সুর্যাস্তে পাতা খেলনাবাটি । সবিতা বিশ্বাস

(নন-ফিকশন)

নির্ভার সরস গল্প বলেছেন সবিতা বিশ্বাস। কোনো কোনো লেখাকে বলাই চলে রম্যরচনা; হয়তো দুরকম চরিত্রের মিশেলে এই লেখাগুলিকে সার্বিক নাম দেওয়া চলে ‘রম্যগল্প’। এই গল্পসম্ভারে রইল জীবন থেকে তুলে নেওয়া একগুচ্ছ মজাদার ঘটনা, কথকতার ভঙ্গীমায় বলা ভারতের সনাতন কিছু কাহিনি, সঙ্গে জায়গায় জায়গায় লেখিকার নিজস্ব ব্যাখ্যান, একটি আত্মজৈবনিক লেখা ‘প্রাচীন গহনার গন্ধ’। নানারসের লেখা একত্র করা এই সযত্ন সংকলন কখনও উচ্ছ্বল, কখনও স্মৃতিকাতর, কখনও বা জ্ঞানগম্ভীর, কখনও আবার বিষণ্ণ⎯ ঠিক যেন জীবন!

Suryaste F image only JPEG.jpg

লেখা হয়ে ওঠা এক আচম্বিতের প্রসাদ। কবেকার কোন স্মৃতি, কোন সুখদুঃখের রেখে যাওয়া একরত্তি পরাগ থেকে ফুটে ওঠে ফুল, কে বলতে পারে? সেই ফুলকে, বা পরস্পর ফুটে ওঠা ফুলগুচ্ছকে, সযত্নে সাজিয়ে রাখাই তখন কাজ। ঠাকুমাকে গল্প বলতে হয় নাছোড় নাতনিকে, সেসব গল্প জমতে থাকে। তারা একে একে জমে আর কীভাবে যেন জুড়ে যায় আবহমান গাথার প্রবাহে। ছোট্ট নাতনি পুপে গল্পচ্ছলে জেনে ফেলে গৌতম বুদ্ধ, শকুন্তলা, চাণক্যের কথা। কাহিনি-সিন্দুক ভরে ওঠে, ভারী হয়। আর আছেন তপুদি। মজা-ঠাট্টা-খুনসুটি-ঝামেলায় টইটম্বুর তাঁর জীবন। তাঁর কথা একটু না বললে কি চলে? এইভাবে বাড়তে থাকে অধ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে, কাহিনির দুই পঙ্‌ক্তির ফাঁকে ফাঁকে নিজের জীবনের দিকে নতুন করে চোখ মেলে দেখা – ধুলো সরিয়ে জেগে ওঠে কতসব আশ্চর্য রত্ন, জীবন-জীবিকার টানাপোড়েনে সেভাবে দেখা হয়নি যাদের। যেমন চালচিত্রের মতো জেগে ওঠেন ঠাকুমার ঠাকুমা, সঙ্গে তাঁর দুই সই। কত পুরোনো দিনের সব ঘটনা – যেন রূপকথা – আজ আঁচলবাতাসের মতো আলেকালে বয়ে আসে তপ্তদিনে, সন্তপ্ত কাতর মুখ মুছিয়ে দিয়ে যায়। দিদিমণির দায়িত্ব থেকে অবসর পেয়ে এমনই কাহিনিসম্ভার সাজিয়ে তুলেছেন সবিতা বিশ্বাস। সরস ভঙ্গিমায় গল্প বলেছেন তিনি, মোট সাতটি অধ্যায়ে সাজানো রইল তাঁর আসর। পড়তে পড়তে দিদিমণির গপ্পো-বলা-স্বরটি সত্যি করে ভেসে আসবে পাঠকদের কাছে, এই আমাদের বিশ্বাস। প্রকাশক