পথ দেখাবে সূর্যোদয়ের ঘ্রাণ | রাজর্ষি মজুমদার

Front cover  final.jpg

বিষয় : কবিতা

প্রচ্ছদ : সমাদৃতা ঘোষ

নামাঙ্কন : সায়ন্তন সেন

মূল্য : ₹ ১৫০

মণিকর্ণিকা প্রকাশনী

যোগাযোগ (কল ও হোয়াটসএ্যাপ) : 8240333741

Amazon Button PNG.png
Our Store Button PNG.png
আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটির পাঁচটি কবিতা এখানে দেওয়া হল।

এক পুবদেশীয় আখ্যান

১২

মলুক্কা থেকে কার্পেন্টারিয়ার সাগর শাখার পথে আমি শিখে গেছি তারাদের দেখে দিকনির্ণয় - বাতাসকে যাত্রার অনুকূলে কাজে লাগানোর নানান কৌশল। একথা হয়তো সত্য - কম্পাস ও প্রকৃত নৌকার অভাবে পলিনেশিয়ানরা সমুদ্র পেরিয়ে গেছিল গাছের গুঁড়ির সম্বলে। এখন এ বড়ো ব্যস্ত পথ - জাহাজের পরিচিত ভোঁ - নোনা মাছ এসে দাঁড়ের শ্যাওলা খেয়ে যায়।

 

পুরোনো চিঠিগুলি পড়তে ইচ্ছে জাগে, দেখি রহস্যে ভরা বাক্যের আপাত-জটিল গঠন। বলেছিলে রাজাদের দিঘি, তোমাদের গ্রামের সব আশ্চর্য রূপকথা - যেখানে জলের নীচের মন্দিরে কেউ রেখে যায় মাছের রক্তে জমানো প্রবাল। আর আমাদের মানত করা ছিল দেবীর থানে, সংক্রান্তির মেলায় তাঁকে কিনে দেবার কথা ছিল কয়েকটি লাল চুড়ি।

১৫

 

টাঙ্গারোয়া, তুমি এ সমুদ্র শাসন কর - তোমার অধীন এই জলজ আকাশ, তরঙ্গরাশি, ও সমুদ্রজগৎ। বৃষ্টিও এখানে তোমার আদেশে ঝরে - মাছ পায় কূলের মানুষ - শিকারীর জালে উঠে আসে গোটা এক দেশ। তুমি তাকে প্রাণ দাও, ভাসিয়ে রাখো বৃহৎ ভেলার মতো।

 

দ্রুতলয়ে ইমন বাজে, ঝালার কাছাকাছি - প্রেতটি সুরের থেকে সরে হঠাৎ বাজনা থামিয়ে দেয়। সে জানে - সুরগুলির স্মৃতি আমার শরীরে কিছু রয়ে গেছে - রয়ে গেছে সন্ধ্যার টান, তারের স্পন্দন। যার মূর্ছনায় আমাদের কয়েকটি জীবন পার হয়ে যাবে।

১৬

 

যদিও কুয়াশাময় এ-দিগন্তরেখা, আংশিক মেঘাচ্ছন্ন ছিল ভোরের আকাশ - খাদের কিনারে চরছিল দুটি লাল ঘোড়া। ওদের চলায় এখনও কেঁপে উঠছে মাটি, ঘাস থেকে ঝরে পড়ছে পিঁপড়ে।

 

প্রকৃতি ও আমাদের লিঙ্গরাজনীতির নানান জটিল খেলায় - সূর্য হয়ে গেছেন আদিত্য - মায়াবী পুরুষ। কত শত সাগর, নানান বিপর্যয় পেরিয়ে, ওপোটিকি দ্বীপের ধারে তাঁর অপেক্ষায় আমরা বসে আছি। অপেক্ষায় চরাচর - অনাদি অনন্ত - যিনি প্রাণসঞ্চার - পঞ্চভূতের এক - সাবিত্রীমন্ডলে অধিষ্ঠান - সেই জ্যোতির্ময় পূবের দেওয়ালে ফুটে উঠছেন এবার - চারিদিকে রক্ত লেপে গেছে। চারিদিকে পাখালির কুজন - রোদের ঘ্রাণ - ঘোড়ারা আনন্দে জেগে ওঠে।

 

এবার আমার নিজের শরীরে ফিরে যেতে ইচ্ছে করবে খুব - তিন টান মেরে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করবে সিগারেট - চায়ের নেশায় ফিরব ঘুঁটের আঁচের ধোঁয়া ছড়ানো বাড়িতে যখন সকাল হবে।

 

মঙ নদী, গড়অনন্তপুর

 

 

পশ্চিমের বাগানে কখনও পোকা খেতে আসে ঝিঝিম পাখি। রংদিদির মুখে শুনেছি তার কথা - সে উড়ে গেলে নাকি বৃষ্টির শব্দে ছেয়ে যায় আশপাশ, বাড়ির কোনো কুমারী মেয়ে অকারণে পোয়াতি হয়ে ওঠে।

 

অরণ্যপ্রাণেদের মতো আমাদেরও নিঃসঙ্গ বিচরণ - কয়েকটি রিপুর তাড়না জ্যান্ত করে রাখে।

কেবল বাগানে গেলে, শান্ত হয়ে আসে সমস্ত স্নায়ু। মনে হয়এই বুঝি বৃষ্টির শব্দে উড়ে গেল সেই পাখি -

এই বুঝি এক প্রাণ ঝরে পড়ল আমার জরায়ুডাঙায়।

 

বন বন ঢুঁঢন যাঁউ

 

 

প্রথম মিলনের পর তুমি জানিয়েছিলে - তোমার বাড়ি থেকে পনের মিনিট দূরের সেই বন্দরটি এখন মাফিয়ারা ব্যবহার করে।

 

শেষরাতের সেই পবিত্রতায় আমরা সমুদ্রের কাছাকাছি যাচ্ছিলাম -

আমরা যাচ্ছিলাম একটি ডিঙিনৌকা চুরি করে উষালগ্নে আবার সঙ্গম করার আকাঙ্ক্ষায়।

 

তোমার নাও মনে থাকতে পারে - কীভাবে তুমুল শীৎকার ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল লাজুক পাখিদের - রমণ করতে করতে আমি দেখছিলাম তাদের খাদ্যের সন্ধান, সূর্যোদয়ের দিকে ডানা মেলাগুলো।