেয় পদ্মা। তাদের মধ্যে এক ‘ভিন্নধর্মী’ প্রেমের সম্পর্ক আর তার আপাত-পরিণতি, এই চলচ্চিত্রটির উপজীব্য। টানটান কাহিনি ও মুখ্য চরিত্রদের সাবলীল অভিনয় ছাড়াও, সামাজিক মূল্যবোধের চলমান দলিল হিসেবে এই ছবিটি তার যোগ্য স্বীকৃতি পায় ২০১৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়ে। দুবছর বাদে পরিচালক এর একটি সিক্যুয়েল বানিয়েছিলেন— ‘বিজয়া’ নামে। সেখানে এই ঘটনার ছবছর বাদের কাহিনির ছিন্ন সূত্রটি আবার তুলে নেন পরিচালক। পদ্মা আগের ছবির তৃতীয় মুখ্য চরিত্র গণেশ মণ্ডলের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এলে, নাসিরের সঙ্গে দেখা হয় তার। কাহিনি-বৃত্তটি শুধু সম্পূর্ণ হয় তা-ই নয়, মনে দাগ কেটে যায় এই দুটি ছবির মূল বক্তব্য— সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের অনেক ঊর্ধ্বে অবস্থিত মানুষের ভালোবাসার জয়গাথা। নামকরণের মুনশিয়ানায় পরিচালক সেই বার্তাটি যেন আরও অমোঘভাবে পৌঁছে দেন। ‘বিসর্জন’-এ উৎসবের শেষ নয়। কাহিনিরও নয়। ‘বিজয়া’-র সম্প্রীতিই উৎসবের অবলেশ। এভাবেই অনেক, অনেক ছবির মুহূর্ত, আর তার ক্যানভাসে আরও, আরও উৎসবের না-হয়ে ওঠা উদযাপন জুড়ে থাকে আমাদের দিনগত আলো-ছায়াময় কারুবাসনায়— প্রতিপ্রত্যেক শরৎ তাতে যোগ করে অমেয় কিছু আলো। নতুনের অপেক্ষা আর পুরোনোকে ফিরে দেখা— এই নিয়ে আবর্তিত আমাদের ‘পুজো রেট্রসপেকসন’। প্রতিমার বিসর্জনে নদী অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে গ্রহণ করে তার অতীত পলি-জমা স্মৃতি। মণ্ডপে মণ্ডপে আকৈশোর বেজে চলা গানের সুরে সুরে তৈরি হতে থাকে আবহ। হাতের পাতায় নতুন গল্পের ভিতর থেকে উঁকি দিতে থাকে হারানো চরিত্রেরা। জানলার পাশে লাবনীলতায় জমতে থাকে কিছু বিচ্ছুরিত আয়ুষ্কাল। আশ্বিনের মাঝামাঝি, মনের মাঝে অমোঘ বাদ্যি বেজে ওঠে— রবি-ঠাকুরের মধু-বিধু তখন ছুট লাগায় সনৎ সিংহের পাঠশালা থেকে, ভূতের রাজার বরে হীরকের দরবারে সোনা ফলায় খুশির উৎসবে যোগ দিতে আসা দুই গায়ক-বাদক, রক্তকরবীর রাজা হাত লাগান চলচ্চিত্রের রাজ-মূর্তির গলায় পরানো রশিতে— ‘সব আমাদের জন্য’। সংকটকালে, শরৎ হয়ে ফিরে আসে শৈশবের বৈভব। আমরা জানি আমাদের আছে উদয়ন পণ্ডিত এক— তার কণ্ঠস্বর কেন জানি না অবিকল ফেলুদা-র মতো। আমরা জানি সমস্ত মারীকে পরাস্ত করে ‘পাঠশালা একদিন খুলবে’। আর যেদিন খুলবে— সেদিন-ই উৎসব। অমল ধবল পালে তখন তরণী বাওয়ার সুর— যে সুরের সঙ্গে কখন যেন মিশে যায় শৈশবের কাশের বনে ফেলে আসা দূরাগত রেলগাড়ির ঝংকার। তখন, হ্যাঁ— ঠিক তখন-ই পুজো।
- নোটিশের জীবন । শিবানী ভট্টাচার্য দে | Manikarnika.Pub
নোটিশের জীবন । শিবানী ভট্টাচার্য দে বিষয় : গল্প সংকলন প্রচ্ছদচিত্র : আহমেদ সফারুদ্দিন প্রচ্ছদ, সম্পাদনা ও গ্রন্থভাস্কর্য : শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশনা : মণিকর্ণিকা প্রকাশনী মূল্য : ₹ ২৮০ যোগাযোগ (কল ও হোয়াটস্অ্যাপ) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির কিছু অংশ এখানে দেওয়া হল। রজনীগন্ধার মালা মা ছবি হয়ে গেছে অনেকদিন। মায়ের ছবিতে রজনীগন্ধার মালা ঝোলাই বচ্ছরকার দিনটিতে। জিয়ন্তে মা কখনও রজনীগন্ধা দ্যাখেনি। আমাদের বাড়ির চারধারের ছোটো বাগানে লঙ্কা, বেগুনের সঙ্গে ছিল টগর-বেলি-গন্ধরাজ-শিউলি-চাঁপা। রজনীগন্ধা ওই তল্লাটে পাওয়াই যেত না। তখন ফুলের দোকানও ছিল না। পুজোপার্বণে নিজেদের আর পড়শিদের বাগানের ফুল দিয়েই কাজ চলে যেত। মা-ই কিন্তু ছোটোবেলায় আমাদের রজনীগন্ধার নাম বলেছিল। প্রাইমারি স্কুলে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন হতো— পাঁচটা গন্ধযুক্ত ফুলের নাম করো, আর তার উত্তরে মা আমাদের শিখিয়েছিল বেলি-টগর-গন্ধরাজ-চাঁপা-রজনীগন্ধা। শিউলি বা জুঁই ফুলের নাম বললেও হতো, কিন্তু মা যেন চাইত আমরা রজনীগন্ধা নামটা অবশ্যই বলি। নামটা অবশ্য আমারও খুব ভালো লাগত। অন্যান্য ফুলের নামের তুলনায় বেশি মিষ্টি, বেশি অভিজাত। শিউলি, টগর, জুঁই পাশের বাড়ির মেয়ে, রজনীগন্ধা যেন দূরের রাজকন্যা। মা আমাদের বলেছিল যে রজনীগন্ধা আমাদের আশেপাশে কেন, গোটা জেলায় কোথাও হয় না। তখন আমি ভেবেছিলাম, আমাদের এই শেয়ালডাকা জলা-টিলা-জঙ্গলের দেশ, গরুছাগলচরা মাঠ, রাখাল-চাষাচলা মাটির রাস্তা, বাঁশ-মাটি-খড়ের ঘর— এর মধ্যে এত মিষ্টি নামের ফুলটা হতেই পারে না। ওই ফুল যেখানে হয়, সেটা নিশ্চয়ই অন্যরকম। ছবিতে সুন্দর দেশ যেমন দেখায়, তেমনি সুন্দর জায়গায়। মাও রজনীগন্ধা দ্যাখেনি। কিন্তু মার ফুলটা দেখার খুব ইচ্ছে ছিল, বুঝতাম। বিজ্ঞান বইতে ছবি ছিল, আমাদেরও দেখিয়েছিল। ছোটো কল্কে ধরনের ফুল। ছবি দেখে আমার তেমন মন ভরেনি, কিন্তু ভেবে নিয়েছিলাম, আসল ফুল ছবির চাইতে অনেক বেশি সুন্দর হবে। কিন্তু রজনীগন্ধার গাছ কেমন হয়, ফুল ঘন্টা বা গন্ধরাজের মতো এককভাবে, না অতসীর মতো মঞ্জরী হয়ে, না করবীর মতো থোকা থোকা ফোটে, তা মা বা আমরা কেউ জানতাম না। মা আমাদের সবসময়েই বলত, তোমরা বড়ো হও, লেখাপড়া শিখে মানুষ হও, কত কিছু নতুন দেখতে পাবে, কত নতুন জায়গায় যেতে পাবে, কত ভালো ভালো জিনিস খেতে পাবে। আমি কল্পনা করতাম, বড়ো হলে আরও অনেক কিছুর সঙ্গে রজনীগন্ধা কোথায় ফোটে সেখানে যাব, মাকেও সঙ্গে নিয়ে দেখাব। মা বলত, তখন বাগানে রজনীগন্ধার গাছ লাগাবে। মা-ই আমাদের ছোটো বাগানে ফুলগাছগুলোর যত্ন করত। দরকার মতো জল দিত, গাছের গোড়ায় দিত সার-মাটি, আগাছা হলে তুলে ফেলত। মায়ের যত্নে সতেজ সবুজ গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠত। রোজ ভোরবেলা সেই ফুলবাগান থেকে পুজোর ফুল তোলা ছিল মার প্রথম কাজ। তারপর ঘরের বাসিকাজ সেরে চান করে রান্নাঘরে ঢুকত। চা করে বাবাকে দিয়ে একটুখানি নিজেও খেত। তারপর চান করতে তাড়া লাগাত আমাদের। ভাতে ডালের পুঁটুলি ফেলে দিয়ে আমাদের জন্য ভাত চড়াত মা, হয়ে গেলে পুঁটুলি খুলে সেদ্ধডালে তেল নুন কাঁচালঙ্কা মেখে সেই দিয়ে ভাত খেতে দিত। ডাল না হলে আলু ঝিঙে ঢ্যাড়স ভাতেও চলত। এই দিয়েই খেয়ে আমরা হুড়মুড়িয়ে স্কুলে যেতাম। মাকে সারাদিন বসতে দেখতাম না। সকাল থেকে কাজ, দুপুরে রান্নাখাবার পর বড়োজোর পনেরো মিনিট আধঘন্টার বিশ্রাম। তারপর কুয়ো থেকে জলতোলা, গাছের যত্ন, বিকেলের গোছগাছ, ছেঁড়াফাটা সেলাই, তারপর সন্ধে দিয়ে আমাদের পড়তে বসানো, তারপর রাতের রান্না। একসময় কাজ করতে করতে নিজেকে ক্ষইয়ে ক্ষইয়ে মায়ের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। আমরা তখন নিজেদের জীবন জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত। মাকে আর রজনীগন্ধার গাছ দেখানো হল না, মায়ের বাগানে রজনীগন্ধার গাছ লাগানো হল না। মাও আর শেষের দিকে বলত না। তার আরও অনেক ইচ্ছের মতো এটাও অপূর্ণই থেকে গেল। তাই চিকিৎসার জন্য শহরে আনার পর যখন মা মারা গেল, তার সাধের কথা মনে রেখে রজনীগন্ধার মালা দিয়ে খাট সাজিয়ে দিয়েছিলাম। এবং তারপরেও বছর বছর মার মৃত্যুদিনে ছবিতে রজনীগন্ধার মালা ঝোলাই। কত বছর পরে ট্রেনে যেতে যেতে দেখলাম বড়ো বড়ো রজনীগন্ধার খেত ধানজমির মাঝখানে, রেললাইনের ধারে। খেতের ধারে ধারে লাইন করা গাঁদার গাছ, মাঝে মাঝে জবাগাছও। তবু কেমন যেন ছাড়াছাড়া, সব মিলিয়েও মায়ের সেই ছোটো বেল জুঁই চাঁপা শিউলির বাগানের মতো ভালো লাগল না, কীসের যেন অভাব। দেখলাম, ফুলের খেত ন্যাড়া করে ফুল, কুঁড়ি কেটে কেটে তোলা হচ্ছে। কুঁড়িতেই ফুলগুলো তোলা হচ্ছে, বোঝাই করা হচ্ছে গাড়ি, বাজারে যাবে। ভাগ্যিস মা ফুলের খেত দেখেনি। দেখলে তার মোটেই ভালো লাগত না। মা তো বাগান দেখতে চেয়েছিল।
- আঁতুড়ঘর । রাজা সরকার | Manikarnika.Pub
আঁতুড়ঘর । রাজা সরকার বিষয় : স্মৃতিকথা প্রচ্ছদ: শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মূল্য : ₹ ২৮০ মণিকর্ণিকা প্রকাশনী যোগাযোগ (কল ও হোয়াটস্অ্যাপ) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির কিছু অংশ এখানে দেওয়া হল। আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, যদিও জন্মসূত্রে পূর্ববঙ্গের - অধুনা যাকে বলা হয় ‘বাংলাদেশ’। ১৯৬৪ সালের এক সকালে আমাদের ছাড়তে হয় জন্মের ভিটেমাটি। তখন আমার বয়স এগারো। এটা এখন ইতিহাসের বিষয়। দেশভাগ বা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জন্ম বা সে দেশে একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু অংশের মানুষের অবস্থা - এই সবই এখন গবেষণার বিষয়। কিন্তু নিজের বিবর্তনের দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ্য করেছি যে আজও আমি আমার জন্মসূত্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। পারিনি অখণ্ড হয়ে যেতে। বর্তমান প্রেক্ষিতে এটা কোনো ব্যর্থতা কিনা, জানি না। অথচ একই শ্রেণি-অবস্থানের মানুষদের দেখেছি যে তাদের এ-বিষয়ে কোনো যাতনা নেই। সেসব তেমন মনেও নেই অনেকের। মনে নেই, নাকি মনে রাখার ইচ্ছেটাও নেই! সেটা অবশ্য জানা যায় না। এ-প্রসঙ্গে কোনো কথা উঠলেই প্রথমে যা শুনতে হয় তার নির্যাস অনেকটা এরকম - ‘না না, ওই দেশের কথা ছাড়ো তো, ওখানে থাকতে হলে হয় মুসলমান হও, নয়তো জান-মান ওদের কাছে জমা দাও। যে কয়খান হিন্দু এখনও ওখানে আছে তারা কি ভালোমতো আছে মনে করো? খোঁজ নিয়ে দ্যাখো, বুঝতে পারবে, তখন তোমার এইসব আবেগ কোথায় থাকে দেখব।’ এভাবেই এসব কথা চলতে থাকে। আমি কোনো উত্তর দিই না বা বলা ভালো দিতে পারি না। দিতে গেলে তথ্য দিতে হয়, তথ্য দিয়ে আবার বিশ্বাস করাতে হয়। অনেক সময় তাতে কিছুটা কাজ হয়। অনেক সময় কাজ হয় না। বুঝতে পারি - ঘা শুকোয়নি আজও। হতে পারে, কিন্তু ‘ঘা’ যে সবখানি সত্য নয় তা কবে শোনা যাবে? একটা আঘাত, আঘাত থেকে ঘা, যা অস্বীকার করা যায় না। ফলে আমাকে শুনতেই হয়। যেহেতু কথাটা আমিই তুলি। কিন্তু আমার মতো দ্বিখণ্ড কে-ই বা আছে আর! না, কেউ নেই। সত্যিই কি কেউ নেই - একা এক অদৃশ্যের এই আত্মরক্ষায়? আমি আর কোনো কথাই বলতে পারি না। কিছুতেই ঢুকতে পারি না এই বেড়াজাল ভেঙে। যদিও বুঝতে পারি এর ভেতরই জমে আছে দ্বিখণ্ডিতের যন্ত্রণা। জেগে আছে সেই সব উ দ্বাস্তু বালক-বালিকারা। ত্রিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট দশকের বিবর্ণ বছরগুলো যেন বাতাসে উড়ছে। পাশের বাড়ির ঘটি (পশ্চিমবঙ্গীয়) বউটি বলছে, ‘দূর হ, দূর হ মুখপোড়ারা, বিদেয় হ দিকিনি।’ তো এরা যাবে কোথায়? তখন আমরা ফাইভ সিক্সের পড়ুয়া। সে সময় এক গভীর বর্ষার দিনে আমরা দু-ভাই গেছি উত্তরের মাঠের দিকে, আমাদের একমাত্র গাইটির সন্ধানে। কোন সকাল থেকেই সে ঘাসের খোঁজে বেপাত্তা। আমাদের অঞ্চলের বর্ষা মানে ভীষণ জল-কাদা। কিন্তু তার মধ্যেই সেখানে গাই খোঁজার বদলে দু-ভাই অনেকক্ষণ তাকিয়েছিলাম উত্তরের পাহাড়টির দিকে। বোধহয় ওটাই প্রথম পাহাড় দেখা। সেদিন মেঘে-ঢাকা সমস্ত আকাশ একটুখানি চাদর সরিয়ে একটি বৃষ্টিভেজা পাহাড়শ্রেণি শুধু আমাদের দেখানোর জন্যই উত্তর-দিগন্তে সাজিয়ে দিল! নীল রঙের পাহাড়! গাই খোঁজার বদলে আমরা দু-ভাই জল-কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ওই পাহাড়শ্রেণির দিকে চেয়েছিলাম। বিস্ময়ে হতবাক আমার সম্বিৎ ফিরল দাদার কথায় - ‘এইডা গারো পাহাড়, ভূগুল বইয়ে পড়ছ নাই উত্তরে গারো পাহাড় দক্ষিণে বঙ্গপসাগর - ঐডা হেই গারো পাহাড়, পার অইলে ওইপারে হিন্দুস্থান।’ সেই রাতে আমি ওই নীল পাহাড়শ্রেণির কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। দাদা তখন আমার উপাস্য। ভাবি - ও কত জানে! একদিন তাই ওকে প্রস্তাব দিলাম - ‘চল না দাদা, একদিন যাইয়া পাহাড়ডারে দেইখ্যা আসি।’ দাদা উত্তর দিল - ‘দুর বেক্কল, ওইডা ম্যালা দূর।’ আমাদের অঞ্চলটাকে ‘ভাটি’ অঞ্চল বলা হতো। কেন হতো তা ছোটোবেলায় জানা হয়নি কখনও। তবে এর সঙ্গে যে ঠাট্টাটা মিশেছিল তার জন্য সেই ছোট্ট মনে ব্যথা-অভিমান ছিল অনেক। কারণ ওই ঠাট্টাটা করা হতো আমাকে সামনে পেলেই। আর তা করতেন প্রায়শই মুখোমুখি হওয়া আমার এক দূর-সম্পর্কের দাদু। যেমন - ‘এই যে ভাইট্ট্যা গাবর আইয়ো এইবর।’ আর কাছে গেলেই বলতেন - ‘ভাইট্ট্যা গাবর, ত্যালের ডাবর, খায় কচুর মোড়া... (পরের অংশটি উহ্য থাকল)। শোনা মাত্রই আমার চোখমুখ যেত লাল হয়ে। আমি তখন পালাতে চাইতাম। কিন্তু তার আগেই তাঁর বড়ো হাতের থাবায় আমি বন্দি, দিশেহারা।
- দেশভাগের ভাঙা আয়না ও শচীন চক্কোত্তি । রা | Manikarnika.Pub
দেশভাগের ভাঙা আয়না ও শচীন চক্কোত্তি । রাজা সরকার বিষয় : গল্প প্রচ্ছদ : শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মূল্য : ₹ ৩০০ মণিকর্ণিকা প্রকাশনী যোগাযোগ (কল ও হোয়াটস্অ্যাপ) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির একটি গল্প এখানে দেওয়া হল। বর্ডার চৈত্যা ওরফে চৈতন ওরফে চৈতন্য যিশুখ্রিস্টের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। যিশুখ্রিস্টের পেছনে একটা ক্রুশ কাঠ ছিল। চৈতন্যর পেছনে কিছু নেই, শুধু হাওয়ায় ভাসা একটা প্রান্তর। এই প্রান্তরটা ইন্ডিয়া। সামনে দুইতলা বাড়ির সমান উঁচু কাঁটাতারের বেড়া যা সীমান্ত বলে চিহ্নিত। আগেকার খর্বকায় সীমান্তের চিহ্নস্বরূপ পাকা পিলারগুলো কোথায় আছে চৈতন্য জানে না। জানার দরকারও হয় না। কারণ এই উঁচু কাঁটাতারই এখন সীমান্তের চিহ্ন, যা ডাইনে বাঁয়ে যে কত দূর চলে গেছে চৈতন্য জানে না। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকফোকর দিয়ে দেখা যায় এদিকের মতোই কিছুটা প্রান্তর ওদিকেও, বা ভালো করে তাকালে দূরে কিছু গ্রাম বা চাষবাসের খেত বা একটু ভালো করে তাকালে দু-একজন মানুষও দেখা যায়। ওটা এখন বাংলাদেশ। চৈতন্য এইভাবে যতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে ততক্ষণ সামনের এই উঁচু কাঁটাতারের বেড়াটি থাকে না, সরে যায় অথবা মিলিয়ে যায়। চৈতন্য তখন পরিষ্কার দেখতে পায় একটি গ্রাম, পলাশপু্র, একটি বাড়ি, দুটি নুয়ে পড়া টিনের ঘর, কিছু গাছপালা কিংবা কোনো ঘরের চওড়া বারান্দায় সেই কবেকার ঘোলাটে আলপনা, তার মধ্যে একটি নাম না জানা গাছের চারা দাঁড়িয়ে। চারাটি বড়ো হয় না। সেই কবে থেকে যে সে দেখছে। ঘরের চালের উপর অদৃশ্য এক পাটাতনে তার বাবা শ্রী বিষ্ণুচরণ বণিকও ঠিক ওইরকম, কতদিন যাবৎ যে দেখছে। কোনোদিন চিৎ হয়ে শুয়ে থাকেন, কোনোদিন সাধুদের মতো বসে থাকেন, কোনোদিন পায়চারি করতে থাকেন আর নিজের মাথার চুল ছিঁড়ে হাওয়ায় ওড়াতে থাকেন। হাওয়ার অদৃশ্য আগুনে সেই চুল পুড়তে থাকে। এইরকম এলোমেলো অনেক দৃশ্যপটে চৈতন্য চিনে নেয় এটাই তার দেশ, তার দিদির দেশ, তার বাবার দেশ, তার মায়ের দেশ। কখনও এমনও হয় যে চৈতন্য ক্রমে ছোটো হয়ে যায়, বলা ভালো, বালক হয়ে যায়। তখন সে দেখতে পায় খেলার মাঠ, ইস্কুল ঘর, হেডমাস্টার, পিয়ারা খাতুন, আব্দুল, কমল, ননী ও আরও অনেক বালক-বালিকা, সবই চলমান, কিংবা নুয়ে পড়া ঘরের আঙিনায় আধ-ঘোমটা দেয়া একজন মহিলা, তার চলমান অবয়ব। যার ঘোমটা সরালে হয়তো দেখা যাবে এই মহিলা তার মা। কিন্তু কোনোদিনই এই সন্দেহের নিরসন সে করতে পারে না। বেলা ঢলে যায়। সন্ধে হয়ে আসে। অন্ধকার ধেয়ে আসে। ভাঙা-গলায় চৈতন্য ডাকে - মা, ওমা কোথায় তুমি? কবে আসবা? চৈতন্যর কথা কেউ শুনতে পায় না। চৈতন্য নিজেও কি শোনে? হয়তো শোনে না। তার ভাঙা-গলায় ফ্যাস ফ্যাস করে বলে চলে - কবে আসবা, কবে আসবা, কবে আসবা… কিন্তু বাস্তবে এই সময় কাছাকাছি গাছের ছায়ায় দাঁড়ানো দুজন সশস্ত্র বিএসএফ দৃশ্যটা দেখে আর মনে মনে ভাবে - পাগল যে কত কিসিমের হয় কে জানে! যদিও তারা এজন্য বিশেষ কিছু করে না। কারণ তাদের ঠিক করে দেয়া নির্দিষ্ট লাইনের এপারেই থাকে চৈতন্য। ওপারে যায় না বা যাওয়ার চেষ্টা করে না। লাইন পার না হলে অফিসারের নির্দেশ আছে ওকে ডিস্টার্ব না করার। ফলে তারা কিছু করে না। শুধু নজর রাখে। এই কাজটা চৈতন্য কবে থেকে শুরু করল, কতদিন যাবৎ করে যাচ্ছে, এই বিষয়ে কাছাকাছি বিএসএফ ক্যাম্পে একটা ধারণা সঞ্চিত আছে। এক ব্যাচ বদলি হয়ে চলে গেলে অন্য ব্যাচ এই কাহিনিটা হাত-বদল করে নিয়ে নেয়। প্রথম প্রথম চৈতন্যকে ধরা হত। ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হত, দু-একটা চড়-থাপ্পড়ও দেয়া হত। অবশ্য খবর পেয়ে চৈতন্যর বাবা বিষ্ণুচরণ এসে কর্তাদের হাতে-পায়ে ধরে, পরিচয়পত্র দেখিয়ে ছাড়িয়ে আনতেন। বলতেন, আমার ছেলেটার মাথার দোষ আছে। তখন চৈতন্যের বাবা বেঁচে। ২ চৈতন্যের বাবা এখানে এসে একটা দোকান দিয়েছিলেন। ভালোই চলত সেটা। দেশগাঁয়ের ব্যবসায়ী মানুষ বলে হাতে কিছু নগদ টাকা ছিল। তাই দিয়ে দেশান্তরের পর ভাসতে ভাসতে পশ্চিম বাংলার সীমান্তের কাছাকাছি এই বল্লভপুর গ্রামেই তিনি ঘর বাঁধেন, সঙ্গে দোকানটিও বাঁধেন। সেই থেকে আমৃত্যু তাঁর বসবাস ও দোকান এই গ্রামেই। এটাই ছিল তাঁর একমাত্র জীবিকা। দোকানদার হিসেবে তাঁকে সকলেই চিনত। মালতীর বিয়ে তিনি বেঁচে থাকতে দিয়ে দেন। মালতীর বিয়ের পর-পর বিষ্ণুচরণ তাঁর আদরের চৈতনকেও বিয়ে দেন। ঘরের লক্ষ্মী ছেলেবউ ঘরে আনেন। সময়ান্তরে ছেলের ঘরের নাতি-নাতনীর মুখ দ্যাখেন। সংসারে সুখও এসেছে।পুরোনো স্মৃতিতে পলি পড়েছে। যদিও দেশ ছাড়ার সময় থেকে মনের মধ্যে যে কাঁটাটি তাঁর বিঁধে ছিল তার কোনো উপশম নেই। বুঝে গেছেন - এ তাঁর আমৃত্যু সঙ্গী। ১৯৭১ সনের শেষদিকে একবার এই কাঁটা মোচনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। যুদ্ধের পর বর্ডার খোলা ছিল কিছুদিন। কত মানুষ তখন আসা-যাওয়া করেছে। তাই দেখে বিষ্ণুচরণের ইচ্ছে হয়েছিল একবার পলাশপুরে যেতে। ছেলেমেয়ে তখন বড়ো। সব বোঝে। তারাও ভেবেছিল মায়ের জন্য এবার একবার চেষ্টা করা যায় কিনা। শেষমেষ ঠিক হয়েছিল বাবা একাই যাবেন, তারা ভাইবোন কদিন এদিকে দোকান সংসার চালিয়ে নেবে। কিন্তু সাতদিনের মাথায় বাবা ফিরে আসেন শুষ্ক, বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে। ঘরের বারান্দায় বসে সেদিনই তারা ভাইবোন প্রথম দেখল - তাদের বাবা কাঁদছেন। কোনো কথা বলছেন না, শুধু কেঁদেই যাচ্ছেন। এই সাতদিন ভাইবোনের মনে যে স্বপ্নটা তৈরি হয়েছিল সেটা তাদের বাবার কান্নার সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে গেল। পলাশপুর বিষ্ণুচরণ গিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্ত এই সময়ান্তরে পলাশপুর আর পলাশপুরে ছিল না। পলাশপুর, সোজা-কথায়, হারিয়ে গিয়েছিল। তার জায়গায় এসে গিয়েছিল অন্য নাম, নিয়ামতপুর। পলাশপুর যেমন নিয়ামতপুর হয়ে গিয়েছিল তেমনি পলাশপুরের ভূ-প্রকৃতিও বদলে গিয়েছিল ব্যাপক। অনেক কষ্টে বিষ্ণুচরণ খুঁজে পেয়েছিল, বলা ভালো, ধারণা করতে পেরেছিল যে তাঁর ভিটেটি ও ভিটে-সংলগ্ন জঙ্গলটি এখানেই ছিল। কিন্তু এখন আর নেই। সমস্তটাই তখন আবাদি খেত। একফালি রাস্তায় দাঁড়িয়ে যখন বিষ্ণুচরণ ভিটেটি খুঁজছিলেন তখন পাশে এসে একজন তাঁকে অবাক-চোখে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। একসময় নানা প্রশ্নাদির মুখেও পড়লেন বিষ্ণুচরণ। শেষে আলাপ পরিচয়ে বেরিয়ে গেল যে প্রশ্নকর্তা ধনঞ্জয় বিষ্ণুচরণের বন্ধু জগবন্ধুর ছেলে। জগবন্ধু কলমা পড়েছিল সেই সময়। ফলে তাদের বর্তমান নাম অন্য কিছু, যা ধনঞ্জয় আর বলতে চায়নি। বিষ্ণুচরণ চেষ্টা করে তাঁর একসময়ের গ্রাম প্রতিবেশী জগবন্ধুর সঙ্গেও দেখা করে। কিন্তু সে মলিনার কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। শুধু বলেছিল একটা সন্দেহের কথা যে ওই গোলমালের সময় অনেকেই মারা গেছে, হয়তো মলিনাবৌদিও সে সময় - এই পর্যন্ত বলে জগবন্ধু শুধু বিষ্ণুচরণের হাত ধরে চোখের জল ফেলেছিল। চোখের জলের অনেক ভাষা থাকে। বিষ্ণুচরণ তার আর কোনো সন্ধান করেনি। বন্ধুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিষ্ণুচরণ গ্রামের পথে হাঁটতে থাকে। আর হাঁটতে হাঁটতে পলাশপুরকে একবার সে ফিরে পায়। সেই পলাশপুর মলিনার পলাশপুর। সেখান থেকে মলিনা তাকে ডাকেও। কিন্তু মলিনার হাতটা সে ধরতে পারেনি। তার আগেই দুইদিনের নাওয়া-খাওয়াহীন ভ্রমণ তাকে আর দাঁড়িয়ে থাকতে দেয়নি। জগবন্ধুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিষ্ণুচরণ অজ্ঞান হয়ে পথের মধ্যেই পড়ে যায়। পেছন পেছন ধনঞ্জয় থাকায় তাঁকে পথে বেশিক্ষণ পড়ে থাকতে হয়নি। সেদিন বিষ্ণুচরণের আর ফেরা হয়নি। বন্ধুর বাড়িতেই রাতটা এক নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে কাটিয়ে পরদিন পথ ধরতে হল। ৩ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শোক-দুঃখ, তা যতই ভারী বা গভীর হোক, একদিন তা কিছুটা হলেও ভুলতে হয়। অন্তত যতখানি বাঁচার জন্য দরকার, ততখানি তো ভুলতে হয়ই। কিন্তু চৈতনের কী হল? তার যে সংসারে মন নেই! বিষ্ণুচরণ এখন বৃদ্ধ। তাদের পরিপূর্ণ সংসার। এ-সংসার এখন চৈতন্যেরই। তাঁর অবর্তমানে যুবক চৈতন্যেরই দোকানের ভার নেয়ার কথা। কিন্তু সে দোকানে বসে কই। কিছুদিন যাবৎ দেখা যায় সে রাত নেই, দিন নেই, নতুন হওয়া কাঁটাতারের বেড়ার আশে পাশে খালি ঘুরে বেড়ায়। কাঁটাতারের বেড়ার কাজ আরম্ভ হওয়ার পর থেকেই তার এই পরিবর্তন। এ তো দেখার কিছু নেই। দুদেশের সীমান্ত কাঁটাতারে ঘেরা হচ্ছে। এর মধ্যে দেখার কি আছে কেউ বুঝতে পারে না। কিন্তু বিষ্ণুচরণের বুক কাঁপে আশংকায়। চৈতন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে না তো? প্রথম প্রথম স্থানীয় বিএসএফ ক্যাম্পের লোকেরা সন্দেহ করত, কিন্তু বিষ্ণুচরণের ছেলে বলে সেই সন্দেহ গাঢ় হতো না। বোঝা যাচ্ছিল ছেলেটির মাথায় দোষ আছে। কিন্তু বর্ডারে কড়াকড়ি হওয়ায় কেউ কেউ সহ্য করলেও আবার কেউ কেউ ধমক-ধামক দিয়ে সরিয়ে দিত। কোনোসময় ধরে আটকেও রাখত। বিষ্ণুচরণ ভাবে আর নানান আশংকায় তলিয়ে যেতে থাকে। দেশগাঁয়ে থাকতে স্থানীয় বাজারে বিষ্ণুচরণের চালের ব্যবসা ছিল। বড়ো কিছু নয়, তবে ভালোই চলত। জোতজমি তাঁর তেমন ছিল না। সেসব তাঁর বাবার আমলে শরিকি বিবাদে নষ্ট হয়ে গেছিল। শেষে মাত্র বিঘা খানেকের মতো ফসলের জমি যা বাঁচাতে পেরেছিলেন তাঁর বাবা, তাতে বছরে একবারই কিছু ফসল হত। বাকি সময় গাঁয়ের গরু-বাছুরের ঘাস খাওয়ার জমি হিসেবেই থাকত। ১৯৫২ সনের রায়টের পর সে জমির আর চাষ-আবাদ হয়নি। জমি সেই থেকে বোবা হয়েই রয়ে গেল। বিষ্ণুচরণরও বোবা হয়ে গিয়েছিল। চৈত্যা তখন ছোটো। তার বড়োটা মেয়ে, মালতী। সেও ছোটোই। তবু সে তখন কিছু কিছু বুঝতে শিখেছে। তাদের গ্রামে তখন হঠাৎ হঠাৎ কার কার যেন বিয়ে হয়। বিয়ে নিয়ে সে প্রশ্ন করলে মা বাবা কেউ কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয় না। শুধু ‘চুপ কর’ বলে থামিয়ে দেয় তাকে। ১৯৪৬-এর দাঙ্গার কথা বিষ্ণুচরণ তাঁর বাবার মুখে শুনেছিল। তাদের পাশের জিলা নোয়াখালিতে সেসব হয়েছিল। তবে তাদের এলাকাতে তেমন বিপদ হয়নি। তবু বাড়িতে বা গ্রামের শরিক ও প্রতিবেশীদের মধ্যে সেসব নিয়ে তখন নানান আতঙ্কের কথাবার্তা হতো। কিছুদিন পর সেসবও থেমে যায়। দেশ ভাগ হয়, দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু সেই আতঙ্কের হাওয়া কমে কই, বরং বাড়ে, বেড়েই চলে। এরই মধ্যে কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। কেউ কেউ বলে দেশ ভাগ হইলে আমাগো কী করনের আছে, কেউ বলে না না যামু কই, মরতে হইলে বাপঠাকুর্দার ভিটাতেই মরব। আবার কেউ মনে মনে আশা করে গোলমাল আর কয়দিন। মাথার উপর যে সকল মানুষেরা থাকেন তাদের মতিগতি বোঝা বিষ্ণুচরণের মতো মানুষের সাধ্য নয়। এই করতে করতেই আসে ১৯৫২ সালের আশ্বিন মাস। ফসল কাটার সময়। এইসময় একদিন তাদের বাজারে কিছু গোলমাল হল। দোকানপাট ভাঙাভাঙি হল। কেউ কেউ গোলমাল থামানোর চেষ্টা করল। এরকম অবশ্য মাঝে মাঝে হয়, কিন্তু এবার অন্যরকম গন্ধ পেলেন বিষ্ণুচরণ। একটা চাপা আক্রোশ বাতাসে। এদেশের ভাগীদার, নিরঙ্কুশ ভাগীদার কে, তা নিয়ে খুন আর রক্তপাত। এই নিয়ে সেদিন চিন্তিত মনে ব্যবসাপত্তর গুটিয়ে বাড়িতে এসে বিষ্ণুচরণ শোনে, বলা ভালো বাড়িতে আসতে আসতে পথেই কানে আসে যে তাঁদের গ্রামখানি নাকি অবরুদ্ধ। অবরুদ্ধ মানে? বিষ্ণুচরণ পরিষ্কার বুঝতে পারে না। আর পাঁচটা কৃষিজীবী গ্রামের মতোই তাদের গ্রাম। তবে হিন্দুপ্রধান। চারপাশে সকল গ্রামই মুসলমান প্রধান। কিন্তু বিষ্ণুচরণ তাঁর বাবা-মায়ের জীবিত কাল থেকে এই পর্যন্ত এর জন্য কোনো সমস্যা হয়েছে বলে তো শোনেনি। সে বুঝতে পারে না হঠাৎ কী এমন হল! বাড়ি আসতে আসতে এও শুনতে পেল যে গ্রাম থেকে কেউ নাকি পালিয়ে যেতে পারবে না কোনোদিকে। চারদিকে পাহারা আছে। লিডারের অনুমতি ছাড়া পরদিন থেকে বাজারে যাওয়াও সম্ভব না। লিডার কে? না, উনি বহিরাগত একজন বিখ্যাত আলেম। ওনার ফতোয়া - সাত দিন সময় দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে কলমা পড়ে মুসলমান না হলে বাড়ির পুরুষমানুষদের কী করা হবে তা যথাসময়ে জানা যাবে। তবে মেয়েদের বয়স অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী সাতদিন পলাশপুর গ্রাম সত্যি সত্যি নানারকম ভাবে ধস্ত হল। যারা সপরিবারে মুসলমান হল তারা প্রাণে বেঁচে গেল। কিন্তু বাঁচলেও তাদের বারো বছরের অধিক বয়সের মেয়েদের শাদি হতে লাগল। সঙ্গে রাতের বেলা শাদির ভোজ হতে লাগল নব্য মুসলমানের বাড়ির উঠোনে। বিষ্ণুচরণ মুসলমান হননি, তাই তাঁর নতুন নামকরণও হয়নি। সকাল-বিকাল আলেমের আদেশ তাঁকে শুনিয়ে যাওয়া হয়। তবে মুসলমানী না হলেও তাঁকে সেই ভোজে দাওয়াত দেয়া হয়। যদিও সে দাওয়াত রক্ষা করতে যায় না। ৪ সেদিন তাদের এক-দুটো বাড়ি পরেই বিয়ের আসর চলছিল। হ্যাজাক লাইটের আলো জ্বালানো হয়েছে। তার দু-একটা ফলা আঁধার ভেদ করে সেখান থেকে তাদের উঠোনে ও ঘরের দাওয়ায় এসে পড়েছিল। গত সাতদিন ধরে সারা গাঁও দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল যে চেনা-অচেনা মানুষের দল, তারাই এসবের উদ্যোক্তা। তার উপর হুমকি মারধর তো আছেই। বিষ্ণুচরণের দমবদ্ধ দিন কাটে। কিন্তু পালানোর পথ সে খুঁজে পায় না। সেদিন একটু বেশি রাতের দিকে চেনামুখ কয়েকজন সশস্ত্র যুবক এসে দুমদাম করে ঢুকে পড়ে তাঁর ঘরে। বিষ্ণুচরণ অবাক। সন্ত্রস্ত। তাঁর মুখের উপর টর্চলাইটের আলো ফেলে একজন বলে - ভাবি রে নিতে আইলাম। দাওয়াত আছে। এই বলে স্ত্রীর হাত ধরে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে গেল। বিষ্ণুচরণ কিছু আঁচ করার আগেই অন্ধকারে মিলিয়ে গেল তারা। বলে গেল, এইমাত্র একটা শাদি হল তো, সেই জন্য একটু রান্নাবান্নার কাজ আছে। আপ্নে তো হালায় দাওয়াত দিলেও যাইন না। তাই ভাবিরে লইয়া গেলাম। রান্নাও করব, দাওয়াতও খাইব। বিষ্ণুচরণ অতর্কিত এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেল। হুঁশ আসার পর লাফিয়ে বাইরে যেতে গিয়ে সে উঠোনেই কার যেন ধাক্কায় পড়ে গেল। অন্ধকারে বুঝতে পারল - মানুষেরই ধাক্কা। শুনতে পেল ‘যাছ কই হালারপো, বাঁচতে চাস তো ঘরে যা।’ এই বলে আর-এক ধাক্কায় তাকে ঘরের দিকে ঠেলে দিল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে সাংঘাতিক কোনো বিপর্যয়ের আশংকায় ঠকঠক করে কাঁপতে লাগল বিষ্ণুচরণ। রাত ক্রমে পাথরের মতো গড়াতে লাগল। সে না পারল চিৎকার করতে, না পারল স্ত্রীর খোঁজে বাইরে যেতে। শুধু ছেলেমেয়ে দুটোকে আগলে বসে রইল। শেষরাতের দিকে মলিনা ফেরত এল। নিজে এল না। তাকে পাঁজাকোলা করে ঘরের বারান্দায় শুইয়ে দিয়ে গেল কয়েকজন। লোকজনের আওয়াজ শুনে দরজা খুলে বিষ্ণুচরণ দেখে অজ্ঞান বিধ্বস্ত মলিনাকে একজন বারান্দায় নামিয়ে রাখছে। কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই আগন্তুকেরা অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। বিষ্ণুচরণ কোনোমতে তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে চোখেমুখে জল দিয়ে শুশ্রূষা করার আধঘণ্টা পর মলিনা চোখ খুলল। মলিনার খোলা চোখ বিষ্ণুচরণের মুখ দেখতে পেয়ে জলে ছেয়ে গেল। কিছু বলতে গিয়ে শুধু হেঁচকি তুলল শুধু। তাকে আশ্বস্ত করে চোখ বন্ধ রাখতে বলল বিষ্ণুচরণ। দ্বিতীয় দিনও একইরকম ঘটল। তখন মরিয়া হয়ে স্থানীয় মাতব্বরের কাছে গিয়ে ভেঙ্গে পড়ল বিষ্ণুচরণ। মাতব্বর শান্ত গলায় বললেন - হুজুরের আদেশ অমাইন্য করছ, আমার আর কী করার আছে। ঠিক আছে তুমি যখন এত কইরা কইতাছ কাইল এইটার বিহিত করবো। আইজ যাও। সেই ‘কাইল’ আর আসল না। সেদিন মলিনাকে আর ফেরত দিয়ে গেল না। সারারাত অপেক্ষার পর সকালে বিষ্ণুচরণ বাড়ির বাইরে যেতে গিয়ে প্রহৃত হয়। জিজ্ঞেস করার মতো কাউকে পায় না। এত বড়ো গ্রাম, এত মানুষ, সবই গৃহবন্দি। নিস্তব্ধ শ্মশান। থেকে থেকে কারোর কান্না ভেসে আসে। কে কাঁদে, কার কান্না বোঝা যায় না। কোথায় মলিনা! আচরণে বিষ্ণুচরণ প্রায় অর্ধ-উন্মাদ। কদিন পর রাতের দিকে এসে কজন হুমকি দিয়ে গেল - বাড়ি ছাইড়া কাইল রাইতের মধ্যে চইলা না গেলে তোর কবর খোঁড়ার কাম করতে হইবো আমাগোর - বুজছস হালার পো। সাতদিনের সময়সীমা বোধহয় শেষ। সাতদিনের সীমা শেষ হওয়ার পর কোনো কোনো ঘরে আগুন ও কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল পলাশপুরে। অনিবার্য হয়ে উঠল গৃহত্যাগ। নীরবে নিশিরাতে ছোটো ছোটো দুই ছেলেমেয়ের হাত ধরে অজানার উদ্দেশে পাড়ি দিল বিষ্ণুচরণ। ছেলেমেয়েদুটো বারবার মায়ের কথা বলাতে বিষ্ণুচরণ একবার শুধু বলতে পেরেছিল, তোরার মা পরে আইব। সেই মা আর আইল না। কতদিন গেল। কত ঘাট পার হল বিষ্ণুচরণ, কিন্তু ছেলেমেয়েদের মাকে আর সে আনতে পারল না। রাগে দুঃখে ক্ষোভে একসময় বিষ্ণুচরণ পাগল হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছিল, কিন্তু হতে পারল না। ছেলেমেয়ে দুটোর করুণ চোখ তাঁর হুঁশ ফিরিয়ে আনলো বারবার। অতঃপর ভাসতে ভাসতে এই বল্লভপুরে এসে একসময় ঠিকানা নিল বিষ্ণুচরণ। ছেলেমেয়েদের সামনে অপরাধীর মতো মুখ করে থাকে সে। সব কর্তব্য কাজ তার মধ্যেই সে করে চলে। অবসর সময়ে মনে মনে মলিনার সঙ্গে কথা বলে। বলে, আমারে মাফ কইরা দিও মলিনা - কিছুই করতে পারলাম না - ৫ বয়সকালে হঠাৎই বিষ্ণুচরণ প্রয়াত হলেন। বাবার মৃত্যুর শোক চৈতন্যকে স্পর্শ করল না। বাবার মুখাগ্নি করে সন্ধেবেলা শ্মশান ফেরত চৈতন্য পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের তোয়াক্কা না করে চলে গেল। দেখা গেল হাঁটতে হাঁটতে সে গিয়ে তার নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়াল। কাঁটাতারের দিকে মুখ করে দুই হাত দুইদিকে ছড়িয়ে আজও ফ্যাসফ্যাসে গলায় উচ্চারণ করল - এত কাঁটাতার - কীবায় আসবা মা- কীবায়-...
- ভরতরাজার দুটুকরো দেশ । পরিতোষ সরকার | Manikarnika.Pub
ভরতরাজার দুটুকরো দেশ । পরিতোষ সরকার বিষয় : উপন্যাস প্রচ্ছদ : শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মণিকর্ণিকা প্রকাশনী মূল্য : ₹২৫০ যোগাযোগ (কল ও হোয়াটস্অ্যাপ) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির একটি গল্প এখানে দেওয়া হল। বারবার ভাগ হয় ভূখণ্ড। তার প্রাণ নেই। কিন্তু যারা পরিকল্পনা করে এই বাটোয়ারার তারা খেয়াল করে না একবার ভূভাগ হলেই সহস্র টুকরোয় ভেঙে যায় মানুষ। সেই কোন কাল থেকেই একথা বেমালুম ভুলে থাকছে বিভেদের কাণ্ডারিরা। এই বিস্মৃতির শিকার হচ্ছে ভরত সুবল গৌরী লক্ষ্মী মালতি। বিপ্লবী ভানুপ্রতাপ। এক শিবির থেকে অন্য শিবিরে পাক খাচ্ছে তাদের পথ। কখনও দেখা হয়ে যাচ্ছে পরস্পরে। তখন হ্যারিকেনের ক্ষীণ আলোয় পারাপার হচ্ছে দুর্ভাগ্যকাহিনির। ভারতবর্ষ ভাঙল দুভাগে। তারপর ভাঙল পাকিস্তান। কোথাও জ্বলে উঠল জাতিদাঙ্গার আগুন। আসামে ত্রিপুরায় কুকুরের মতো তাড়া খেল বাঙালিরা। ভাষাকে হাতিয়ার করে কেউ পেল স্বাধীনতা, সেই ভাষা-পরিচয়ই কারোর থেকে কেড়ে নিল ভিটেমাটি। পুড়ে ছাই হয়ে গেল ভানুপ্রতাপের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। তবু মানুষ হাঁটছে। স্বপ্নের পথে, স্থায়ী বাসভূমির উদ্দেশে, আর-এক স্বাধীনতা সংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে অন্তহীন হেঁটে চলেছে মানুষ। এই উপন্যাস সেই যাত্রারই বৃত্তান্ত। হাজার ভাঙনের মধ্যেও অপরাজেয় জিজীবিষার ইস্তেহার।
- ভ্রমণকাহিনি-৭ | Manikarnika.Pub
ভ্রমণকাহিনি বিশ্বদর্শনের দর্পণ... পালামৌ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পাহাড়-জঙ্গলে পরিপূর্ণ অপরূপ এক অঞ্চলের কথা ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় লিখেছিলেন সঞ্জীবচন্দ্র, ‘পালামৌ’-এর প্রাণছন্দ ও রূপের তরঙ্গগুলি ছড়িয়ে আছে মিতায়তন এই ভ্রমণকাহিনিতে। শুধু লেখকের শব্দবাহিত চিত্র নয়, তার সঙ্গে হাতে-আঁকা কয়েকটি সুন্দর ছবি দিয়ে পালামৌ-ভ্রমণপথটি সাজাবার প্রয়াস করেছে মণিকর্ণিকা প্রকাশনীর এই সংস্করণ। আরও পড়ুন...
- People | Manikarnika.Pub
Hey... This Is US! Nice To Meet U :) Sarbojit Sarkar B. Tech. (Electronics and Telecom.), Theatrician Publisher manikarnika.pub@gmail.com Saswata Banerjee PhD (DNA Nanotechnology), Arizona State University, USA Project Manager, Process Manager, Business Communications, Editor sas.miscln@gmail.com Subhasish Ganguly M. Sc. (Chemistry), M. Tech. (Computational Biology) Editor, Website and Ecommerce Planning subhasishganguly1541994@gmail.com Saptarshi Dutta Dipoloma in Civil Engineering Book Layout and Design, Public Relations Rupam Kumar Pal Graduate Social Media Planning, Marketing and Distribution, Website Management, Public Relations rupambizz@gmail.com Bipasha Das Graduate (English Literature) Operations Management bipashadashlf@gmail.com Swarnali Banerjee Graduate Editor Lakshmi Hansda Graduate Operational Head Ayan Sanyal Diploma in Civil Engineering Copy manager and Editor asanyal630@gmail.com
- পথ দেখাবে সূর্যোদয়ের ঘ্রাণ | রাজর্ষি মজু | Manikarnika.Pub
পথ দেখাবে সূর্যোদয়ের ঘ্রাণ । রাজর্ষি মজুমদার বিষয় : কবিতা প্রচ্ছদ : সমাদৃতা ঘোষ নামাঙ্কন : সায়ন্তন সেন মূল্য : ₹ ১৫০ মণিকর্ণিকা প্রকাশনী যোগাযোগ (কল ও হোয়াটসএ্যাপ) : 8240333741 আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির পাঁচটি কবিতা এখানে দেওয়া হল। এক পুবদেশীয় আখ্যান ১২ মলুক্কা থেকে কার্পেন্টারিয়ার সাগর শাখার পথে আমি শিখে গেছি তারাদের দেখে দিকনির্ণয় - বাতাসকে যাত্রার অনুকূলে কাজে লাগানোর নানান কৌশল। একথা হয়তো সত্য - কম্পাস ও প্রকৃত নৌকার অভাবে পলিনেশিয়ানরা সমুদ্র পেরিয়ে গেছিল গাছের গুঁড়ির সম্বলে। এখন এ বড়ো ব্যস্ত পথ - জাহাজের পরিচিত ভোঁ - নোনা মাছ এসে দাঁড়ের শ্যাওলা খেয়ে যায়। পুরোনো চিঠিগুলি পড়তে ইচ্ছে জাগে, দেখি রহস্যে ভরা বাক্যের আপাত-জটিল গঠন। বলেছিলে রাজাদের দিঘি, তোমাদের গ্রামের সব আশ্চর্য রূপকথা - যেখানে জলের নীচের মন্দিরে কেউ রেখে যায় মাছের রক্তে জমানো প্রবাল। আর আমাদের মানত করা ছিল দেবীর থানে, সংক্রান্তির মেলায় তাঁকে কিনে দেবার কথা ছিল কয়েকটি লাল চুড়ি। ১৫ টাঙ্গারোয়া, তুমি এ সমুদ্র শাসন কর - তোমার অধীন এই জলজ আকাশ, তরঙ্গরাশি, ও সমুদ্রজগৎ। বৃষ্টিও এখানে তোমার আদেশে ঝরে - মাছ পায় কূলের মানুষ - শিকারীর জালে উঠে আসে গোটা এক দেশ। তুমি তাকে প্রাণ দাও, ভাসিয়ে রাখো বৃহৎ ভেলার মতো। দ্রুতলয়ে ইমন বাজে, ঝালার কাছাকাছি - প্রেতটি সুরের থেকে সরে হঠাৎ বাজনা থামিয়ে দেয়। সে জানে - সুরগুলির স্মৃতি আমার শরীরে কিছু রয়ে গেছে - রয়ে গেছে সন্ধ্যার টান, তারের স্পন্দন। যার মূর্ছনায় আমাদের কয়েকটি জীবন পার হয়ে যাবে। ১৬ যদিও কুয়াশাময় এ-দিগন্তরেখা, আংশিক মেঘাচ্ছন্ন ছিল ভোরের আকাশ - খাদের কিনারে চরছিল দুটি লাল ঘোড়া। ওদের চলায় এখনও কেঁপে উঠছে মাটি, ঘাস থেকে ঝরে পড়ছে পিঁপড়ে। প্রকৃতি ও আমাদের লিঙ্গরাজনীতির নানান জটিল খেলায় - সূর্য হয়ে গেছেন আদিত্য - মায়াবী পুরুষ। কত শত সাগর, নানান বিপর্যয় পেরিয়ে, ওপোটিকি দ্বীপের ধারে তাঁর অপেক্ষায় আমরা বসে আছি। অপেক্ষায় চরাচর - অনাদি অনন্ত - যিনি প্রাণসঞ্চার - পঞ্চভূতের এক - সাবিত্রীমন্ডলে অধিষ্ঠান - সেই জ্যোতির্ময় পূবের দেওয়ালে ফুটে উঠছেন এবার - চারিদিকে রক্ত লেপে গেছে। চারিদিকে পাখালির কুজন - রোদের ঘ্রাণ - ঘোড়ারা আনন্দে জেগে ওঠে। এবার আমার নিজের শরীরে ফিরে যেতে ইচ্ছে করবে খুব - তিন টান মেরে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করবে সিগারেট - চায়ের নেশায় ফিরব ঘুঁটের আঁচের ধোঁয়া ছড়ানো বাড়িতে যখন সকাল হবে। মঙ নদী, গড়অনন্তপুর ৬ পশ্চিমের বাগানে কখনও পোকা খেতে আসে ঝিঝিম পাখি। রংদিদির মুখে শুনেছি তার কথা - সে উড়ে গেলে নাকি বৃষ্টির শব্দে ছেয়ে যায় আশপাশ, বাড়ির কোনো কুমারী মেয়ে অকারণে পোয়াতি হয়ে ওঠে। অরণ্যপ্রাণেদের মতো আমাদেরও নিঃসঙ্গ বিচরণ - কয়েকটি রিপুর তাড়না জ্যান্ত করে রাখে। কেবল বাগানে গেলে, শান্ত হয়ে আসে সমস্ত স্নায়ু। মনে হয়এই বুঝি বৃষ্টির শব্দে উড়ে গেল সেই পাখি - এই বুঝি এক প্রাণ ঝরে পড়ল আমার জরায়ুডাঙায়। বন বন ঢুঁঢন যাঁউ ১ প্রথম মিলনের পর তুমি জানিয়েছিলে - তোমার বাড়ি থেকে পনের মিনিট দূরের সেই বন্দরটি এখন মাফিয়ারা ব্যবহার করে। শেষরাতের সেই পবিত্রতায় আমরা সমুদ্রের কাছাকাছি যাচ্ছিলাম - আমরা যাচ্ছিলাম একটি ডিঙিনৌকা চুরি করে উষালগ্নে আবার সঙ্গম করার আকাঙ্ক্ষায়। তোমার নাও মনে থাকতে পারে - কীভাবে তুমুল শীৎকার ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল লাজুক পাখিদের - রমণ করতে করতে আমি দেখছিলাম তাদের খাদ্যের সন্ধান, সূর্যোদয়ের দিকে ডানা মেলাগুলো।
- শ্রাবণঋতু + দেশভাগের ভাঙা আয়না | Manikarnika.Pub
গল্পের দুনিয়া শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজা সরকারের দুটি বই একসঙ্গে কিনুন। ২৫% ছাড়। শিপিং শুধুমাত্র ৩৯ টাকা Buy Now Who Are We শ্রাবণঋতু পার হয়ে যাও ফেরিওয়ালা । শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষ রূপে একটি আয়ুষ্কাল পার হয়ে যাওয়া বড়ো কঠিন। কেন না সে সততই আত্মপরিচয়বোধহীন। বিবশ। পাখি বা পতঙ্গ কিংবা গাছের পাতা রূপে কেমন, তা আমাদের কাছে অজ্ঞাত। হতে পারে প্রকৃতি তাদের প্রতি খানিক বিশেষ মায়াময়। জানি না কেউ। বরং টের পাই একক মনুষ্যজীবনের কাঠিন্যই ছড়িয়ে যায় সমাজে, শক্ত ও বন্ধুর করে তোলে সর্বাঙ্গীণ চারণের পথ। জেগে ওঠে অস্তিত্বের প্রতি গাঢ় সংশয়, অর্থহীন শূন্যতার এক আগ্রাসী বোধ রুষ্ট চোখে চরিতার্থতার পথরোধ করে। বিভিন্ন জীবনের সেই শ্রমময় যাত্রাটির কথা ধরা রইল এ-সংকলনের দশটি গল্পে। তবে শুধু কষ্টের কথা আছে এমন নয়; জীবনের কঠিন বর্মের গায়ে ইতিউতি গাঁথা রয়েছে যেসব কোমলতা, ভালো করে দেখলে বোঝা যাবে তারাও কম কিছু নয়, হয়তো বা অজস্রই, তবে যন্ত্রণাভস্মের আড়ালে তারা চিরসঙ্গোপন। আশ্চর্য দরদের সেই ধারাই এ-কাহিনিগুচ্ছের সোঁতা, কথক বুঝি টের পেয়েছেন সেই স্রোতপথ ধরে বয়ে চলেছে জীবন, শ্রমক্লীষ্ট মনুষ্যজীবন, সে চলেছে এক মহানিঃশ্রেয়সের উদ্দেশ্যে। দেশভাগের ভাঙা আয়না ও শচীন চক্কোত্তি । রাজা সরকার রাজা সরকারের লেখায় নানাভাবে জেগে থাকে দেশভাগ; কখনও চরিত্রে, কখনও ঘটনায়, কখনও বা সুদীর্ঘ বেদনার প্রবাহে। এই সংকলনের বেশিরভাগ গল্পকেই কোনো না কোনোভাবে ছুঁয়ে আছে সেই বিষণ্ণ কাঁটাতার। তাকে বারবার লঙ্ঘন করতে চেয়েও না পারা, ভুলতে চেয়েও ব্যর্থ হওয়া যন্ত্রণার আকাশের নীচে বড়ো হয় মানুষ। বুড়ো হয় দেশ। দুটি দেশ। Buy Now
- Terms & Conditions | Manikarnika.Pub
Terms and Conditions Welcome to manikarnikaprakashani.com! These terms and conditions outline the rules and regulations for the use of Magic Seeds Books LLP's Website, located at https://www.manikarnikaprakashani.com . By accessing this website we assume you accept these terms and conditions. Do not continue to use manikarnikaprakashani.com if you do not agree to take all of the terms and conditions stated on this page. The following terminology applies to these Terms and Conditions, Privacy Statement and Disclaimer Notice and all Agreements: "Client", "You" and "Your" refers to you, the person log on this website and compliant to the Company’s terms and conditions. "The Company", "Ourselves", "We", "Our" and "Us", refers to our Company. "Party", "Parties", or "Us", refers to both the Client and ourselves. All terms refer to the offer, acceptance and consideration of payment necessary to undertake the process of our assistance to the Client in the most appropriate manner for the express purpose of meeting the Client’s needs in respect of provision of the Company’s stated services, in accordance with and subject to, prevailing law of Netherlands. Any use of the above terminology or other words in the singular, plural, capitalization and/or he/she or they, are taken as interchangeable and therefore as referring to same. Cookies We employ the use of cookies. By accessing manikarnikaprakashani.com, you agreed to use cookies in agreement with the Magic Seeds Books LLP's Privacy Policy. Most interactive websites use cookies to let us retrieve the user’s details for each visit. Cookies are used by our website to enable the functionality of certain areas to make it easier for people visiting our website. Some of our affiliate/advertising partners may also use cookies. License Unless otherwise stated, Magic Seeds Books LLP and/or its licensors own the intellectual property rights for all material on manikarnikaprakashani.com. All intellectual property rights are reserved. You may access this from manikarnikaprakashani.com for your own personal use subjected to restrictions set in these terms and conditions. You must not: Republish material from manikarnikaprakashani.com Sell, rent or sub-license material from manikarnikaprakashani.com Reproduce, duplicate or copy material from manikarnikaprakashani.com Redistribute content from manikarnikaprakashani.com This Agreement shall begin on the date hereof. Our Terms and Conditions were created with the help of the Free Terms and Conditions Generator . Parts of this website offer an opportunity for users to post and exchange opinions and information in certain areas of the website. Magic Seeds Books LLP does not filter, edit, publish or review Comments prior to their presence on the website. Comments do not reflect the views and opinions of Magic Seeds Books LLP,its agents and/or affiliates. Comments reflect the views and opinions of the person who post their views and opinions. To the extent permitted by applicable laws, Magic Seeds Books LLP shall not be liable for the Comments or for any liability, damages or expenses caused and/or suffered as a result of any use of and/or posting of and/or appearance of the Comments on this website. Magic Seeds Books LLP reserves the right to monitor all Comments and to remove any Comments which can be considered inappropriate, offensive or causes breach of these Terms and Conditions. You warrant and represent that: You are entitled to post the Comments on our website and have all necessary licenses and consents to do so; The Comments do not invade any intellectual property right, including without limitation copyright, patent or trademark of any third party; The Comments do not contain any defamatory, libelous, offensive, indecent or otherwise unlawful material which is an invasion of privacy The Comments will not be used to solicit or promote business or custom or present commercial activities or unlawful activity. You hereby grant Magic Seeds Books LLP a non-exclusive license to use, reproduce, edit and authorize others to use, reproduce and edit any of your Comments in any and all forms, formats or media. Hyperlinking to our Content The following organizations may link to our Website without prior written approval: Government agencies; Search engines; News organizations; Online directory distributors may link to our Website in the same manner as they hyperlink to the Websites of other listed businesses; and System wide Accredited Businesses except soliciting non-profit organizations, charity shopping malls, and charity fundraising groups which may not hyperlink to our Web site. These organizations may link to our home page, to publications or to other Website information so long as the link: (a) is not in any way deceptive; (b) does not falsely imply sponsorship, endorsement or approval of the linking party and its products and/or services; and (c) fits within the context of the linking party’s site. We may consider and approve other link requests from the following types of organizations: commonly-known consumer and/or business information sources; dot.com community sites; associations or other groups representing charities; online directory distributors; internet portals; accounting, law and consulting firms; and educational institutions and trade associations. We will approve link requests from these organizations if we decide that: (a) the link would not make us look unfavorably to ourselves or to our accredited businesses; (b) the organization does not have any negative records with us; (c) the benefit to us from the visibility of the hyperlink compensates the absence of Magic Seeds Books LLP; and (d) the link is in the context of general resource information. These organizations may link to our home page so long as the link: (a) is not in any way deceptive; (b) does not falsely imply sponsorship, endorsement or approval of the linking party and its products or services; and (c) fits within the context of the linking party’s site. If you are one of the organizations listed in paragraph 2 above and are interested in linking to our website, you must inform us by sending an e-mail to Magic Seeds Books LLP. Please include your name, your organization name, contact information as well as the URL of your site, a list of any URLs from which you intend to link to our Website, and a list of the URLs on our site to which you would like to link. Wait 2-3 weeks for a response. Approved organizations may hyperlink to our Website as follows: By use of our corporate name; or By use of the uniform resource locator being linked to; or By use of any other description of our Website being linked to that makes sense within the context and format of content on the linking party’s site. No use of Magic Seeds Books LLP's logo or other artwork will be allowed for linking absent a trademark license agreement. iFrames Without prior approval and written permission, you may not create frames around our Webpages that alter in any way the visual presentation or appearance of our Website. Content Liability We shall not be hold responsible for any content that appears on your Website. You agree to protect and defend us against all claims that is rising on your Website. No link(s) should appear on any Website that may be interpreted as libelous, obscene or criminal, or which infringes, otherwise violates, or advocates the infringement or other violation of, any third party rights. Your Privacy Please read Privacy Policy Reservation of Rights We reserve the right to request that you remove all links or any particular link to our Website. You approve to immediately remove all links to our Website upon request. We also reserve the right to amen these terms and conditions and it’s linking policy at any time. By continuously linking to our Website, you agree to be bound to and follow these linking terms and conditions. Removal of links from our website If you find any link on our Website that is offensive for any reason, you are free to contact and inform us any moment. We will consider requests to remove links but we are not obligated to or so or to respond to you directly. We do not ensure that the information on this website is correct, we do not warrant its completeness or accuracy; nor do we promise to ensure that the website remains available or that the material on the website is kept up to date. Disclaimer To the maximum extent permitted by applicable law, we exclude all representations, warranties and conditions relating to our website and the use of this website. Nothing in this disclaimer will: limit or exclude our or your liability for death or personal injury; limit or exclude our or your liability for fraud or fraudulent misrepresentation; limit any of our or your liabilities in any way that is not permitted under applicable law; or exclude any of our or your liabilities that may not be excluded under applicable law. The limitations and prohibitions of liability set in this Section and elsewhere in this disclaimer: (a) are subject to the preceding paragraph; and (b) govern all liabilities arising under the disclaimer, including liabilities arising in contract, in tort and for breach of statutory duty. As long as the website and the information and services on the website are provided free of charge, we will not be liable for any loss or damage of any nature. font favored by designers. It's easy on the eyes and a great go-to font for titles, paragraphs & more.
- কবিতা-৫ | Manikarnika.Pub
কবিতা যে কোনো বর্তমানেই প্রকৃত কবিতা লিখিত হয় খুব কম। সেই বিরল কবিতার সযত্ন সন্ধান করছে মণিকর্ণিকা। এক জোড়া মোজার ভিন্নমত ঋচীক আরও পড়ুন... আল-হালাজের লিপি অনুরাধা মহাপাত্র আরও পড়ুন... পথ দেখাবে সূর্যোদয়ের ঘ্রাণ রাজর্ষি মজুমদার আরও পড়ুন... বিভাবকবিতা অর্ণব পণ্ডা আরও পড়ুন... করতালির দেশ শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও পড়ুন... রঙিন নুড়ির রাজা শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও পড়ুন... ধুলোপথ ও বারুদপথ শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও পড়ুন... ডাকঘর তুমি কি পদ্ম পাঠাও? শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও পড়ুন... এ যাবৎ বিদ্যুৎগুচ্ছ অপ্রতিম চক্রবর্তী আরও পড়ুন...
- স্মৃতিকথা-৯ | Manikarnika.Pub
স্মৃতিকথা কাশীধামে স্বামী বিবেকানন্দ মহেন্দ্রনাথ দত্ত “৺কাশীধামে শ্রীমৎস্বামী বিবেকানন্দ” পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। বাঙলার বাহিরে বাঙ্গালীর যে কয়টি শ্রেষ্ঠ কীর্ত্তি আছে তাহার মধ্যে ৺কাশীধামে রামকৃষ্ণ অদ্বৈত আশ্রম ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম বাঙলার গৌরব বৃদ্ধি করিয়াছে, শুধু গৌরব বৃদ্ধি নয়, বর্ত্তমান ভারতের সেবা-ধর্ম্মের প্রত্যক্ষ শ্রেষ্ঠ শিক্ষাস্থল। আরও পড়ুন...



