Book Review Section

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া 

বইঃ নমো তস্স

লেখকঃ কৌশিক সরকার

প্রকাশকঃ মণিকর্ণিকা

#বইতরণী

রাজকুমার সিদ্ধার্থ আশেপাশের মানুষজনকে জাগতিক দুঃখ কষ্টে কাতর দেখে স্ত্রী, পুত্র, পরিজন, রাজত্ব সব ছেড়ে গৃহত্যাগী হয়েছিলেন মুক্তির উপায় সন্ধানে। এই কাহিনী আমরা মোটামুটি সবাই জানি। কিন্তু তার পরে কি হলো?

বেশ কিছু বছর নানা জনের কাছে শিষ্যত্ব নিয়ে, কঠোর কৃচ্ছসাধন করেও তিনি যে পরম সত্য উপলব্ধি করতে পারেননি, অবশেষে শ্রেষ্ঠী-কন্যা সুজাতার প্রশ্নে তার মধ্যে সেই চেতনা জাগ্রত হলো। পরম জ্ঞান লাভ করে তথাগত পরিণত হলেন ভগবান বুদ্ধে।

কৌশিক সরকারের লেখা "নমো তস্স" রাজকুমার সিদ্ধার্থের কাহিনী নয়, পুরোপুরিই ভগবান বুদ্ধের কাহিনী। বোধি বা জ্ঞান লাভের পর থেকে "মহাপরিনির্বাণ" প্রাপ্তি পর্যন্ত বুদ্ধের জীবনের নানা জানা অজানা দিক তুলে ধরেছেন লেখক এই উপন্যাসে। বুদ্ধের জীবন নিয়ে চলে আসা নানা অলৌকিক কাহিনীগুলির বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা খুঁজেছেন। আর পাতায় পাতায় বুদ্ধের শিক্ষা গুলিকে সাধারণ পাঠকের বোধগম্য হওয়ার মত করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। উপন্যাসটি কয়েকটি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রতিটি অধ্যায়ের সুচিন্তিত নামকরণ বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর ইঙ্গিতবাহী। লেখার ভাষা খুব সুন্দর। বুদ্ধের জীবনের নানা বিচিত্র ঘটনাবলী পাঠককে বুদ্ধের শিক্ষা এবং ধ্যানধারণাকে অনেক কাছ থেকে জানতে ও বুঝতে সাহায্য করে। মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। কোনো ধর্মসংক্রান্ত গ্রন্থ হিসেবে নয়, বুদ্ধের জীবনাশ্রিত এই উপন্যাসটিকে উপন্যাস হিসেবে পড়লেই এর থেকে মানবতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করা সম্ভব বলেই আমার মনে হয়।

এত গেলো বইয়ের বিষয়ের কথা। বহিরঙ্গের দিক থেকেও বইটি অসম্ভব সুন্দর। এত ভালো পাতার মান আর বাঁধাই খুব কম বইয়ের থাকে। বিশেষ করে এই দামে। বইয়ের ভেতরের অলঙ্করণে এত যত্নের ছাপ রয়েছে যে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। ঋভু চৌধুরীর আঁকা প্রচ্ছদ মনে অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। প্রকাশককে অসংখ্য ধন্যবাদ দেবো এমন দৃষ্টিনন্দন একটি বই পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।

                                      - সৈরভ বক্সি                                                                      পাঠক

'ইতিহাস আড্ডা' পোর্টালে আমাদের প্রকাশিত 'নমো তস্স' বইয়ের একটি #পাঠ_প্রতিক্রিয়া!

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া 

বইঃ শ্রাবণঋতু পার হয়ে যাও, ফেরিওয়ালা

লেখকঃ শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রকাশকঃ মণিকর্ণিকা

এ বড় মায়াময় জগৎ। বোধহয় এই মায়াস্পর্শের জন্যই বারবার হাতে তুলে নেওয়া যায় শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে কোন বই। আমাদের রোজকার জীবনের শত ক্লেদ কাঠিন্যের মধ্যে এমন পাপস্পর্শহীন জগতের সন্ধান আর একবার পাই শাশ্বতর সদ্যপ্রকাশিত বই 'শ্রাবণঋতু পার হয়ে যাও ফেরিওয়ালা'তে। দশটি ছোট গল্পর একটি ছোট্ট সংকলন। অবিশ্যি এমন গদ্যকে 'ছোটগল্প' শব্দবন্ধের মধ্যে বেঁধে ফেলে বুঝি অপরাধ করলাম। এখানে মাটির পুতুলের কারিগর ঘর ছাড়ে তার হারিয়ে যাওয়া দুঃখের সন্ধানে। সেই দুঃখ ছোট্ট পোকার বেশে ছোট্ট মেয়ে সাজির কানের লতির সাথে জড়িয়ে অপেক্ষায় থাকে কারিগরের। তারপর সে কারিগর আর সাজির চারপাশ ঘিরে তাদের বেঁধে ফেলে একই দুঃখ-বন্ধনে, কারিগর তার কারিগরি বিদ্যা দান করে যাওয়ার জন্য পায় নতুন শিল্পীকে।

এ তো একখানি গল্প। আবার অন্য এক গল্পে একটি গাছের ধীরে ধীরে রক্তমাংস পেয়ে মানুষ হয়ে ওঠার কথা--সেই সাথে সেই গাছের সবচেয়ে কাছের যে বন্ধু, সেই ছোট্ট ছেলেটির ধীরে ধীরে একটি গাছ হয়ে ওঠার আশ্চর্য স্বপ্নকথা মায়াঞ্জন ছুঁইয়ে দেবে পাঠকের হৃদয়ে।

শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমের এই মায়াবিশ্বের স্বপ্নস্পর্শ পেতে, একটি গদ্য কীভাবে কাব্যিক হয়ে ওঠে সে কথা জানতে এই বইটির সাথে পরিচিত হওয়া খুব দরকার। বর্তমানের থ্রিলার আর বেস্টসেলার-এর দলের মাঝে এমন স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সনাতন সাহিত্যচর্চার প্রতি এই যে নিবেদন তা বড়ই প্রয়োজনীয়।

                                

                                    - সৈকত ভট্টাচার্য

                                               ডাটা সায়েন্টিস্ট, লেখক