বুদ্ধদেব । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রিবুক করুন
২৫% ছাড়!

ক্রমশ অস্থির হয়ে ওঠা জীবনে মানুষ খুঁজছে গভীর ও অর্থপূর্ণ এক আশ্রয়, এক শান্তির নিরাভরণ উৎস। হয়তো সেকারণেই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছিয়ে পৃথিবী জুড়ে নতুন করে জেগে উঠছে বুদ্ধদেব চর্চা। মনস্তত্ত্ববিদরাও সাহায্য নিচ্ছেন বৌদ্ধকথার। এভাবে উপভোক্তা মানুষ জর্জর মানব কোনোক্রমে পেতে চাইছে অনাসক্তির আভাস। 

এই প্রবাহেই মণিকর্ণিকা প্রকাশনী মিশিয়ে দিতে চাইছে তাদের যথাসাধ্য শ্রম। তাই নতুন করে সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ❛বুদ্ধদেব❜ গ্রন্থ, গড়ে তোলা হয়েছে নিরিবিলি এক প্রচ্ছদ। এ বইয়ের প্রকাশ আসন্ন।

পরিমিত অলঙ্করণে তার সজ্জাকে আমরা করতে চেয়েছি আরও আপন, আরও স্নিগ্ন।

আশা করি অচিরেই এই বই হয়ে উঠবে আপনার নিভৃত সঙ্গী।

মুদ্রিত মূল্য : ₹ ২৫০ 

প্রিবুক মূল্য : ₹ ১৮৮

শিপিং : ₹ ৫৯

প্রচ্ছদ : ঋভু চৌধুরী, শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

মণিকর্ণিকা প্রকাশনী

Call & WhatsApp : 8240333741

❛ ভারতবর্ষে বুদ্ধদেব মানবকে বড়ো করিয়াছিলেন। তিনি জাতি মানেন নাই, যাগযজ্ঞের অবলম্বন হইতে মানুষকে মুক্তি দিয়াছিলেন, দেবতাকে মানুষের লক্ষ হইতে অপসৃত করিয়াছিলেন। তিনি মানুষের আত্মশক্তি প্রচার করিয়াছিলেন। দয়া এবং কল্যাণ তিনি স্বর্গ হইতে প্রার্থনা করেন নাই, মানুষের অন্তর হইতে তাহা তিনি আহ্বান করিয়াছিলেন।

     এমনি করিয়া শ্রদ্ধার দ্বারা, ভক্তির দ্বারা, মানুষের অন্তরের জ্ঞান শক্তি ও উদ্যমকে তিনি মহীয়ান করিয়া তুলিলেন। মানুষ যে দীন দৈবাধীন হীন পদার্থ নহে, তাহা তিনি ঘোষণা করিলেন।

     এমন সময় হিন্দুর চিত্ত জাগ্রত হইয়া কহিল, ‘সে কথা যথার্থ— মানুষ দীন নহে, হীন নহে, কারণ মানুষের যে শক্তি— যে শক্তি মানুষের মুখে ভাষা দিয়াছে, মনে ধী দিয়াছে, বাহুতে নৈপুণ্য দিয়াছে, যাহা সমাজকে গঠিত করিতেছে, সংসারকে চালনা করিতেছে, তাহাই দৈবী শক্তি।’

     বুদ্ধদেব যে অভ্রভেদী মন্দির রচনা করিলেন, নবপ্রবুদ্ধ হিন্দু তাহারই মধ্যে তাঁহার দেবতাকে লাভ করিলেন। বৌদ্ধধর্ম হিন্দুধর্মের অন্তর্গত হইয়া গেল। মানবের মধ্যে দেবতার প্রকাশ, সংসারের মধ্যে দেবতার প্রতিষ্ঠা, আমাদের প্রতিমুহূর্তের সুখদুঃখের মধ্যে দেবতার সঞ্চার, ইহাই নবহিন্দুধর্মের মর্মকথা হইয়া উঠিল। শাক্তের শক্তি, বৈষ্ণবের প্রেম ঘরের মধ্যে ছড়াইয়া পড়িল— মানুষের ক্ষুদ্র কাজে কর্মে শক্তির প্রত্যক্ষ হাত, মানুষের স্নেহপ্রীতির সম্বন্ধের মধ্যে দিব্যপ্রেমের প্রত্যক্ষলীলা, অত্যন্ত নিকটবর্তী হইয়া দেখা দিল। এই দেবতার আবির্ভাবে ছোটোবড়োর ভেদ ঘুচিবার চেষ্টা করিতে লাগিল। সমাজে যাহারা ঘৃণিত ছিল তাহারাও দৈবশক্তির অধিকারী বলিয়া অভিমান করিল; প্রাকৃত পুরাণগুলিতে তাহার ইতিহাস রহিয়াছে।